ভাঙা হল নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে দেবাঞ্জনের নাম থাকা বিতর্কিত ফলক

ভাঙা হল নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে দেবাঞ্জনের নাম থাকা বিতর্কিত ফলক
ভাঙা হল নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে দেবাঞ্জনের নাম থাকা বিতর্কিত ফলক

সম্প্রতি কসবায় পুরসভার যুগ্ম কমিশনারের পরিচয় ভুয়ো ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প চালায় এক যুবক । সেই যুবকের নাম পাওয়া গিয়েছে রবীন্দ্রনাথের আবক্ষ মূর্তির ফলকে নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে । আর তারপরেই শুরু হয় বিতর্ক। ফলক নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই শুক্রবার ভাঙা হল নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে থাকা অভিযুক্ত দেবাঞ্জনের বিতর্কিত ফলক ।

কসবার টিকা কেলেঙ্কারি কাণ্ডে ধৃত দেবাঞ্জন দেবের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তালতলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি মূর্তির ফলকে ফিরহাদ, সুদীপ-সহ কয়েক জন নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের যুগ্মসচিব পরিচয়ে রয়েছে দেবাঞ্জনের নাম।

ভাঙার আগে সেই ফলক

গত মঙ্গলবারই কসবায় এক ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল । সেই ক্যাম্পে গিয়ে ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন তারকা সংসদ মিমি চক্রবর্তী । কিন্তু এরপরেই অভিযোগ ওঠে যে ওই ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প ভুয়ো । সরকারি নথি জাল করে ভুয়ো ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প চলে সেখানে । পুরসভার যুগ্ম কমিশনারের পরিচয় ভুয়ো ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প চালায় ওই যুবক বলে অভিযোগ । ইতিমধ্যেই ধৃত দেবাঞ্জন দেবকে আটক করা হয়েছে । এরই মাঝে রবীন্দ্রনাথের আবক্ষ মূর্তির ফলকে নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে ভুয়ো আইএএস দেবাঞ্জন দেবের নাম নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক । ইতিমধ্যেই সেই ফলক বিতর্কে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।

ভেঙে ফেলার পর সেই ফলক

দেবাঞ্জন দেবের ট্যুইটারে ধরা পড়ছেন বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে,দেবাশীষ কুমারের সঙ্গে মাস্ক বিলি করছেনা দেবাঞ্জন। যদিও দেবাশীষ বাবু জানাচ্ছেন, কোভিড পরিস্থিতিতে এরকম বহু জায়গায় তাকে যেতে হয়েছে। কোথায় তার সঙ্গে এই ছবি তোলা হয়েছে তা মনেও নেই। তবে পুরসভার কোন কর্র্মীর যে এই ঘটনায় জড়িত নন তা তিনি ১০০শতাংশ নিশ্চিত। পশ্চিমবঙ্গের যুগ্মসচিব পরিচয়ে রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে ফলকে নাম রয়েছে ধৃত দেবাঞ্জন দেবের। স্বভাবতই এরপর বিতর্ক আরও বেড়েছে।

দেবাঞ্জনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যখন তোলপাড়, শুক্রবার সেই সময় তালতলায় রবীন্দ্রমূর্তির পাদদেশে হাজির হন এলাকার লোকজন। প্রথমে হাতুড়ি, ছেনি দিয়ে মূর্তির নীচ থেকে ফলকটি তুলে নেওয়া হয়। তার পর হাতুড়ি দিয়ে সেটি টুকরো টুকরো ভেঙে ফেলেন এক ব্যক্তি। শেষে বস্তায় ভরে ফেলে দেওয়া হয় ভাঙা টুকরোগুলো।