‘আজ উত্তরপ্রদেশে বলদ, ষাঁড় কিংবা মহিলা সবাই সুরক্ষিত’, দাবি যোগী আদিত্যনাথের

‘আজ উত্তরপ্রদেশে বলদ, ষাঁড় কিংবা মহিলা সবাই সুরক্ষিত’, দাবি যোগী আদিত্যনাথের
‘আজ উত্তরপ্রদেশে বলদ, ষাঁড় কিংবা মহিলা সবাই সুরক্ষিত’, দাবি যোগী আদিত্যনাথের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ সামনেই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে যোগী রাজ্যে জোরকদমে চলছে প্রচার। বছর ঘুরলেই উত্তরপ্রদেশে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। তাই প্রস্ততি শুরু হয়ে গেছে এখন থেকেই।

আর এই প্রস্তুতি পর্বে কখনও সংখ্যালঘু তোষণ, কখনও তালিবান-পরিবারতন্ত্র নিয়ে বিরোধী পক্ষকে আক্রমণ করেই চলেছে উত্তরপ্রদেশের বিজেপিশাসিত সরকার। এসবের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের সরকারি বিজ্ঞাপনে এক খণ্ড কলকাতার ছবি ফুটে উঠেছে, যা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। আবার বিতর্কের রেশ মিটতে না মিটতেই শুরু হয়েছে ‘আব্বাজান’ বিতর্ক। তিনি বলেন, “২০১৭ সালে বিজেপি সরকার উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতায় আসার আগে ‘আব্বাজান’ বলা ব্যক্তিরাই রেশন পেট। ওরাই গরীবের চাকরি কেড়ে নিত। কুশীনগরের বরাদ্দ রেশনের চাল বাংলাদেশ, নেপালে চলে যেত।” তাঁর ‘আব্বাজান’ মন্তব্যে ইতিমধ্যেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিরোধীরা তাঁর এই বিতর্কিত মন্তব্যে একজোট হয়ে নিন্দায় সরব হয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, যোগী আদিত্যনাথকে বিঁধে টুইটে আব্বাজান হ্যাশট্যাগে সরব হয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। আবার এসবের মধ্যেই নতুন করে আরও এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেছেন যোগী আদিত্যনাথ। পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে আদিত্যনাথ মহিলাদের সঙ্গে একই আসনে বসিয়ে দিলেন বলদ এবং মোষকে।

সোমবার লখনউয়ের রাজ্য বিজেপির হেডকোয়ার্টারে দলীয় কর্মীদের সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি আগের সমাজবাদী সরকারের সমালোচনা করেন। সমাজবাদী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন যে, তাঁর ক্ষমতায় আসার আগে রাজ্যের মহিলা, বলদ কিংবা ষাঁড় কেউই সুরক্ষিত থাকতেন না। যোগী আদিত্যনাথ বলেন যে, ‘এর আগে যেখানেই আমাদের কর্মীরা যেত, মহিলারা জিজ্ঞাসা করতেন, আমরা কি নিরাপদে কখনও থাকতে পারব? আমাদের মা-বোনেরা সবসময়ই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। এমনকী কোনও গরুর গাড়ি যদি পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে যেত, তাহলে বলদ কিংবা মোষেরাও নিরাপদে থাকত না।’

এর সঙ্গেই তিনি বলেন যে, ‘এর আগে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশেই এই ধরনের ঘটনাগুলি ঘটত। তবে পূর্ব উত্তরপ্রদেশে এগুলি হত না। কিন্তু এখনও কোথাও এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটে না। আজ বলদ, ষাঁড় কিংবা মহিলা-কাউকেই জোর করে কেউ তুলে নিয়ে যেতে পারে না। পার্থক্যটা বুঝতে পারছেন? তখন বলা হত, যেখান থেকে রাস্তায় গর্ত শুরু হচ্ছে, সেখান থেকেই উত্তরপ্রদেশের সীমানা শুরু। আগে সবসময় উত্তরপ্রদেশ অন্ধকারে ডুবে ছিল। রাতে প্রত্যেকেই রাস্তায় বেরতে ভয় পেতেন। কিন্তু এখন নয়।’ ‘আব্বাজান’ মন্তব্যের পর যোগী আদিত্যনাথের এই মন্তব্য নিয়ে এবার বিরোধীদের পাশাপাশি মানুষের কী প্রতিক্রিয়া হয়, সেটাই এখন দেখার।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আব্বাজান ইস্যুতে যোগী আদিত্যনাথকে কটাক্ষ করেছেন বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ওই মানুষটা (উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী) যেমন তেমনই বলেছেন। এই ধরনের মন্তব্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া যায় না। কিন্তু আসল ঘটনা হল ‘আব্বজান’ মন্তব্যটি ওই ধরনেরই উসকানিমূলক মন্তব্য, যা আদিত্যনাথ সবসময়ই বলে থাকেন।’