দেশে প্রথমবার! এই রাজ্যে বাচ্চাদের উপর কোভ্যাক্সিন- এর ট্রায়াল শুরু

দেশে প্রথমবার! এই রাজ্যে বাচ্চাদের উপর কোভ্যাক্সিন- এর ট্রায়াল শুরু
দেশে প্রথমবার! এই রাজ্যে বাচ্চাদের উপর কোভ্যাক্সিন- এর ট্রায়াল শুরু / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত গোটা দেশ। যদিও কড়া বিধিনিষেধ এবং জায়গায় জায়গায় লকডাউন জারির কারণে, কিছুটা হলেও সুফল মিলেছে। ক্রমশ কমছে দেশের করোনা সংক্রমণ। মৃত্যুর হারও আগের থেকে কিছুটা হলেও কম।

এদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যেতে না যেতেই, করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার তৃতীয় ঢেউ বাচ্চাদের জন্য আরও মারাত্মক হতে পারে। তৃতীয় ঢেউয়ে প্রায় ১০০ দিন ধরে সংক্রমণ ছড়াবে। তাই এটা স্পষ্ট যে, বিপদ এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আগে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ তৈরি ছিল না। সেটা এখন স্পষ্ট। যদি তৈরি থাকত তাহলে, অক্সিজেনের অভাবে এত সংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটত না। তবে, তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আগে তৈরি থাকতে চাইছে স্বাস্থ্য বিভাগগুলি। কারণ, এবার বাচ্চাদের বিপদ সবথেকে বেশি। এই পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিন সব থেকে বড় অস্ত্র হতে পারে। একথা বুঝতে পেরেছে কেন্দ্র সরকার। আর তাই যতটা বেশি সম্ভব মানুষকে করোনার টিকাকরণের আওতায় আনতে চাইছে বা চেষ্টা করছে কেন্দ্র।

প্রতীকী ছবি

উল্লেখ্য, ২ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের উপর কোভ্যাক্সিন ট্রায়ালের অনুমতি পেয়েছিল ভারত বায়োটেক। এবার ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার অনুমতি নিয়ে বাচ্চাদের উপর কোভ্যাক্সিনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হল। পাটনার এইমস-এ চিকিৎসকদের একটি দলের তত্ত্বাবধানে বাচ্চাদের উপর এই ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। তবে, পাটনার পাশাপাশি দিল্লি ও নাগপুরেও বাচ্চাদের উপর কোভ্যাক্সিনের ট্রায়াল শুরু হওয়ার কথা।

জানা গিয়েছে যে, দিল্লি ও পাটনার এইমস ও নাগপুরের মেডিট্রিনা ইনস্টিটিউটে মত ৫২৫ টি বাচ্চার উপর এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলবে। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর, তাঁদের স্বাস্থ্যের প্রতিক্রিয়া খতিয়ে দেখা হবে। তাছাড়া বাচ্চাদের উপর এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কেমন, তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে।

তবে, এই মুহূর্তে দেশব্যাপী করোনার ভ্যাকসিনের জোগানে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় বাচ্চাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফল হলে, চাহিদা আরও বাড়বে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই। সেক্ষেত্রে সরবরাহ ঠিকমতো হবে কিনা, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। তবে, ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতি মাসে অন্তত ১০ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ উৎপাদন করা হবে। যাতে চাহিদার সঙ্গে জোগানের সঠিক সামঞ্জস্য বজায় থাকে। ভারত বায়োটেক জানিয়েছে যে, জুলাই-অগাস্ট থেকেই প্রতি মাসে ৬ থেকে ৭ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ উৎপাদন করবে তারা।