ভাইফোঁটার দিনেই বোনফোঁটা! ১০০ বোনকে ফোঁটার মাধ্যমে অনন্য নজির বারাসাতের সংগঠনের

ভাইফোঁটার দিনেই বোনফোঁটা! ১০০ বোনকে ফোঁটার মাধ্যমে অনন্য নজির বারাসাতের সংগঠনের
ভাইফোঁটার দিনেই বোনফোঁটা! ১০০ বোনকে ফোঁটার মাধ্যমে অনন্য নজির বারাসাতের সংগঠনের

‘শিশিরজলে চন্দনবাটা
বোনের কপালে দিলাম ফোঁটা
বোনের হবে সকল ভালো
বোন করবে জগৎ আলো
যমুনা যমের প্রিয় অতি
আমার বোন চির-আয়ুষ্মতী’

শুক্লাদ্বিতীয়ার লগ্নে ভাইফোঁটা নয়, বোনফোঁটা পালন করে নজির গড়ল বারাসাতের এক মানবসেবী সংগঠন। ভাতৃদ্বিতীয়ার দিন কেন শুধু বোনরাই ভাইদের ফোঁটা দেবেন! বারংবারই এই তত্ত্ব তুলে ধরেছিলেন তসলিমা নাসরিন থেকে স্বাতী ভট্টাচার্য সহ বহু প্রগতিবাদী নারী লেখিকা। তাঁদের পাথেয় করেই সমাজকে অন্যরকম এক বার্তা দিল বারাসাতের সংগঠন ‘সমন্বয়’। ১০০ জন বোনকে স্নেহের পরশে চন্দনে, বসনে, ভূষণে, রন্ধন উপকরণে বরণ করে নিল বারাসাতের সমন্বয় পরিবার।

শনিবার সকালে বারাসাতের ১২ নম্বর রেল গেট সংলগ্ন সমন্বয় মাঠে ১০০ বোনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হল বোনফোঁটার অনুষ্ঠান। বোনেদের ফোঁটা দিয়ে মঙ্গল কামনা করার পাশাপাশি তাঁদের ভাইফোঁটা পালনের পাথেয় তুলে দিলেন ভাইরা। কার্যত এক অভূতপূর্ব অনুষ্ঠান মাধ্যমে উদ্যোক্তা ‘সমন্বয়’-এর বার্তা মেয়েদের ‘ভ্রান্তশোকের’ দিন শেষ, ভাইরা বোনেদের সঙ্গেই অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ রয়েছেন। মেয়েরা যে সমাজে ব্রাত্য বা অবহেলিত নয়, আরও একবার সেই উজ্জ্বল বার্তাই দিল বারাসাত।

ভাইফোঁটার দিনেই বোনফোঁটা! ১০০ বোনকে ফোঁটার মাধ্যমে অনন্য নজির বারাসাতের সংগঠনের
ভাইফোঁটার দিনেই বোনফোঁটা! ১০০ বোনকে ফোঁটার মাধ্যমে অনন্য নজির বারাসাতের সংগঠনের

উল্লেখ্য, সারা বছরই বাড়ির মেয়েরা পুরুষদের মঙ্গল কামনায় ব্রতী থাকেন। ভাতৃদ্বিতীয়ার শুভলগ্নে প্রতিবছর ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে আসেন বোনেরা। বাড়িতে অভাব থাকলেও কার্পণ্য না করে সামর্থ্যের সীমা ছাড়িয়েই তাঁরা উদযাপন করেন ভাইফোঁটার। তাই সেই বোনেদের এবার বরণ করে নিতে এগিয়ে এলেন ভাইরা।

প্রসঙ্গত, কালীপুজোর দুদিন পরে কার্তিক মাসের শুক্লাদ্বিতীয়া তিথিতে উদযাপিত ভাইফোঁটার উৎসব। এই উৎসবের আরও একটি নাম হল যমদ্বিতীয়া। কথিত রয়েছে, এই দিন মৃত্যুর দেবতা যম তাঁর বোন যমুনার হাতে ফোঁটা নিয়েছিলেন। অন্য মতে, নরকাসুর নামে এক দৈত্যকে বধ করার পর যখন কৃষ্ণ তাঁর বোন সুভদ্রার কাছে আসেন, তখন সুভদ্রা তাঁর কপালে ফোঁটা দিয়ে তাঁকে মিষ্টি খেতে দেন। সেই থেকে ভাইফোঁটা উৎসবের প্রচলন হয়।

ভাইফোঁটার দিন বোনেরা তাদের ভাইদের কপালে চন্দনের ফোঁটা পরিয়ে দীর্ঘায়ু কামনা করেন। হাতে তুলে দেন নানাবিধ মিষ্টি,খাবার এবং উপহার। বারাসাত সমন্বয়েও এদিন ভাইরা একশো বোনের হাতে শাড়ি, মাছ, মাংস সহ রন্ধন উপকরণ তুলে দিয়ে বৃহত্তর উৎসব উদযাপনের দিশা দেখালেন। শুক্লাদ্বিতীয়া উৎসবের লগ্ন হয়ে উঠল ভাইবোনের পবিত্র সমন্বয়।