কেউ রাগে দল ছাড়ছেন, কেউ রেললাইনে শুয়ে দিচ্ছেন আত্মহত্যার হুমকি! বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে অশান্তি চরমে!

কেউ রাগে দল ছাড়ছেন, কেউ রেললাইনে শুয়ে দিচ্ছেন আত্মহত্যার হুমকি! বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে অশান্তি চরমে!
কেউ রাগে দল ছাড়ছেন, কেউ রেললাইনে শুয়ে দিচ্ছেন আত্মহত্যার হুমকি! বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে অশান্তি চরমে!

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজনীতিতে ক্ষমতাই শেষ কথা! এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সেই ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি তাঁদের প্রস্তুতিতে কোন ফাঁক রাখতে রাজি নয়। এঁকে অপরের খামতি খুঁজে বার করতে ব্যস্ত। একটু সুযোগ পেলেই, অন্যের দুর্বলতাকে নিজেদের হাতিয়ার করে নিচ্ছে।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই একটা বড় ইস্যু এই মুহূর্তে। যে সমস্যা আগেই দেখা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। এবার বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা নিয়ে ক্ষোভ রাজ্য বিজেপির অন্দরেও। অথচ এই প্রার্থী তালিকাকে কেন্দ্র করে যখন তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে অশান্তি তীব্র হয়ে উঠেছিল, দলে দলে বিক্ষুব্ধ নেতা-নেত্রীরা দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এ বিষয়ে কথায় কথায় কটাক্ষ করছিল তৃণমূল কংগ্রেসকে। এবার সেটাই বুমেরাং হয়ে গেল তাঁদের জন্য।

আসন্ন নির্বাচনের তৃতীয় এবং চতুর্থ দফার প্রার্থী তালিকাকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত অশান্তি শুরু হয়েছে জেলায় জেলায়। কলকাতা থেকে শুরু করে জেলায় বিক্ষোভ বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। কাল ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় বিজেপির হেস্টিংস পার্টি অফিসের সামনে। আজ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা। তৃতীয় এবং চতুর্থ দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই দিকে দিকে বিক্ষোভের ঝড় উঠেছে! কোথাও পার্টি অফিসে ঝোলানো হল তালা, কোথাও তৃণমূল থেকে আসা নেতাকে দল প্রার্থী করায় প্রতিবাদে পোস্টার দিলেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা।

পরিস্থিতি এমন যে, কলকাতা থেকে হাওড়া, হুগলি থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জুড়ে এই বিক্ষোভ সামাল দিতে রীতিমতো নাজেহাল রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। সোমবার হেস্টিংসে দলীয় কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়লেন খোদ বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা শিবপ্রকাশ, ভাঙা হল ব্যারিকেড, বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের কোনওক্রমে ঠেকানোর চেষ্টা করে পুলিশ।

এই বিক্ষোভের কারণে পূর্ব নিরধারিত সূচী বদল করে সোমবারই ফের কলকাতায় ফিরে আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপর শহরের পাঁচটারা হোটেলে, জেপি নাড্ডা এবং দলের রাজ্য নেতৃত্বদের সঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠক করলেন। রবিবার একাধিক জেলাতে প্রার্থী তালিকা নিয়ে অসন্তোষ শুরু হলেও, সোমবার প্রার্থী তালিকা নিয়ে এই বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। এদিন কলকাতার হেস্টিংসে বিজেপির কার্যালয়ে সামনে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান বিক্ষুদ্ধ কর্মী-সমর্থকরা। সূত্রের খবর, উদয়নারায়ণপুর, পাঁচলা, রায়দিঘির বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের দাবিতে সেখানকার বিজেপি কর্মীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান।

এই প্রার্থী অসন্তোষকে কেন্দ্র করেই মূলত বৈঠক হয় বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে অমিত শাহ এবং জেপি নাড্ডার। সূত্রের খবর, এই ঘটনায় চিন্তিত অমিত শাহ, জে পি নাড্ডারা। তাঁরা দলীয় নেতাদের কথা শুনেছেন, পাশাপাশি প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটানোর পরামর্শও দিয়েছেন। এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সমস্যা মেটানোর সময়ও বেঁধে দিয়েছেন শাহ। পাশাপাশি পর্যালোচনা হয়েছে প্রথম দুই দফার আসন নিয়েও।

উল্লেখ্য, কোথাও টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপি নেতারা। কোথাও প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় ক্ষোভ, আবার কোথাও তৃণমূল থেকে আসা বিজেপি প্রার্থীকে টিকিট দেওয়ায় তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। রবিবার প্রার্থীতালিকা দেখেই আলিপুরদুয়ারে বিজেপি জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মার ঘর ঘেরাও করেন দলের সমর্থকরা। অন্যদিকে, ঠিক ভোটের আগে, প্রার্থী না করার কারণে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি, সিঙ্গুর কেন্দ্রে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিঙ্গুরের বিজেপি কর্মীরা।

পাশাপাশি সোমবার চুঁচুড়ায় দলের জেলা পার্টি অফিসেই তালা ঝুলিয়ে দিলেন বিজেপি কর্মীরা। সিঙ্গুরের মতোই হরিপালেও তৃণমূল ছেড়ে আসা নেতাকে প্রার্থী করায় বিক্ষোভ দেখান বিজেপির নেতা-কর্মীরা। একইভাবে তৃণমূল ছেড়ে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রবীর ঘোষালকে উত্তরপাড়ায় প্রার্থী করায়, কোন্নগরের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি প্রার্থীর নামে পোস্টার দেখা যায়। এছাড়াও হুগলির প্রার্থী তালিকা নিয়ে ক্ষোভ থাকায়, প্রতিবাদে ত্রিবেণীতে নিরুপম মুখোপাধ্যায় নামে স্থানীয় এক বিজেপি নেতা রেললাইনে শুয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেন। পড়ে রেল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বাংলায় আসন্ন নির্বাচনের মুখে ভোট-যুদ্ধে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের এহেন আচরণকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন তা ভেবেই পাচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে তাবড় তাবড় রাজনীতিবিদরা। কার যুক্তি কোনও সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই ভোটের লড়াইয়ে নেমে পড়েছে বিজেপি, আবার কারও যুক্তি উপজুক্ত প্রার্থীই খুঁজে পাচ্ছে না বিজেপি। আর বিজেপির নেতারা কি বলছেন জানেন? তাঁদের কার কারও যুক্তি, এসব ক্ষোভ-বিক্ষোভ কিছুই নয়, কতো মানুষ বিজেপিতে আসতে চায়, এটা তারই প্রমাণ। পাশাপাশি এসব মানুষের বিজেপির প্রতি আবেগ, ভালোবাসা।

এও হয়, শুধুমাত্র এই কারণেই কোথাও দলিয় অফিসে তালা ঝুলছে? কেউ আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছে? দল ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে? আর এই জন্যই কি রাতভোর দলের মাথাদের বসে বৈঠক করতে হয়! উত্তর সময়ই দেবে!

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.