শুভেন্দুর দেহরক্ষীর মৃত্যু কীভাবে? তদন্তে নেমে সিআইডি হাজির শান্তিকুঞ্জের সামনে! কথা দিব্যেন্দু অধিকারীর সঙ্গে

শুভেন্দুর দেহরক্ষীর মৃত্যু কীভাবে? তদন্তে নেমে সিআইডি হাজির শান্তিকুঞ্জের সামনে! কথা দিব্যেন্দু অধিকারীর সঙ্গে
শুভেন্দুর দেহরক্ষীর মৃত্যু কীভাবে? তদন্তে নেমে সিআইডি হাজির শান্তিকুঞ্জের সামনে! কথা দিব্যেন্দু অধিকারীর সঙ্গে

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যের বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তীর রহস্য মৃত্যুর তদন্তভার গ্রহণ করেই, কাঁথিতে শুভেন্দু-নিবাস শান্তিকুঞ্জের লাগোয়া বাড়িতে গেল সিআইডি’র তদন্তকারী ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল। কথা হয়েছে দিব্যেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও। যদিও ঠিক কী বিষয়ে কথা হয়েছে, সে ব্যাপারে উভয়পক্ষের কেউই মুখ খোলেনি। দেহরক্ষীর মৃত্যুর তদন্তভার সিআইডি’র হাতে যাওয়ায়, খানিক অস্বস্তিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে, অধিকারীদের নিবাস শান্তিকুঞ্জের বিপরীতে একটি গ্যারেজ লাগোয়া বাড়িতেই থাকতেন তাঁদের দেহরক্ষীরা। সেখানেই তাঁরা বিশ্রাম নিতেন। থাকতেন শুভেন্দুর দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তীও।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের অক্টোবরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এতদিন বাদে নতুন করে চাপে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। উক্ত দিনে শুভেন্দু অধিকারীর দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তী গুলিবিদ্ধ হন এবং তাঁর মৃত্যু হয়। এতদিন পরে সেই ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করেছে সিআইডি।

তিন বছর আগে মৃত ওই দেহরক্ষীর স্ত্রী সম্প্রতি একটি এফআইআর দায়ের করেছেন। মৃত দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তীর স্ত্রী অভিযোগে স্বামীর কীভাবে মৃত্যু হল সেই প্রশ্ন তুলেছেন। ২০১৮ সালের ওই ঘটনায় নতুন করেন কাঁথি থানায় অভিযোগ করেছেন শুভব্রতর স্ত্রী সুপর্ণা কাঞ্জিলাল চক্রবর্তী। ৩০২ এবং ১২০ বি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এবার সেই মামলারই তদন্তভার গ্রহণ করার পরেই সোজা অধিকারী নিবাসে পৌঁছে গেলেন সিআইডি অফিসাররা।

যেখানে অধিকারীদের দেহরক্ষীরা থাকতেন, শুভব্রত যেখানে থাকতেন সেই বাড়ি এবং ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন তদন্তকারী অফিসাররা। তার আগে তাঁরা সকালের দিকে কাঁথি থানায় যান। সেখান এই ঘটনা সংক্রান্ত সমস্ত নথি এবং তথ্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেন। এরপরই শুভেন্দুর বাড়ির সামনে ওই বাড়িতে যান। যেখানে শুভব্রতরা বিশ্রাম নিতেন। এদিন পরিস্থিতি সামাল দিতে, ঘটনাস্থলে যান শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। তিনিই পুরো জায়গা ঘুরিয়ে দেখান। কোথায় শুভব্রত থাকতেন, সেই ঘরও দেখান দিব্যেন্দু। হাসপাতালে যাওয়ারও কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই প্রায় ৫ ঘণ্টা শুভব্রতর স্ত্রী সুপর্ণা চক্রবর্তী ও দাদা দেবব্রত চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসবাদ করেছে সিআইডি।

এদিকে শুভেন্দু অধিকারী গোটা বিষয়টিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, নন্দীগ্রামে হারের প্রতিশোধ তাঁর উপর দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এভাবেই নিতে চাইছেন। আবার গেরুয়া শিবির এই তদন্তে রাজনীতির ছায়া দেখছে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন যে, ‘এই তদন্তে রাজনীতির ছাড়া আছে। তিন বছর আগে যখন শুভব্রতর মৃত্যু হয়, তখনও পুলিশমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজও তিনিই পুলিশমন্ত্রী, তাঁর অধীনেই পুলিশ, সিআইডি। তাই তদন্তে যদি কোনও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তার দায় বর্তাবে পুলিশমন্ত্রীর ওপরেই।’ অপরদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, এই তদন্তের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই শুভেন্দু অধিকারীর দেহরক্ষী ছিলেন শুভব্রত চক্রবর্তী। ২০১৮ সালে ১৪ অক্টোবর তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। শুভব্রতর স্ত্রীর অভিযোগ, ঘটনাটি প্রথম থেকেই রহস্যজনক ছিল। শুভেন্দুর ওই দেহরক্ষীর স্ত্রীর অভিযোগ, সে সময় শুভব্রত গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, তখন রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। একজন মন্ত্রীর দেহরক্ষী হয়ে কেন গুলিবিদ্ধ হলেন তিনি? কেনই বা একজন মন্ত্রীর দেহরক্ষী হয়েও অ্যাম্বুলেন্স পেতে দেরি হল? এমনই একাধিক প্রশ তুলেছেন শুভব্রতর স্ত্রী সুপর্ণা।

শুভব্রতর স্ত্রী সুপর্ণা তাঁর অভিযোগ পত্রে লিখেছেন, ২০১৮ সালে ওই ঘটনার দিন তিনি স্কুলে কর্মরত ছিলেন। একটি ফোনে তিনি জানতে পারেন যে, তাঁর স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁকে কাঁথি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পৌঁছন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। দ্রুত তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করতে হবে। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স পেতে দেরি হওয়ায়, কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয় শুভব্রতর। এখানেই সুপর্ণার প্রশ্ন, অ্যাম্বুলেন্স দিতে দেরির পিছনে কি কোনও উদ্দেশ্য ছিল?

তাৎপর্যপূর্ণভাবে শুভব্রতর মৃত্যুর ঘটনায় যে নতুন এফআইআর করা হয়েছে, তাতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনের অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। শুভব্রতর স্ত্রীর অভিযোগ পত্রে নাম রয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রাখাল বেরার। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠছে, ঘটনার এতদিন পরে কেন এফআইআর করলেন সুপর্ণা? এতদিন কেন তিনি চুপ করে ছিলেন? স্বামীর মৃত্যুর পিছনে যে রহস্য রয়েছে, তা কি তাঁর বুঝতে দেরি হল? ২০২১ সালে এসে কেন তিনি এফআইআর করলেন?

শুভব্রতর স্ত্রী সুপর্ণা কাঞ্জিলাল চক্রবর্তীর অবশ্য দাবি, এতদিন আতঙ্কে মুখ বন্ধ করে ছিলেন তিনি। তাঁর দাবি শুভেন্দু অধিকারী প্রভাবশালী মানুষ, তাই তিনি মুখ খুলতে পারেননি। কিন্তু এখন যেহেতু পরিস্থিতি বদলেছে, তাই তিনি সাহস করে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এখন তিনি স্বামীর মৃত্যুর ন্যায়বিচার চান। তাঁর স্বামীর মৃত্যু রহস্যের সত্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি। ছয়-সাত বছর এই দায়িত্বে থাকার পর কীভাবে আচমকা তিনি গুলিবিদ্ধ হলেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।