শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২২

এক ফোনেই মিলবে মৃতের শেষকৃত্যে কাঁধ দেওয়ার লোক! আজব ব্যবসা থেকেই লাখ টাকা আয় সংস্থার

মৌসুমী মোদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০২:০৪ পিএম | আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০২:০৪ পিএম

এক ফোনেই মিলবে মৃতের শেষকৃত্যে কাঁধ দেওয়ার লোক! আজব ব্যবসা থেকেই লাখ টাকা আয় সংস্থার
এক ফোনেই মিলবে মৃতের শেষকৃত্যে কাঁধ দেওয়ার লোক! আজব ব্যবসা থেকেই লাখ টাকা আয় সংস্থার

পরিবারে কেউ মারা গিয়েছে, কিন্তু শেষকৃত্য করার লোক নেই! বা ফাঁকা ফ্ল্যাটে মৃত বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। অন্তেষ্টিক্রিয়া করার জন্য বিদেশ থেকে ছেলে-মেয়ের আসা সম্ভব হচ্ছে না! এক্ষেত্রে উপায়? তখনই পাশে এসে দাঁড়াবে এই সংস্থা। যাদের কাজই হচ্ছে, অর্থের বিনিময়ে মৃতকে কাঁধ দেওয়া থেকে শুরু করে শেষকৃত্য পর্যন্ত সমস্ত কাজ করা। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোরকম নজর কেড়েছে এরকমই এক সংস্থা।

নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানে চলছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। যার পোশাকী নাম ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশানাল ট্রেড ফেয়ার (Indian International Trade Fire)। সারা দেশ থেকে বিভিন্ন স্টার্টআপ সংস্থা নিজেদের নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা নিয়ে বিনিয়োগ পাওয়ার আশায় যোগ দিয়েছে এই মেলায়। সেখানেই সকলের নজর কেড়ে নিচ্ছে মুম্বইয়ের সুখান্ত ফিউনেরাল ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড (Sukhant Funeral Management Private Limited)। আর এই সংস্থার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা দেখেই চমকে গিয়েছেন সকলে।

এই সংস্থা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিষেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় যোগ দিয়েছে। আর সেই বিষয়বস্তু দেখে বাণিজ্য মেলায় ঘুরতে আসা একাংশের চক্ষু চড়কগাছ। মেলায় দেওয়া স্টলে নিজেদের ব্যবসা করার পদ্ধতিরও প্রচার চালাচ্ছেন এই সংস্থা। স্টলে মরদেহ রাখার ক্যাসকেট প্রদর্শন করা হয়েছে। সেই স্টল বিপুল সংখ্যক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই স্টলের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

এই সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে,  ৩৮ হাজার টাকার বিনিময়ে তারা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করে নেয়। দাহকাজ থেকে শুরু করে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের যাবতীয় দায়িত্বও পালন করে তারা। আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা ছাড়াও পুরোহিত, নাপিত, মৃতদেহ বয়ে নিয়ে যাওয়ার লোকও সরবরাহ করে। এমনকি ওই টাকার মধ্যে অস্থি বিসর্জনও করে ওই দল।

আইআইএফ সূত্রে খবর, সংস্থাটি ইতিমধ্যে ৫০ লক্ষ টাকার ব্যবসা করে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা থেকে প্রচুর বিনিয়োগ আসবে বলেও মনে করছে এই সংস্থা। তবে অনেকেই যেমন এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, তেমনই কেউ কেউ আবার মৃত্যুকে বাণিজ্যিকীকরণ করার জন্য এই সংস্থার সমালোচনাও করেছেন। তাদের বক্তব্য, মৃত্যু নিয়ে এভাবে ব্যবসা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।