সুখবর! রাজ্যে করোনাবিধি মেনে, বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, কোন কোন ক্ষেত্রে?

সুখবর! রাজ্যে করোনাবিধি মেনে, বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, কোন কোন ক্ষেত্রে?
সুখবর! রাজ্যে করোনাবিধি মেনে, বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, কোন কোন ক্ষেত্রে?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনা সংক্রমণ রুখতে, রাজ্যে জারি রয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। ইতিমধ্যেই এই বিধিনিষেধ জারির ফলে কিছুটা হলেও রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভাল। রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি বেশ খানিকটা নিয়ন্ত্রণে। ক্রমশ কমছে সংক্রমণ। সেই সঙ্গে বাড়ছে সুস্থতার হারও।

এরই মধ্যেই সুখবর রাজ্যবাসীর জন্য। ১৫ জুনের পর থেকে করোনাবিধি মেনে, হোটেল, রেস্তরাঁ এবং শপিং মল খোলায় অনুমোদন দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, এই অনুমোদন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এবং বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই খোলা যাবে হোটেল, রেস্তরাঁ এবং শপিং মল। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, ২৫ শতাংশ কর্মী নিয়ে খোলা যেতে পারে শপিং মল। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার নবান্নে বণিকসভাগুলির বৈঠকে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, ‘তথ্য প্রযুক্তি শিল্পে দুটি শিফটে করুন। কর্মী থাকুক ১০ শতাংশ’।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী জানা গিয়েছে, বিকেল ৫ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে রেস্তরাঁ। এই সময়ের মধ্যে সেখানে গিয়ে খাওয়াদাওয়া সারতে পারবেন ভোজনরসিকরা। তবে, এক্ষেত্রে শর্ত থাকবে যে, হোটেল, রেস্তরাঁর প্রত্যেক কর্মীর টিকাকরণ বাধ্যতামূলক। আর তা হলেই, তাঁদের কাজে লাগানো যাবে। আর এই ছাড় লাগু হবে ১৫ জুনের পর থেকে।

এদিন তিনি বলেন যে, ‘হোটেল বন্ধ হোক চাই না। আপনারা নিজেদের কর্মীদের টিকা দিন। আপনারা অনলাইনে ব্যবসা বাড়ান। মিষ্টির দোকান ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খোলা। হোটেল ও রেস্তরাঁগুলিকেও তো ওই সময়ে ছাড় দেওয়া যেতে পারে। ৫ থেকে ৮টা পর্যন্ত হোটেল রাখা যাবে। কর্মীদের টিকা দিয়ে চালান। কোভিড বিধি মেনে চলুন।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রায় ১ মাস হতে চলল, রাজ্যে করোনার সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে জারি হয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। বন্ধ রয়েছে সমস্ত গণপরিবহন। শপিং মল, ফুড প্লাজা, সিনেমা হল, হোটেল, রেস্তরাঁ সব বন্ধ। যদিও অনলাইনে খাবার ডেলিভারি করছে হোটেল এবং রেস্তরাঁগুলি। তবে সেখানে বসে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। এবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, তাতেও ছাড় দেওয়া হল। বিকেল ৫ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত হোটেল এবং রেস্তরাঁতে বসে খেতে পারবেন মানুষ। তবে, মানতে হবে করোনাবিধি। মাস্ক পরা, যথাযথভাবে স্যানিটাইজারের ব্যবহার, সামাজিক দুরত্ববিধি মানা এগুলি নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার করোনা ও যশ পরিস্থিতিতে রাজ্যের বণিকসভাগুলি কীভাবে সাহায্য করবে, তা জানতে সংগঠনগুলির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই আলোচনাতেই উঠে আসে কড়া বিধিনিষেধের জেরে ব্যবসা, বাণিজ্য খানিকটা হলেও স্তব্ধ হয়ে পড়ার প্রসঙ্গ।

এরপর আলোচনাক্রমেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেস্তরাঁ, হোটেল তাহলে নির্দিষ্ট সময় মেনে খোলা হোক। তবে কর্মীদের সকলের টিকাকরণ আবশ্যক। তিনি বলেন, পরিষেবা দিতে হবে নির্দিষ্ট দূরত্ববিধি মেনেই। এরপর বণিকসভার সদস্যরা শপিং মল খোলা নিয়েও তাঁর কাছে অনুমোদন চান। জানান, শপিং মলগুলি বড় হওয়ায় দূরত্ববিধি এবং নিয়মকানুন মেনে চলা সহজ এবং সম্ভব। তাই এই পরিস্থিতিতে তা খোলা হলে, কোনও সমস্যা হবে না বলেই মনে করেন বণিকসভার সদস্যরা। এই আর্জিতেও অনুমোদন দেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তিনি জানান, ২৫ শতাংশ কর্মী নিয়ে শপিং মলও খোলা যেতে পারে, অবশ্যই করোনাবিধি মেনে। স্বাভাবিকভাবেই এই নতুন ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত বণিকসভার পাশাপাশি রাজ্যবাসীও।