স্বাস্থ্য সাথীর সুবিধা পাবেন প্রত্যেক রাজ্যবাসী, বড় ঘোষণা মমতার

স্বাস্থ্য সাথীর সুবিধা পাবেন প্রত্যেক রাজ্যবাসী, বড় ঘোষণা মমতার
স্বাস্থ্য সাথীর সুবিধা পাবেন প্রত্যেক রাজ্যবাসী, বড় ঘোষণা মমতার

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পকে সর্বজনীন করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি মানুষ জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ রোজগার নির্বিশেষে স্বাস্থ্য সাথী বীমা সুযোগ পাবেন বলে জানালেন তিনি। এ প্রকল্প কার্যকরী হবে পয়লা ডিসেম্বর থেকে।

‘দুয়ারে দুয়ারে সরকার’ নামক কর্মসূচি শুরু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সেখানে গিয়ে আবেদন করলেই যথাসময়ে কার্ড পৌঁছে যাবে বাড়িতে। তবে কার্ডটি অবশ্যই হবে বাড়ির মহিলা অভিভাবকের নামে। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই সর্বাত্মকভাবে মানুষের মন জয় করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে রাজ্যের শাসক দল। সেই উদ্দেশ্যেই বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে এই ঘোষণা করেন তিনি।

এদিন নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এতদিন সাড়ে সাত কোটি পরিবারকে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছিল। এবার সেই লক্ষ্য মাত্রা বাড়ানো হলো। এখন আরও আড়াই কোটি মানুষকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। যে সমস্ত মানুষ কোনরকম স্বাস্থ্য বীমার আওতায় নেই তারা প্রত্যেকে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আসার পর পরিবারপিছু 5 লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ পাবেন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “পরিবারের মহিলা অভিভাবকের নামে একটি স্মার্ট কার্ডের মত কার্ড দেওয়া হবে। মহিলাদের এম্পাওয়ার্মেন্ট এর জন্য এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে। বাংলার প্রত্যেক পরিবার নারী-পুরুষ বয়স লিঙ্গ জাতিভেদে যারা কোন স্বাস্থ্য পরিষেবার আওতায় নেই তাদের প্রত্যেককে পয়লা ডিসেম্বর থেকে স্বাস্থ্যসাথী আওতায় আসবে”। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রতি পরিবার একটি করে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড পাবে। এর মধ্যে পরিবারের সকলের পরিচয় থাকবে। যাদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেই অথবা যারা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন সেখানে দুয়ারে সরকার কর্মসূচি যখন হবে তারা সকলেই এই প্রকল্পের আওতায় নাম লেখাতে পারবেন। যারা স্বাস্থ্যসাথী আওতায় রয়েছে তারা তো পাবেই উল্টে যাদের নাম নেই তারাও এবার থেকে এই আওতায় নাম নথিভুক্ত করতে পারবে।

সরকারি হাসপাতাল সহ রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে মোট দেড় হাজার হাসপাতালে এই এ প্রকল্পের আওতাভুক্ত মানুষরা পরিষেবা পাবেন। এছাড়াও অল ইন্ডিয়া মেডিকেল ইনস্টিটিউট, সিএমসি, ভেলোর সবকিছুতেই পরিষেবা পাওয়া যাবে এ প্রকল্পের আওতায়।

মুখ্যমন্ত্রী যোগ করেন, এই স্বাস্থ্য সাথীর স্মার্ট কার্ড দেখিয়ে স্নায়ুরোগ, হার্ট অ্যাটাক, ডায়ালাইসিস, ক্যান্সার সহ যেকোন জটিল রোগের চিকিৎসা পাওয়া যাবে বেসরকারি হাসপাতালে। হাসপাতালে গিয়ে এই কার্ড দেখালে ৫লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রতিবছর চিকিৎসা করাতে পারবেন রাজ্যবাসী। পুরো প্রকল্পে রাজ্যের বার্ষিক ব্যয় হবে দুই হাজার কোটি টাকা বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.