‘অনেক মিটিং-মিছিল করলেন, এবার জনসাধারণকে বিচার করতে দিন’, করোনা পরিস্থিতিতে প্রচারে মন্তব্য হাইকোর্টের

'অনেক মিটিং-মিছিল করলেন, এবার জনসাধারণকে বিচার করতে দিন', করোনা পরিস্থিতিতে প্রচারে মন্তব্য হাইকোর্টের
'অনেক মিটিং-মিছিল করলেন, এবার জনসাধারণকে বিচার করতে দিন', করোনা পরিস্থিতিতে প্রচারে মন্তব্য হাইকোর্টের

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশব্যাপী মারণ করোনা মারাত্মক আকার নিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যে চলছে ৮ দফায় নির্বাচন। দফা সংকোচনের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই রাজি নয় নির্বাচন কমিশন। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তার দাবি নিয়ে, বেশ কিছু জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। এবার তারই শুনানি চলাকালীন, কড়া সুরে রাজনৈতিক দলগুলিকে প্রচার নিয়ে কার্যত কটাক্ষ করল কলকাতা হাইকোর্ট।

এদিন এ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন যে, ‘অনেক তো মিটিং-মিছিল করলেন। এবার একটু সাধারণ মানুষকে বিচার করতে দিন।’ এই মন্তব্যের পাশাপাশি রাজ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন যে সমস্ত সুরক্ষাবিধি গ্রহণ করেছে, তা লাগু না হয়ে থাকলে, প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য নিয়ে অবিলম্বে তা লাগু করার নির্দেশও দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারও যেন নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করে৷ মঙ্গলবার এমনই নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি টিবিএন রাধাকৃষ্ণাণ ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী বৃহস্পতিবার মামলাটির ফের শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে।

আজ এই মামলার শুনানিতে মামলাকারীর তরফে শ্রীজীব চক্রবর্তী বলেন, ‘নির্বাচনের এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের আছে একেবারেই তা নয়। করোনা পরিস্থিতি যাতে সামনের দিনে আরও খারাপের দিকে না যায়, সেই ব্যাপারে রাজ্যের প্রশাসনের একটা দায়িত্ব থেকেই যায়। কারণ ইতিমধ্যেই হাসপাতালগুলো করোনা রোগীতে ভর্তি হয়ে গিয়েছে। বেড খালি পাওয়া যাচ্ছে না, তাছাড়া অক্সিজেন নেই।’

এছাড়াও মামলাকারীদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয় যে, ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদের দু’জন প্রার্থী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। আদালতের উচিত, এই মুহূর্তেই মিছিল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া। তা না হলে, সাধারণ মানুষকে আটকানো সম্ভব নয়।

আজ যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়ে মামলাকারীর তরফের আইনজীবী শমীক বাগচি জানান, প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ আজ স্পষ্ট জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো যথেষ্ট মিটিং, মিছিল করেছে। ভোটও অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে, প্রায় শেষের দিকেই বলা যায়। এই পরিস্থিতিতে, এইবার মিটিং-মিছিল যতটা সম্ভব কম করা যায়, সেই চেষ্টাই করা উচিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের।

পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা হলফনামায় করোনা নিয়ন্ত্রণে যে যে ব্যবস্থা অবলম্বন করছে বলে এর আগে জানিয়েছে, সেইগুলো কতদূর বাস্তবে কার্যকর করা হয়েছে তা জানাতে হবে। এখনও তা না করা হয়ে থাকলে, অবিলম্বে পুলিশের সহায়তায় তা যেন করা হয় বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালত-এর পক্ষ থেকে।

পাশাপাশি এই সমস্ত বিষয়ে কমিশন কতদূর কী করল বা কী পদক্ষেপ করল, সেটা আগামী বৃহস্পতিবার মামলার আগামী শুনানিতে জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়াও রাজ্য সরকারকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রাজ্য সরকার শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে৷ তা যেন না হয়, সেই নির্দেশও দিয়েছে হাইকোর্ট।