কলকাতারাজনীতিরাজ্যশীর্ষ সংবাদ

বিজেপির তর্পণ কর্মসূচীকে ঘিরে চরম উত্তেজনা বাগবাজার ঘাটে

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বুধবার বাগবাজার ঘাটে ‘শহীদ’ কর্মীদের উদ্দেশ্যে তর্পণ কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল বিজেপির। কিন্তু তার আগেই খুলে দেওয়া হয় মঞ্চ। সৃষ্টি হয় চরম উত্তেজনার। বিজেপির শহিদ তর্পণ কর্মসূচি ঘিরে বাগবাজার ঘাটে ধুন্ধুমার বেঁধে যায়।তর্পনের অনুমতি না মেলায় কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের নেতৃত্বে পথ অবরোধ করেন বিজেপি কর্মীরা। পরে বাগবাজারের পাশের ঘাট গোলাবাড়ি ঘাটে চলল তর্পন অনুষ্ঠান। এই ঘটনায় ছয়জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিনের এই সমগ্র ঘটনার নিন্দা করে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ‘হিন্দুবিরোধী সরকার’ বলে আক্রমণ করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রাহুল সিনহা।

এদিন বাগবাজার ঘাটে শহিদ দলীয় কর্মীদের জন্য তর্পণের উদ্যোগ নেয় বঙ্গ বিজেপি। আর তার জন্য তৈরি করা হয়েছিল মঞ্চও। সেইমতো এদিন সকালে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ৩২ বিজেপি কর্মীর পরিবার হাজির হয় বাগবাজার ঘাটে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অরবিন্দ মেনন, মুকুল রায় ও রাহুল সিনহারা।এদিকে করোনা আবহে অনুষ্ঠান করা যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। মঙ্গলবার রাতে আসেই মঞ্চ খুলে দেয় পুলিশ। এরপর বুধবার সকাল থেকেই বাগবাজার ঘাটে ঢোকার পথে ব্যারিকেড দিয়ে দেয় পুলিশ। এরপরেই কার্যত পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে বাগবাজারের পাশের ঘাট গোলাবাড়ি ঘাটে তর্পনের আয়োজন করে বিজেপি। সেখান থেকে উঠে যেতে বললে, পুলিশের সঙ্গে কার্যত ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায় বিজেপি কর্মীদের। এরপরেই কৈলাস বিজয়বর্গীয় নেতৃত্বে চলে পথ অবরোধ। এই ঘটনায় ছয়জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় জানান, “তর্পণ করা কি অপরাধ? আমার খুব খারাপ লাগছে মুখ্যমন্ত্রী মহরমের কথা ভেবে লকডাউন করেন, আর তর্পনে বাধা দেন এটা খুব লজ্জার ব্যাপার। এটা ৩০ শতাংশ মানুষের সরকার।৭০ শতাংশ মানুষের কথা ভাবাই হয় না। কেবলমাত্র নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের কথা ভাবেন মমতা। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ঐতিহ্যকে আটকানোর চেষ্টা করছেন তিনি। বিজেপি তা হতে দেবে না। আমি কথা দিচ্ছি ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার আসলে সবকা সাথ সবকা বিকাশ হবে। আমরা সকলের জন্য সরকার চালাবো সকলের কথা ভেবে সরকার চালাবো”।

এরপরেই এর পাল্টা জবাব দেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। পাশাপাশি পুলিশের বিজেপির তর্পনের বাগবাজার ঘাটের মঞ্চ ভেঙে দেওয়াকে সমর্থন জানান তিনি। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শশী পাঁজা বলেন, ” এই সংকটকালীন আবহে কোন শুভ অনুষ্ঠান হোক বা সামাজিক অনুষ্ঠান কোনকিছুকেই আপাতত সমর্থন করা হচ্ছে না। সেটা তারা (বিজেপি) ভালভাবেই জানে। তবে সব সময় প্রচারে থাকার জন্যই তারা ইচ্ছে করে নিয়ম ভঙ্গ কারি কাজ করছেন। এরপর পুলিশ বাধা দিতে গেলে জানান যে আমরা বাধা প্রাপ্ত হয়েছি।” মন্ত্রী আরও জানান, “এই মুহূর্তে রাস্তায় জমায়েত করে যেকোনো অনুষ্ঠান করা বারন। সেটা ওনারাও জানেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও যদি এরকম অনুষ্ঠান তারা করেন তাহলে পুলিশকে বাধ্য হয়েই এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে”।

এদিকে, অনুমতি না নিয়েই সেখানে রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করেছিল বিজেপি এমনটাই অভিযোগ জানায় পুলিশ। তবে পুলিশের এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির পালটা দাবি, সামাজিক দূরত্ব মেনে আয়োজিত হিন্দুদের ধর্মীয় কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে রাজ্য সরকার।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.

Back to top button