‘শীঘ্রই বাংলায় আসব! ৩ থেকে ৭৭ হয়েছি, ৭৭ থেকে ২০০ পার করব’, দাবি জেপি নাড্ডা-র

‘শীঘ্রই বাংলায় আসব! ৩ থেকে ৭৭ হয়েছি, ৭৭ থেকে ২০০ পার করব’, দাবি জেপি নাড্ডা-র
‘শীঘ্রই বাংলায় আসব! ৩ থেকে ৭৭ হয়েছি, ৭৭ থেকে ২০০ পার করব’, দাবি জেপি নাড্ডা-র

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলায় একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ২০০-র বেশি আসনে জিতবেন, এমনটাই দাবি করেছিলেন অমিত শাহ, জেপি নাড্ডারা। সেই দাবি বাস্তবায়িত না হলেও, এখনই হাল ছাড়তে রাজি নয়, বিজেপি। এখনও বাংলার ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখা ছাড়েনি বিজেপি।

এদিকে বাংলায় ক্ষমতা দখল করতে না পারলেও, রাজ্য বিজেপির কর্মসমিতির বৈঠকে এদিন হাজির হয়ে নিরাশ নেতা-কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি তাঁর বার্তা, ‘ভবিষ্যৎ আমাদের। কেউ আটকাতে পারবে না, ৩ থেকে ৭৭ হয়েছি, ৭৭ থেকে ২০০ পার করব।’

বাংলায় একুশের নির্বাচনে কার্যত ভরাডুবির পর এদিন, কর্মীদের আত্মবিশ্বাস এবং মনোবল বাড়াতে ‘পেপ টক’ দেন জেপি নাড্ডা। তিনি বলেন, ‘বাংলায় বিজেপি অনেকটা পথ পেরিয়েছে। স্মরণ করুন ২০১৪ সালে ২ টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। সাংসদ হয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয় এবং আলুওয়ালিয়া। ১৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলাম। ২০১৬ সালে মাত্র ৩ টি আসন পেয়েছিলাম। ভোটের হার ছিল ১.১৬ শতাংশ। ২০১৯ সালে ৪০.৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছিলাম। জিতেছি ৪২টির মধ্যে ১৮ আসন। প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ ভোট পেয়েছিল বিজেপি। বিধানসভায় ভোটের হার ৩৮.১ শতাংশ এবং প্রায় ২ কোটি ২৭ লক্ষ ভোট। ৩ থেকে ৭৭-এ পৌঁছে গিয়েছে বিজেপি। এটা বড় প্রাপ্তি।’

তিনি এদিন কর্মসমিতির বৈঠকে আরও দাবি করেন, ‘বাংলায় তৃণমূলের বিপক্ষে এখন শুধুই বিজেপি। তিন দশক শাসন চালিয়ে সিপিএম শেষ। আড়াই দশক রাজত্ব চালিয়ে কংগ্রেস আর নেই। এত স্বল্প সময়ে লড়াই করে এখানে এসেছি। আমার পূর্ণ বিশ্বাস, আগামী ৫ বছরে বিজেপি আরও বড় লক্ষ্যে ঝাঁপাবে। পরের বার ক্ষমতায় আসব। লক্ষ্য পূরণ করব।’

অন্যদিকে, এদিন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হন। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ভোটে জিতে হিংসার রাজনীতি করছে তৃণমূল। পরিকল্পিতভাবে রাজ্যে সন্ত্রাস চলছে। অথচ পুলিশ-প্রশাসন চুপ করে বসে আছে।’ তিনি হুঁশিয়ারির সুরে বলেছেন, গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই করবে বিজেপি। দমনের মানসিকতাকে গণতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হবে।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বলেন, ‘বিজয় পালনের আগেই ধ্বংসাত্মক রাজনীতি শুরু করেছে তৃণমূল। কেরল, পুডুচেরি, তামিলনাড়ুতেও ভোট হয়েছে। নির্বাচনের পর কোথাও হিংসা হয়নি! কারণ সেখানে তৃণমূল নেই। আমাদের ১ হাজার ২৫৮ জন কর্মীর উপরে হামলা হয়েছে। প্রায় ১,৩৯৯ সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে। ৬৭৬ লুঠের ঘটনা ঘটেছে। ১০৮ পরিবারকে হুমকি দিয়েছে তণমূল। আরামবাগ ও বিষ্ণুপুরে বিজেপি কার্যালয় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অত্যাচারিত হয়েছেন মহিলারা। মহিলারাই যেখানে সুরক্ষিত নন, সেখানে কী ধরনের রাজত্ব চলছে! গণতান্ত্রিকভাবে সমূলে এই ধরনের চিন্তাভাবনা উপড়ে ফেলব। লড়াই ছাড়ব না। কর্মীদের আবেদন করব, দীর্ঘ পথ। লড়াই করতে হবে।’

আবার জাল টিকাকরণ কাণ্ড নিয়েও এদিন তিনি মুখ খোলেন। তাঁর কথায়, তৃণমূল-মমতা ও দুর্নীতি পরস্পর সমার্থক হয়ে গিয়েছে। ভুয়ো টিকাকাণ্ড নিয়ে নাড্ডা কটাক্ষ করে বলেন, ‘তৃণমূল সাংসদ মিমিকেই ভুয়ো ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। বাবুলের গাছ লাগালে কি আম পাওয়া যাবে! ভারতে ভুয়ো টিকাকরণ সম্ভব শুধু মমতার রাজ্যে। ’

ভাষণের শুরুর মতোই শেষেও ২০২৬-এ জেতার আশা দেখিয়েছেন নাড্ডা। তাঁর কথায়, ‘২০১৪ সাল থেকে তীব্র গতিতে এগিয়েছে বিজেপি। ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে জিতব, বাংলায় শীঘ্রই আসব। আপনাদের ওখানে লকডাউন ও কোয়ারিন্টিন চলছে। কতদিন চলবে মমতাদি! আমি আসব।’