রাজ্যে হানা পারভো ভাইরাসের! দেখা দিতে পারে কুকুরের মড়ক

রাজ্যে হানা পারভো ভাইরাসের! দেখা দিতে পারে কুকুরের মড়ক / প্রতীকি ছবি / Image Credit: Indrani Ghosh
রাজ্যে হানা পারভো ভাইরাসের! দেখা দিতে পারে কুকুরের মড়ক / প্রতীকি ছবি / Image Credit: Indrani Ghosh

করোনার মাঝেই রাজ্যে হানা অতি সংক্রমক পারভো ভাইরাসের। কোভিড-১৯ ভাইরাসের মতোই অতি দ্রুত সংক্রমণ ঘটছে তার। যার ফলে গত এক সপ্তাহের মধ্যে কয়েকশো কুকুরের মৃত্যু হয়েছে রাজ্য জুড়ে। তবে এখনও পর্যন্ত কুকুর ছাড়া মানুষ বা অন্য প্রাণীর শরীরে দেখা যায়নি এই ভাইরাসের সংক্রমণ। পশু চিকিৎসকদের মতে, এই রোগে এক বার আক্রান্ত হলে কোনও ওষুধ বা চিকিৎসা নেই। তবে কুকুরকে আগে থেকে টিকা দেওয়া থাকলে সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব।

রাজ্য প্রাণীসম্পদ দপ্তর সূত্রে খবর, বাঁকুড়া, বীরভূম, মালদা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, উত্তর চব্বিশ পরগনা, কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলাতেই পারভো ভাইরাসের কবলে মৃত্যু ঘটছে পথ কুকুরদের। বিষ্ণুপুরে যার সংখ্যা সব থেকে বেশি। গত তিন দিনে সেখানে প্রায় ২৫০ কুকুরের মৃত্যু ঘটেছে। পিছিয়ে নেই মালদাও। সেখানেও কুকুরের মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় শতাধিক। রাজ্য ভেটেরিনারি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জহরলাল চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘পারভো ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ৩-১০ দিন পরে কুকুরদের বমিভাব, অলসতা, ডায়ারিয়া (সাধারণত রক্তাক্ত) এবং জ্বর আসে। অল্প দিনের মধ্যেই মারা যায়। আমরা ইতিমধ্যেই ডাক্তারদের সতর্ক করেছি।’ বিশেষজ্ঞরা এও জানিয়েছেন, যে স্ট্রেইনে কুকুরগুলির মৃত্যু ঘটছে, পারভো ভাইরাসের সেই স্ট্রেইন মানুষের শরীরে সংক্রামিত হয় না। তবে এর অন্য স্ট্রেইনে মানুষের বিপদের সম্ভাবনা যে একেবারেই নেই, এমনটাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

ওয়েস্ট বেঙ্গল ভেটেরিনারি অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক গুরুচরণ দত্ত জানান, ‘পারভো ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে অবসরপ্রাপ্ত প্রাণী চিকিৎসকরাও সহযোগিতার হাত বাড়াচ্ছেন। জেলায় জেলায় সচেতনতা শিবির হচ্ছে।’ একমাত্র টিকাকরণেই পারভোর সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব হয়। তাই কুকুরগুলির টিকাকরণ আশু প্রয়োজন। পোষ্যদের ক্ষেত্রে তাদের মালিকরা নিজের উদ্যোগেই টিকা দেন। রাস্তার কুকুরদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে টিকাদানের ব্যবস্থা করা হয়।

যদিও করোনার কারণে বিগত এক বছর রাস্তার কুকুরদের টিকাকরণ বন্ধই ছিল বলা চলে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সে কারণেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ এত মারাত্মক রূপে ধরা পড়ছে। এই কঠিন অবস্থায় পথ কুকুরদের বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে টিকাকরণের ব্যবস্থা করারও উদ্যোগ নিতে বলছেন তাঁরা। এই প্রসঙ্গে সারমেয়প্রেমী এবং ‘অ্যাডিকশন টু লাইফ ফাউন্ডেশন’-এর অন্যতম কর্মকর্তা প্রান্তিক চট্টোপাধ্যায় জানান, ‘করোনার মতো পারভো ভাইরাস আক্রান্ত কুকুরদের আইসোলেশনে রাখা দরকার। রাজ্যের কোনও পশু হাসপাতালেই সেই পরিকাঠামো নেই। ফলে পথ কুকুরদের বাঁচানো মুশকিল হবে। প্রশাসনকে বলব, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কুকুরদের ডিএইচপিটিআইএল টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.