কমিশনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে গাঁধী মূর্তির পাদদেশে ধর্না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের!

কমিশনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে গাঁধী মূর্তির পাদদেশে ধর্না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের!
কমিশনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে গাঁধী মূর্তির পাদদেশে ধর্না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের!

বংনিউজ২৪x৭ ডেস্কঃ রাজ্যে শুরু হয়ে গেছে ভোট যুদ্ধ। সম্পন্ন হয়েছে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ দফার ভোট প্রক্রিয়া। বাকি রইলো আর ৪ দফার ভোট। রাজ্যের শাসক দলে কে আধিপত্ত বিস্তার করবে তা নিয়ে চলছে রাজনৈতিক বিরোধ। অন্যদিকে নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। আর এরইমাঝে গতকাল ৮ টা থেকে আজ মঙ্গলবার রাত ৮ টা পর্যন্ত তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২৪ ঘণ্টার নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে অতীতে কখনও এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি। তাই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত এককথায় নজিরবিহীন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার কলকাতায় গাঁধী মূর্তির নীচে ধর্নায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত আজ বেলা ১২ টায় কলকাতায় গাঁধী মূর্তির নীচে ধর্নায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। উল্লেখ্য ওই এলাকা সেনার ইস্টার্ন কম্যান্ডের আওতায় হওয়ায় আজ সকালে মেল এর দ্বারা ধর্নার অনুমতি চান মুখ্যমন্ত্রী। তবে এত কম সময়ের মধ্যে সেনার ইস্টার্ন কম্যান্ডের পক্ষ থেকে অনুমতি পান নি মুখ্যমন্ত্রী, এমনটাই জানা যাচ্ছে। অনুমতি ছাড়াই ধর্নার বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিন ধর্নায় মুখ্যমন্ত্রী কে মুখে কালো মাস্ক, কালো পাড় সাদা শাড়ি ও গলায় কালো কাপড় নিয়ে দেখা যায়। সঙ্গে রঙ-তুলি নিয়ে ছবি আঁকতেও দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। তবে জানা গেছে আজ রাত আটটায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা এর সময় শেষ হলেই তারপর বারাসত ও বিধাননগরে জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তবে সময় না থাকার কারণে নদিয়ার কর্মসূচী বাতিল হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।

উল্লেখ্য, ১৭ তারিখ অর্থাৎ শনিবার রাজ্যে পঞ্চম দফার নির্বাচন। আর পঞ্চম দফার নির্বাচনের ৭২ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচার শেষ করতে বলা হয়েছে কমিশনের তরফে। আর তারই সাথে মুখ্যমন্ত্রীর ১ দিনের নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা! কমিশনের এই সিদ্ধান্তের জেরে পঞ্চম দফার আগে সেভাবে আর নির্বাচনী প্রচার করতে পারবেন না মুখ্যমন্ত্রী। তাই কমিশনের এই নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল।

কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। একটি মন্তব্য ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট সংক্রান্ত, অপর মন্তব্যটি ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও প্রসঙ্গে। তাঁর এই দুই মন্তব্যের জেরে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে বলে কমিশনে অভিযোগ করেছিলেন বিরোধীরা। এরপরেই ৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন তৃণমূল নেত্রীকে শো-কজ করে। এই শো-কজের জবাব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশন জানাচ্ছে, তৃণমূল নেত্রীর সেই জবাবে কোনোভাবেই সন্তুষ্ট হতে পারছে না নির্বাচন কমিশন। তাঁদেরও আরও দাবি, তৃণমূল নেত্রী কমিশনের বাছাই করা কিছু অংশের জবাব দিয়েছেন। তাই শেষপর্যন্ত কমিশনের এই কড়া সিদ্ধান্ত।

অন্যদিকে কমিশনের এই সিদ্ধান্তে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, বিজেপির বহু নেতাও প্ররোচনামূলক কথাবার্তা বলে থাকে, তাঁদের বিরুদ্ধে কেন নীরর নির্বাচন কমিশন! একই সঙ্গে এই প্রশ্ন তুলেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীও। এছাড়া শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত ট্যুইট করে জানান, বাংলার বাঘিনীর পাশে তিনি আছেন।