অমানবিক! যোগী রাজ্যে পুলিশের সামনেই পেট্রল এবং টায়ার জ্বালিয়ে হচ্ছে মৃতদেহ সৎকার!

অমানবিক! যোগী রাজ্যে পুলিশের সামনেই পেট্রল এবং টায়ার জ্বালিয়ে হচ্ছে মৃতদেহ সৎকার!
অমানবিক! যোগী রাজ্যে পুলিশের সামনেই পেট্রল এবং টায়ার জ্বালিয়ে হচ্ছে মৃতদেহ সৎকার!

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রায়ই খবরের শিরোনামে উঠে আসে বিভিন্ন কারণে যোগী আদিত্যনাথের সরকার এবং উত্তরপ্রদেশ। এদিকে মহারাষ্ট্র, দিল্লির পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশেও করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরেও, হাসপাতালে বেডের অভাব, প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাব, অক্সিজেনের অভাব সেখানকার করোনা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে নদীতে লাশ ভেসে আসা বা নদীর চরে বালিতে সারি দিয়ে মৃতদেহ পুঁতে রাখার ঘটনা। উত্তরপ্রদেশেও পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবিলা নিয়ে দলীয় বিধায়কদের সমালোচনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে। এই মুহূর্তে সবদিক থেকেই চাপে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার।

এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাপ আরও বাড়ল উত্তরপ্রদেশ সরকারের। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, নদীতে ভেসে আসা লাশ পেট্রল ঢেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে সৎকার করা হচ্ছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটাই সম্পন্ন হচ্ছে যোগী প্রশাসনের পুলিশের সামনে, তাঁদের উপস্থিতিতেই।

সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলায় গঙ্গার মালদেপুর ঘাটে এই ঘটনাটি ঘটেছে। দু’দিন আগে সেখানে নদীতে দুটি লাশ ভেসে আসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। এরপর তাঁদের সামনেই ঘাটে পেট্রল দিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে দেহগুলির সৎকার করা হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই, যোগী সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। ইতিমধ্যেই এমন নিয়ম বিরুদ্ধ কাজে বাধা না দেওয়ার জন্য ৫ পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে তদন্ত।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশে নদীতে দেহ ভাসানো নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে যোগী আদিত্যনাথের সরকারকে। এর জেরে তড়িঘড়ি নদিগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন যোগী আদিত্যনাথ। পুলিশ ও রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রীতি মেনে যাতে প্রতিটি মৃতদেহের সৎকার করা হয়, সেই নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তারপরেই এই ঘটনা।

এদিকে একবার ফের যোগী সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে, করোনা প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সীতাপুরের বিজেপি বিধায়ক রাকেশ রাঠোর। তিনি দাবি করেছেন, মুখ খুললে, দেশদ্রোহিতার মামলা করা হতে পারে তাঁর বিরুদ্ধে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপি বিধায়ক রাকেশ রাঠোর।

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও, তাঁর বিধানসভা এলাকায় হাসপাতালে আরও বেশি সংখ্যায় বেড এবং ট্রমাকেয়ার সেন্টার কেন করা হচ্ছে না? এই প্রশ্নের উত্তরে ওই বিধায়ক জানিয়েছেন যে, ‘আমি অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। কিন্তু বিধায়কদের কি ক্ষমতা আছে? যদি আমি বেশি কথা বলি, তাহলে দেশদ্রোহিতার মামলা ঠুকে দেওয়া হতে পারে।’

তবে এটাই প্রথমবার নয়। এর আগেও শাসকদলের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে উঠে আসেন এই বিজেপি বিধায়ক। উল্লেখ্য, গত বছর তাঁর একটি ফোনালাপ ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে তাঁকে করোনা তাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আবেদনে থালা এবং প্রদীপ জ্বালানোকে কটাক্ষ করতে শোনা গিয়েছিল। এরপর আরও একটি ফোনালাপে তিনি উত্তরপ্রদেশে রামরাজ্য ফিরে এসেছে বলে সরকারকে ব্যঙ্গও করেছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন যে, সবদিক থেকে প্রবল চাপ এবং সমালোচনার মুখে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।