‘আমিই ম্যান অফ দ্য মাচ’, বিপুল ব্যবধানে হেরেও দাবি প্রিয়াঙ্কার! স্বীকার সাংগঠনিক খামতির কথাও

‘আমিই ম্যান অফ দ্য মাচ’, বিপুল ব্যবধানে হেরেও দাবি প্রিয়াঙ্কার! স্বীকার সাংগঠনিক খামতির কথাও
‘আমিই ম্যান অফ দ্য মাচ’, বিপুল ব্যবধানে হেরেও দাবি প্রিয়াঙ্কার! স্বীকার সাংগঠনিক খামতির কথাও

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ শেষপর্যন্ত ভবানীপুর মমতারই। শুরু থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিল। আজ ভোটের ফল প্রকাশের পর, তাদের সেই বিশ্বাসের জয় হল। এই কেন্দ্রের লড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ছিল সম্মানের লড়াই। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে মোট ৫৮ হাজার ৮৩২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন মমতা। সেই সঙ্গে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিজেপির প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে বিরাট মার্জিনে পরাজিত করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে মোট ৫৮ হাজার ৮৩২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন মমতা। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল পেয়েছেন ২৬ হাজার ৩২০ টি ভোট। অন্যদিকে বাম প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাস পেয়েছেন ৪ হাজার ২০১টি ভোট। ভবানীপুরে এই বিরাট ব্যবধানে এর আগে কেউ জয় পাননি। তবে, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এতো বেশি ভোটে হারার পরেও, প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল বলছেন তিনিই ম্যান অফ দ্য ম্যাচ।

এদিন ফলাফল প্রকাশের পর, সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, ‘কাল একজন সাংবাদিকের খবর দেখছিলাম, সেখানে তাঁর একটা কথা খুব ভালো ভালো লাগল। তিনি বলছিলেন, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ হয়, তখন যে কোনও একটি দল জেতে। তবে, সবসময় এটা জরুরি নয়, যে দল জিতছে, সেই দল থেকেই ম্যান অফ দ্য ম্যাচ (ম্যাচের সেরা) হবেন। ম্যাচটা হয়তো আমি হেরে গিয়েছি। কিন্তু ম্যান অফ দ্য ম্যাচ আমিই আছি। সেটা আপনারাই বলেছেন।’

বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল অবশ্য ভোটের ফল প্রকাশের পরই ভোটের ফল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মমতাকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, ‘সব ওয়ার্ডে রিগিং হয়েছে।’ মমতাকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি নেত্রীকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি। তিনি বলেন, ‘আমি ভবানীপুর ছাড়ব না। দিদিকে জয়ের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তাঁকে প্রণাম জানাই। তবে, এটাও বলব যে পরেরবার যদি কাউকে ছাপ্পা ভোট দিতে পাঠান, তাহলে দয়া করে তাঁকে বাঁচাতে নিজের দলের লোককে পাঠাবেন না। তাহলে সেটায় সংগঠনের ক্ষতি নয়। মানুষ দেখতে পারেন।’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘হার স্বীকার করে নিয়েছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদালত বা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হব না।’

 

আবার ভবানীপুরে হারের পর দলের সাংগাঠনিক খামতি মেনে নিলেন প্রিয়াঙ্কা। বললেন, ‘আমাদের দলের সাংগাঠনিক খামতি ছিল। সেটা মেরামত করতে হবে। ভোটে লড়তে হলে সংগঠন মজবুত হওয়া দরকার।’ বিজেপি প্রার্থীর হতাশার অন্যতম কারণ যে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা থেকেও লিড না পাওয়া। ফল ঘোষণা হওয়ার পরই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘ভোটের দিন কীভাবে রিগিং করতে হয় সেটা আপনাদের মাধ্যমেই দেখেছি। তাই ওঁদের রিগিং করে জেতার জন্য, ছাপ্পা ভোট মেরে জেতার জন্য শুভেচ্ছা জানাই।’ কোথায় কোথায় রিগিং হয়েছে? প্রশ্ন করায় প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘সবকটা ওয়ার্ডে ছাপ্পা ভোট পড়েছে।’

এখানেই থেমে না থেকে তিনি আরও বলেন, ‘দিদিকে অভিনন্দন, ওঁর সংগঠন খুব ভাল করে রিগিংয়ের কাজ করেছে। কিন্তু একটা বাচ্চা মেয়েকে হারাতে যেভাবে মন্ত্রিসভাকে নামিয়ে দিয়েছিলেন, তার জন্য আমি খুব খুশি।’

উল্লেখ্য, বিজেপি শুরু থেকেই বলছিল যে, এখানেও নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি হবে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি ছিল, এই কেন্দ্রে মমতারই পাল্লা ভারী। এদিন গণনা শুরু হতেই, ধীরে ধীরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সেই দাবিই বাস্তব রূপ নিয়ে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলাফল ঘোষণার পর শেষ হাসি তিনিই হাসলেন।