সন্ত্রাসবাদকেও যেন মদত দেওয়া না হয়, ব্রিকস সম্মেলনে আফগানিস্তানকে কড়া বার্তা মোদীর

সন্ত্রাসবাদকেও যেন মদত দেওয়া না হয়, ব্রিকস সম্মেলনে আফগানিস্তানকে কড়া বার্তা মোদীর
সন্ত্রাসবাদকেও যেন মদত দেওয়া না হয়, ব্রিকস সম্মেলনে আফগানিস্তানকে কড়া বার্তা মোদীর

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যই অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রিকস। বৃহস্পতিবার ব্রিকস সম্মেলনে এমনটাই দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন ভার্চুয়াল সম্মেলনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজকের এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে উপস্থিত ছিল ভারত ছাড়াও রাশিয়া, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিল। এদিনের ভার্চুয়াল সম্মেলনে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে সন্ত্রাসদমন প্রসঙ্গ।

এদিন ব্রিকস সম্মেলনে আফগানিস্তানকে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কোনভাবেই যেন প্রতিবেশী দেশগুলিকে হুমকি দেওয়ার মতো কাজ না করে আফগানিস্তান। এর পাশাপাশি মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসবাদকেও যেন কোনোভাবে মদত দেওয়া না হয়। এভাবেই এদিন অন্তর্বর্তীকালীন তালিবান সরকারকে শুরুতেই সতর্ক করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

উল্লেখ্য, করোনার কারণে এবারের সম্মেলন ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আফগানিস্তান সংকটের সময়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। ব্রিকসের এবারের সভায় ধারাবাহিকতা, সংহতি, ঐক্যমতের উপরেই গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মোদিই যে সভাপতিত্ব করবেন এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে, তা আগেই জানিয়েছিল বিদেশমন্ত্রক। অবশেষে বৃহস্পতিবার শুরু হল ব্রিকস সম্মেলন। এদিন বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির জন্য এক প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছি। এই প্ল্যাটফর্মটি উন্নয়নশীল দেশগুলির অগ্রাধিকারগুলিতে মনোনিবেশ করার জন্যও কার্যকর থেকেছে।’

উল্লেখ্য, এটাই প্রথমবার নয়, এর আগেও ব্রিকস সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ব্রিকস সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে ২০১৬ সালে গোয়ায় আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে সভাপতিত্ব করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এবারের সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদি ছাড়া যোগ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসানারো, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি সাইরিল রামাফোসা।

এবারের সম্মেলনে আফগানিস্তান সংকট খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের আগস্টে আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবান। তারপর থেকেই গোটা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়েছে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল। সেই ধারণাকেই এদিন সত্যি প্রমাণ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছেন, যেভাবে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার ফলেই আফগানিস্তান বড় সংকটের মধ্যে পড়েছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন যে, বিশ্ব নিরাপত্তা এক কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। পরিস্থিতি ক্রমেই তলানিতে এসে ঠেকেছে। আফগানিস্তান ইস্যুতে সতর্ক নজর রাখছে রাশিয়া। রাশিয়া এবং ব্রিকসের অন্যান্য সদস্য দেশগুলি বারবার আফগানিস্তানের মাটিতে শান্তি এবং স্থিতাবস্থা ফেরানোর কথা বলে আসছে অনেকদিন ধরেই। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ব্রিকসে সন্ত্রাসবাদ দমনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত আফগানিস্তানের নবগঠিত তালিবান সরকারকে কোনওরকম স্বীকৃতি দেয়নি ভারত সরকার। আজ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আফগানিস্তানের নাগরিকরা দশকের পর দশক ধরে নিজেদের অধিকারের জন্য এবং তাঁদের দেশ কেমন হবে, তা ঠিক করার জন্য সংগ্রাম করেছে।

এদিকে, ১৫ অগস্ট তালিবানরা কাবুলের দখল নেওয়ার পরই চিন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বেজিং থেকে বলা হয়েছিল, আফগানিস্তানে যে নৈরাজ্যের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল (আশরাফ গনির আমলে) তা থেকে মুক্তির জন্য এই পদক্ষেপ অবশ্যম্ভাবী। তালিবানও জানিয়েছে, তাদের সরকারের সবথেকে বড় অংশীদার হতে চলেছে চিন।

আবার পাকিস্তানও প্রথম থেকেই তালিবানদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তালিবানদের আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসায় স্বাগত জানিয়েছে ইসলামাবাদ। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আফগানভূম সন্ত্রাসবাদীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এরপর আইসিস থেকে শুরু করে আলকায়েদা, প্রত্যেকেই নিজেদের জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করতে পারে কাবুলের মাটি।

আর যদি সরষের মধ্যেই ভূত থাকে, তাহলে তো সোনায় সোহাগা। আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করছে তালিবান। অনেক প্রতিশ্রুতি ছিল। বলা হয়েছিল, নতুন প্রজন্মের তালিবরা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করবে না। মেয়েদের শিক্ষার অধিকার, সমান অধিকার দেওয়া হবে। কিন্তু সরকার গঠন হতেই এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, আজকের তালিবান আর আগের তালিবানদের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। তালিবান আছে তালিবানেই। কোনও পরিবর্তন হয়নি চরিত্রে।