শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

ঘন কুয়াশাতেও আর থেমে থাকবে না ট্রেন! যাত্রী সুবিধার্থে এই বড় পদক্ষেপ ভারতীয় রেলের

মৌসুমী মোদক

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৯, ২০২২, ১১:৩৭ এএম | আপডেট: ডিসেম্বর ৯, ২০২২, ১১:৩৭ এএম

ঘন কুয়াশাতেও আর থেমে থাকবে না ট্রেন! যাত্রী সুবিধার্থে এই বড় পদক্ষেপ ভারতীয় রেলের
ঘন কুয়াশাতেও আর থেমে থাকবে না ট্রেন! যাত্রী সুবিধার্থে এই বড় পদক্ষেপ ভারতীয় রেলের / প্রতীকী ছবি

দেশের প্রায় লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে সফরের অন্যতম ভরসা ভারতীয় রেলপথ। গণপরিবহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অল্প খরচে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যাওয়ায় এই রেলপথের বিকল্প নেই। দূরপথে ভ্রমণই হোক বা নিত্যদিনের যাত্রা, জনসাধারণের প্রথম পছন্দ রেল যাত্রাই। তাই প্রতিনিয়তই দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রতিদিন রেলের মাধ্যমে যাতায়াতকেই বেছে নেন।

তবে শীতকালে অনেক সময়ই দেখা যায় ঘন কুয়াশার কারণে রেল পরিষেবা ব্যাহত হয়। কুয়াশার কারণে শীত পড়লেই দেরি করতে শুরু করে একাধিক ট্রেন। বিশেষ করে দূরপাল্লার ট্রেনগুলি ন্যূনতম ২-৩ ঘণ্টা থেকে শুরু করে অনেক সময় ৫ থেকে ৭ ঘণ্টাও দেরি করতে পারে। দূরপাল্লার যে সকল ট্রেনগুলি রাতে অথবা ভোরের দিকে যাতায়াত করে, সেই ট্রেনগুলিই অধিকাংশ সময় দেরিতে চলে। মূলত উত্তর ভারতগামী ট্রেনগুলিই এই সমস্যার মুখে পড়ে। তবে বর্তমানে দূষণ বাড়ার কারণে দিল্লি, মুম্বই থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের রুটেও এই সমস্যা দেখা যায়।

মূলত শীতে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমান্যতা কমে গেলেই ট্রেনের গতি কমিয়ে দিতে হয়। অনেক সময় দূষণের কারণেও এমনটা করা হয়৷ ফলে ট্রেন অনেক দেরিতে চলে। এর ফলে সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা। এবার যাত্রীদের এই ভোগান্তি দূর করতেই বড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রেল। যাত্রীরা যাতে সঠিক সময়েই নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন, তার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যাত্রী সুবিধার্থে এবার ঘন কুয়াশাতেও ট্রেনের গতিবেগ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শীতকালে দৃশ্যমানতা কম থাকায় এতদিন দূরপাল্লার ট্রেনের সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকত ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার। এবার সেই গতিবেগ বাড়িয়ে ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ঘন কুয়াশার মধ্যে ট্রেন চালাতে যাতে অসুবিধা না হয় তাই বিশেষ ফগ ডিভাইস ব্যবহার করা হবে। এর ফলে ট্রেনের দৃশ্যমানতা অনেকটাই বাড়বে। লোকো পাইলটরা ঘন কুয়াশার মাঝেও ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়বেন না। তাই ট্রেন লেট হওয়ার সম্ভাবনাও কমবে।

এই ডিভাইস লোকো পাইলটকে কুয়াশার মধ্যে উচ্চগতিতে ট্রেন চলাচল করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। তবে ট্রেনের গতিবেগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্কতাও জারি করেছে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ। কুয়াশাচ্ছন্ন রুটে ট্রেন কোনওভাবেই অটো-পাইলট মোডে করা যাবে না। লোকো-পাইলটকেই ট্রেন চালাতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে লোকোপাইলটদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে ট্রেনের গতিবেগ ঘন্টায় ৭৫ কিলোমিটারের বেশি না হয়।