আজ থেকেই কর্মসূচি শুরু মমতার

  আজ থেকেই কর্মসূচি শুরু মমতার
  আজ থেকেই কর্মসূচি শুরু মমতার

রাজ্যে ফের ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুরে উপনির্বাচন সহ সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরে নির্বাচন রয়েছে। অর্থাৎ হাতে আর সময় নেই বেশি। তাই আজ থেকেই প্রচারে নামছেন ভবানীপুরের হেভিওয়েট তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বিকেলে চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে প্রথম কর্মিসভা রয়েছে তাঁর।প্রথম পর্যায়ে সাংগঠনিক বৈঠক করবেন দলনেত্রী। অহীন্দ্র মঞ্চ থেকে কর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেবেন তিনি।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসন থেকে লড়াই করেছিলেন মমতা। সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। ওই আসনে টানটান লড়াইয়ের পর মমতাকে পিছনে ফেলে জয়ী হন শুভেন্দু। কিন্তু তার পরেও তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন। তাই সেই পদ টিকিয়ে রাখতে ফল ঘোষণার ছয় মাসের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের যে কোনও কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হত। সেই মতই ভবানীপুরে জয়ী প্রার্থী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। আর এরপরেই এই আসন ফাঁকা হওয়ায় সেখান থেকে লড়ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

একুশের নির্বাচনে দেখা গিয়েছিল, দল সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেলেও বেশ কিছু ওয়ার্ডে ফল ছিল একেবারেই আশাহত করার মত। তাই এবারে সেই ভুল শুধরে নিয়ে ওয়ার্ডের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে বর্ষীয়ান অভিজ্ঞ দলনেতাদের উপর। তৃণমূল সূত্রে খবর, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অর্ন্তগত কলকাতা পুরসভার ৮টি ওয়ার্ড ভাগ করে পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে শীর্ষ নেতাদের। সব ওয়ার্ড থেকে ব্যাপক লিড নিতে উদ্যোগী তৃণমূল।

ভবানীপুর বিধানসভার ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকবেন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় দেখবেন ৭১ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ড। কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম তদারকি করবেন ৭৪, ৭৭ ও ৮২ নম্বর ওয়ার্ড।

এদিকে, বড় ব্যবধানে জিতেলও একুশের নির্বাচনে ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৭৫০ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এই ওয়ার্ডে কেন এমন ফল, তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে জোর চর্চা হয়েছে। এবার মুখ্যমন্ত্রী ভোটে ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে লিড নিয়ে মরিয়া শাসক শিবির। ৭০ নম্বর ওয়ার্ড দেখবেন রাসবিহারী কেন্দ্রের বিধায়ক দেবাশিস কুমার। এই ওয়ার্ডেও গত বিধানসভায় দুই হাজারের বেশি ভোটে তৃণমূল পিছিয়ে ছিল বিজেপির কাছে। ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড দেখবেন কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অর্থাৎ সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে রেকর্ড ভোটে জেতানো এখন চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের কাছে। তারকা প্রচারকদের তালিকাও ইতিমধ্যেই প্রস্তুত। উপনির্বাচনে সাধারণত বুথমুখী হতে অনীহা থাকে শহরাঞ্চলের একটা বড় অংশের ভোটারের। তাই জয় নিশ্চিত হলেও, সব মানুষ যাতে ভোট দিতে যান, সেই চেষ্টাই থাকবে শাসক দলের।