কোভিশিল্ড টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন! প্র‍থম ডোজ নেওয়ার কত দিন পর নিতে পারবেন দ্বিতীয় ডোজ?

কোভিশিল্ড টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন! প্র‍থম ডোজ নেওয়ার কত দিন পর নিতে পারবেন দ্বিতীয় ডোজ? / প্রতীকী ছবি
কোভিশিল্ড টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন! প্র‍থম ডোজ নেওয়ার কত দিন পর নিতে পারবেন দ্বিতীয় ডোজ? / প্রতীকী ছবি

বাড়ল কোভিশিল্ডের দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান। এবার থেকে কোভিশিল্ডের দু’টি টিকার মধ্যে ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহের ব্যবধান থাকবে। আজ দুপুরেই টিকার দুটি ডোজের ব্যবধান বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল বিশেষজ্ঞ কমিটি। সেই প্রস্তাবকেই অগ্রাধিকার দিল ন্যাশনাল টেকনিকাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন ইমিউনাইজেশন (NTAGI) এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ফলে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ নয়৷ কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজ নেওয়ার প্রায় তিন থেকে চার মাস পরই মিলবে দ্বিতীয় ডোজ৷

কেন্দ্রের তরফে বৃহস্পতিবার বলা হয়েছে, ‘মূলত ব্রিটেন-সহ অন্যান্য জায়গার বাস্তব জীবনের তথ্যের ভিত্তিতে, কোভিশিল্ড টিকার দুটি ডোজের ব্যবধান বাড়িয়ে ১২-১৬ সপ্তাহ (৩ থেকে ৪ মাস) করার ক্ষেত্রে কার্যনির্ধারণ গোষ্ঠী একমত হয়েছে।’ উল্লেখ্য, এর আগে প্রাথমিক ভাবে কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজের ২৮ থেকে ৪২ দিন অর্থাৎ ৪ থেকে ছয় সপ্তাহের ব্যবধানে দেওয়া হত দ্বিতীয় ডোজ। মার্চে তা বদলে দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান হয় ৪ থেকে ৮ সপ্তাহের। এরপর ফের আজ বাড়ানো হল ব্যবধান। অর্থাৎ এই নিয়ে তিন মাসে দ্বিতীয়বার কোভিশিল্ডের দু’টি ডোজের ব্যবধান বাড়ানো হল।

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই দেশ জুড়ে চলছে ভ্যাকসিনের আকাল। তার মধ্যেই দুটি ডোজের ব্যবধান বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল বিশেষজ্ঞ কমিটি। ন্যাশনাল এক্সপার্ট গ্রুপ অন ভ্যাকসিন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (টিকা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি) কাছে যায় সেই প্রস্তাব। এরপর কেন্দ্রের তরফে সরকারি ভাবে ব্যবধান বাড়ানোর প্রস্তাবে শিলমোহর পড়ে। এরপরই প্রশ্ন ওঠে, ভ্যাকসিনের ঘাটতির জন্যই কি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? তবে সে নিয়ে কেন্দ্রের তরফে মুখ খোলা হয়নি। যদিও কোভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে আপাতত কোনও ব্যবধান বাড়ানো হয়নি। এই টিকার ক্ষেত্রে দুটি ডোজ়ের মধ্যে ব্যবধান ৬ সপ্তাহই রাখা হয়েছে৷

উল্লেখ্য, এর আগে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার ১৪ দিন পর টিকা নেওয়া যেত। তবে কেন্দ্রের কাছে টিকা সংক্রান্ত আরও বেশ কিছু নতুন প্রস্তাবে বিশেষজ্ঞ কমিটি দাবী করেছে যাতে, এবার থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার অন্তত ৬ মাস পর টিকা নিতে পারেন করোনায় আক্রান্তরা। কারণ, এর ফলে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যাক্তির শরীরে অ্যান্টিবডির প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি পাবে। তাই এই প্রস্তাব।

পাশাপাশি সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজ়ারি গ্রুপ অন ইম্যুনাইজ়েশন জানিয়েছে, যাঁরা সার্স-কোভ-২ রোগে ভুগছেন, তাঁরা সুস্থ হওয়ার ৬ মাস পর টিকা নিতে পারবেন। এছাড়াও যেসব মহিলারা সন্তানকে স্তন্যপান করান, তাঁরা ডেলিভারির পর যে কোনও সময়ে টিকা নিতে পারবেন। অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা কোন টিকা নিতে চান, সেটা তাঁরা নিজেরাই বেছে নিতে পারবেন৷