নারী শক্তিতেই জোর মুখ্যমন্ত্রীর! মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলেন জঙ্গলমহলের এই তিন কন্যা

নারী শক্তিতেই জোর মুখ্যমন্ত্রীর! মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলেন জঙ্গলমহলের এই তিন কন্যা
নারী শক্তিতেই জোর মুখ্যমন্ত্রীর! মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলেন জঙ্গলমহলের এই তিন কন্যা

এবারের মন্ত্রিসভায় তালিকায় যে পরোতে পরোতে চমক লুকিয়ে ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিন শপথ গ্রহণের সময়ও দায়িত্ব বন্টনের ক্ষেত্রেও দেখা গেল সেই চমক। জঙ্গলমহলের দায়িত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিলেন তিন মহিলার হাতেই। একজন এর আগেও মন্ত্রী থাকলেও বাকি দুজন একেবারেই নতুন।

পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামের দায়িত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু, জ্যোৎস্না মান্ডি ও বীরবাহা হাঁসদার উপরেই। জেলার জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকার উন্নয়ন যেন বাঁধা এই তিন নারী শক্তির হাতেই। তাৎপর্যপূর্ণভাবে জঙ্গলমহল থেকে আর কোনো পুরুষকে মন্ত্রী করা হয়নি এই তিন মহিলাকে ছাড়া।

জ্যোৎস্না মান্ডি ও তারকা বিধায়ক বীরবাহা হাঁসদার মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা এই প্রথম হলেও সন্ধ্যারানী টুডুর স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা রয়েছে আগের থেকেই। তাঁর সঙ্গেই এবার জঙ্গলমহল থেকে আরও দুই রাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ পেলেন বাঁকুড়ার রানিবাঁধের দু’বারের বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি ও ঝাড়গ্রামের তারকা বিধায়ক বীরবাহা হাঁসদা।

কাদলাগোড়ার বাসিন্দা সন্ধ্যারানী টুডু পুরুলিয়ার মানবাজার থেকে পরপর তিনবারের জয়ী বিধায়ক। প্রথম দিকে তিনি পরিষদীয় সচিবের দায়িত্ব পান। এরপর ধীরে ধীরে তাঁর কাজে খুশি হয়ে দলনেত্রী তাঁর ক্ষমতা বাড়ান। এরপর তাঁকে ২০১৬ সালে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়। স্বাভাবিভাবেই পুরুলিয়ার ঘরের মেয়ের রাজনৈতিক উত্তরণে খুশি দক্ষিণ পুরুলিয়া-সহ সমগ্র জেলা। এবারে তাঁকে দেওয়া হয়েছে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন ও পরিষদীয় দলের স্বাধীন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। সন্ধ্যারানি টুডুর কথায়,”আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা আমি যথাযথ ভাবে পালন করব”।

অন্যদিকে, ২০১৬ সালে প্রার্থী হয়েই প্রথম রাজনীতিতে পা রাখেন বাঁকুড়ার রানিবাঁধ বিধানসভার হিড়বাঁধের জ্যোৎস্না মান্ডি। প্রথমবারেই বাজিমাত করে বিধায়ক হন। তিনি এবার জিতে পেয়েছেন খাদ্য ও গণবন্টন বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে তিনি জানাচ্ছেন, “দিদি আমাদের উপর আস্থা রাখায় আমরা কৃতজ্ঞ”।

সাঁওতালি চলচ্চিত্র জগতের নায়িকা ঝাড়গ্রামের বীরবাহা হাঁসদা। তাঁর বাবা অন্য রাজনৈতিক দলের সদস্য থাকলেও, এবারের নির্বাচনের আগেই ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখান তিনি। বরাবরই সমাজসেবার কাজে যুক্ত ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা বীরবাহা। এদিন তিনি পেয়েছেন বন বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। এরপরেই তিনি বলেন, “আমরা ভীষণ খুশি। আজও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মহিলারা যথাযথ সম্মান পান না। কিন্তু আমাদের প্রিয় দিদি সবসময় মহিলাদের গুরুত্ব দেন। আমাদের মন্ত্রী করায় আবার সেই বিষয়টি প্রমাণিত হল”।

অতএব বলার অপেক্ষা রাখেনা, জঙ্গলমহল থেকে তৃণমূলকে এই বিপুল সংখ্যক ভোট পাওয়ানোর পুরষ্কার হিসাবে এই জঙ্গলমহলের তিন মহিলাকে যে মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে নিয়ে যাচ্ছেন। যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।