আমেরিকা পাড়ি প্রধানমন্ত্রীর! মোদী-বাইডেনের সাক্ষাতের যাবতীয় আয়োজনের দায়িত্বে কমলা হ্যারিস

আমেরিকা পাড়ি প্রধানমন্ত্রীর! মোদী-বাইডেনের সাক্ষাতের যাবতীয় আয়োজনের দায়িত্বে কমলা হ্যারিস
আমেরিকা পাড়ি প্রধানমন্ত্রীর! মোদী-বাইডেনের সাক্ষাতের যাবতীয় আয়োজনের দায়িত্বে কমলা হ্যারিস

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ চলতি মাসেই মুখোমুখি হতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, এই প্রথমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন জো বাইডেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর, হোয়াইট হাউসে মুখোমুখি হবেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। ইতিমধ্যেই আমেরিকার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছেন মোদী। জানা গিয়েছে, বাইডেন সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। শুধু তাই নয়, মোদী এবং বাইডেনের সাক্ষাতের যাবতীয় আয়োজন তিনিই করেছেন।

উল্লেখ্য, কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে মার্কিন সংসদে প্রশ্ন তুলেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রমিলা জয়পাল। তার বিরোধিতা করলে ২০১৯ এ ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কড়া সমালোচনা করেছিলেন কমলা হ্যারিস। বাইডেন সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়ার পর সমালোচনা থেকে সরে এসেছেন তিনি। যদিও কমলার ভাইঝি মিনা হ্যারিস ভারতের সরকারের বিরুদ্ধে বারবার আক্রমণ শানিয়ে, কৃষক আন্দোলনের মতো একাধিক ইস্যুতে সরব হয়েছেন।

আবার গত জুনে, ভারতকে ভ্যাকসিন পাঠানো নিয়ে প্রথমবার ফোনে কথা হয় কমলা হ্যারিসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তার ঠিক তিন মাসের মাথায় মোদী-বাইডেন সাক্ষাতে প্রথমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি হতে চলেছেন কমলা হ্যারিস। জানা যাচ্ছে, আমেরিকা গিয়ে কমলা হ্যারিসকে ভারতে তাঁর মা শ্যামলা গোপলন হ্যারিসের বাসভিটে ঘুরে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারেন মোদী। জানা গিয়েছে, ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থাকবেন আমেরিকায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আগেই জানা গিয়েছিল যে, চলতি মাসেই আমেরিকা সফরে যেতে পারেন নরেন্দ্র মোদী। সেপ্টেম্বর দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকের খবর ছিল। সম্প্রতি সেই খবরকেই সত্যি বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এই বৈঠকের খবরে সিলমোহর দিয়েছে হোয়াইট হাউসও। এর আগেই এই বৈঠকের ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি। তবে, শুধু ভারতের প্রধানমন্ত্রীই নন, কোয়াডের অন্তর্ভুক্ত আরও মোট তিন দেশের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন জো বাইডেন। উপস্থিত থাকবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। এই চার রাষ্ট্রনেতার একত্রে বৈঠকের পাশাপাশি আলাদা করে ভারত এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন জো বাইডেন। এমনটাই জানানো হয়েছে হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষের তরফে।

উল্লেখ্য, এই চার নেতার বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হতে চলেছে আফগানিস্তান। সেখানে তালিবানের উত্থান এই মুহূর্তে ভারতের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত এবং মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আফগানিস্তান ইস্যু ছাড়াও বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসতে পারে করোনা ভ্যাকসিন, জলবায়ু পরিবর্তনের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এদিকে, এই বৈঠক প্রসঙ্গে জো বাইডেনের ইন্দো-প্যাসিফিক কো-অর্ডিনেটর কুর্ত ক্যাম্পবেল কয়েকদিন আগেই জানিয়েছিলেন যে, মূলত ভ্যাকসিন কূটনীতি ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি জানিয়েছেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে একজোট হয়ে কাজ করার বার্তাও মূলত দেওয়া হবে এই বৈঠকে। করোনা অতিমারির মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যাগুলির ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করে, আগামিদিনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাও উঠে আসবে এই চার দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে।

এছাড়াও বিশেষ নজরে থাকবে চিনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক। চিনের আগ্রাসী বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে এই চার দেশ একজোট হয়ে কোনও পদক্ষেপ নেবে কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল। চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ করতে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে এই বৈঠকে। এমনটাও মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চে কোয়াড সম্মেলন, এপ্রিলে জলবায়ু পরিবর্তন এবং জুনে জি-৭ গোষ্ঠীর ভার্চুয়াল বৈঠকে কথোপকথন হয় মোদী ও বাইডেনের। তবে, এই প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ হবে দুই দেশের প্রধানের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগামীদিনে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক কতটা মজবুত হয়, তার জন্যও এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।