গান্ধীজয়ন্তীতে জন্ম নিয়েও ‘ঘুষি’র জন্য বিখ্যাত! লভলিনার সঙ্গে রসিকতায় মাতলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

গান্ধীজয়ন্তীতে জন্ম নিয়েও 'ঘুষি'র জন্য বিখ্যাত! লভলিনার সঙ্গে রসিকতায় মাতলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি
গান্ধীজয়ন্তীতে জন্ম নিয়েও 'ঘুষি'র জন্য বিখ্যাত! লভলিনার সঙ্গে রসিকতায় মাতলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

অলিম্পিক্সের মঞ্চে প্রথমবার পা রেখেছিলেন তিনি। আর প্রথমবারেই সাফল্য হাতের মুঠোয়৷ সোনার স্বপ্ন পূরণ না হলেও বক্সিংয়ে ভারতের হয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছেন অসমের লভলিনা বোরগোহাঁই। তারপরই তাঁর প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী মোদি সহ মেতে উঠেছিলেন সকল দেশবাসী৷ লভলিনার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘এই জয় আসলে নারীশক্তিরই জয়!’ শুধু তাই নয়, পদক জেতার পর লভলিনার সঙ্গে রসিকতাতেও মেতে উঠলেন মোদি।

ঘটনা হলো, লভলিনার জন্ম অক্টোবরের ২ তারিখ। ওই দিন আবার ‘জাতির জনক’ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীরও জন্মদিন। গান্ধীজি আজীবন অহিংসার পথে হেঁটেছেন। কারোর গায়ে হাত তোলা তো দূর কাউকে কড়া ভাষাতেও সাধারণত কিছু বলতেন না৷ মারামারি, হিংসা ছিল একেবারেই বাপুর অপছন্দের। অথচ সেই দিনে জন্ম নেওয়া আসামের লভলিনাই কিনা বক্সিংয়ে দুনিয়াখ্যাত। টোকিও অলিম্পিক্সে তাঁর ঘুষির জোরে ধরাশায়ী করেছেন প্রতিপক্ষকে। তাঁর সেই ঘুষিও এখন বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।

এ নিয়েই ব্রোঞ্জ পদকজয়ী বক্সারের সঙ্গে মজায় মাতলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর, এর মধ্যেই লভলিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর রসিকতার ছিলে তাঁকে বলেছেন, “আপনার জন্ম ২ অক্টোবর। গান্ধীজয়ন্তীর দিন। গান্ধীজি আজীবন অহিংসার কথা বলে গিয়েছেন। এদিকে আপনি ঘুষির জন্য দুনিয়াখ্যাত।”

প্রসঙ্গত, বুধবার সকালেই ৬৪-৬৯ কেজি উইমেন্স বক্সিংয়ের সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ তুরস্কের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বুসেনাজ সুরমেনেলির কাছে হেরে যান লভলিনা। প্রথম রাউন্ডেই পরাজয় দিয়ে শুরু। ম্যাচের স্কোর ছিল ৫-০। দ্বিতীয় রাউন্ডেও পয়েন্ট বাদ যায়। এরপর তৃতীয় ও চতুর্থ রাউন্ডে বিশ্বের এক নম্বর বক্সারের সামনে কার্যত দাঁড়াতেই পারেননি লভলিনা। শেষ পর্যন্ত হেরে সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে গিয়ে সোনার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় তাঁর।

তবে সেমিতে হারলেও কোয়ার্টার ফাইনালে চিনের প্রতিপক্ষকে ৪-১ হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছিলেন লভলিনা। তাঁর এই পদক জয়ে টোকিও অলিম্পিকে তৃতীয় পদক এল ভারতের ঘরে। অলিম্পিকে ভারতীয় বক্সিংয়ের ইতিহাসে বিজেন্দ্র সিং ও মেরি কমের পর তৃতীয়জন হিসাবে পদক জয় লভলিনার। আর জেতার পরই সেই পদক দেশবাসীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন তিনি। এদিকে প্রথম অলিম্পিক্সেই পদক জয়ের মতো অসামান্য কৃতিত্বের জন্য লভলিনাকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন সকল দেশবাসী।