সাপের কামড়ে মৃত্যু? মালদহে কলার ভেলায় ভেসে এল অজ্ঞাতপরিচয় তরুণীর দেহ!

সাপের কামড়ে মৃত্যু? মালদহে কলার ভেলায় ভেসে এল অজ্ঞাতপরিচয় তরুণীর দেহ!
সাপের কামড়ে মৃত্যু? মালদহে কলার ভেলায় ভেসে এল অজ্ঞাতপরিচয় তরুণীর দেহ!

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহঃ তরুণীর দেহ কলার ভেলায় চাপিয়ে ভাসিয়ে দেওয়া হল গঙ্গায়! এখনও জানা যায়নি মৃতার পরিচয়। সন্দেহ করা হচ্ছে, ওই তরুণীর সাপের কামড়েই মৃত্যু হয়েছে। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদহের মানিকচকে।

এই ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, ওই তরুণীর পরিচয় কী? মৃত্যুর পর তাঁর দেহ কেনই বা গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়া হল? জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে মালদহের মানিকচকে গঙ্গার ঘাটে কলা গাছের তৈরি একটি ভেলা ভেসে আসে। কাছে যেতেই স্থানীয় বাসিন্দারা দেখেন, ওই ভেলায় রয়েছে এক তরুণীর মৃতদেহ! ঘটনাটি জানাজানি হতেই, এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। সঙ্গে সঙ্গেই থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়েছে।

তবে, প্রাথমিক তদন্তের পর, পুলিশের অনুমান, সম্ভবত সাপের কামড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ওই তরুণী। এরপর অন্ধবিশ্বাসের জেরেই মৃত তরুণীর দেহ কলার ভেলায় চাপিয়ে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এই ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করল যে, যতই সমাজ আধুনিক হোক না কেন, এই সমাজেরই একটা অংশ এখনও কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাসের বেড়াজালে জর্জরিত। আসলে, সাপের কামড়ে মৃতের শরীরে প্রাণ ফিরবে, সেই অন্ধবিশ্বাসে দেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ বহু পুরনো। এই অজ্ঞাতপরিচয় মৃতা তরুণীর পরিবারও বোধহয় সেই অন্ধবিশ্বাসেই আচ্ছন্ন। তাই হয়ত তরুণীর প্রাণ ফেরার আশায় তাঁকে কলার ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রাম কালিদাসপুরে সাপের কামড়ে মারা যায় এক নাবালিকা। হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও বাঁচানো যায়নি তাকে। শেষপর্যন্ত কলার ভেলা চাপিয়ে, ওই নাবালিকার দেহ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন পরিবারের লোকেরা।