করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে, বাতিল চলতি বছরের মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে, বাতিল চলতি বছরের মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে, বাতিল চলতি বছরের মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ অবশেষে বাতিল হল চলতি বছরের মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। কীভাবে বা কীসের ভিত্তিতে মূল্যায়ন হবে, তা আগামী ৭ দিনের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার নবান্নে পরীক্ষা বাতিলের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং জনগণের মতামতের উপর ভিত্তি করেই, এই সিদ্ধান্ত বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমলেও, এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নয়। এই পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া ঠিক হবে কিনা, তা নিয়ে আগেই মতভেদ তৈরি হয়েছিল। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে আদৌ পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে কিনা, বা কীভাবে নেওয়া যেতে পারে পরীক্ষা, সেইসব দিক খতিয়ে দেখতেই, বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বেশ কয়েক দফা বৈঠকের পর, এই কমিটি একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করে। সেই রিপোর্টে পরীক্ষা নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মত প্রকাশ করা হয়। শুধু তাই নয়, পরীক্ষা বাতিলেরও সুপারিশ করেন তাঁরা।

এরপরই মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া হবে কিনা, সেই বিষয়ে রাজ্যবাসীর মত জানতে চায় সরকার। শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেখানে ৩ টি মেল আইডি দেওয়া হয়। বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক হওয়া উচিত কিনা, মেল করে তা জানাতে পারবে আমজনতা। সোমবার দুপুর ২ টোয় সেই সময় শেষ হয়েছে।

এরপরই এদিন বেলা তিনটে নাগাদ নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, একদিনে প্রায় ৩৪ হাজার মেল জমা পড়েছে। তার মধ্যে ৭৯ শতাংশই পরীক্ষা না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এরপরই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এও বলেন যে, ‘বিশেষজ্ঞ কমিটিও বাতিলের সুপারিশ করেছিল। রাজ্যবাসীরাও বাতিলের পক্ষেই মত দিয়েছেন। সব দিক বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত।’ এদিকে পরীক্ষা না নিয়ে, কীভাবে মূল্যায়ন হবে, তা ঠিক করার দায়িত্বও মুখ্যমন্ত্রী বিশেষজ্ঞ কমিটিকেই দিয়েছেন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পড়ুয়াদের যেন কোনও অসুবিধা না হয়, তা দেখতে হবে। পাশাপাশি মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক-সিবিএসইর মূল্যায়ন যেন একসঙ্গে হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন পরীক্ষা বাতিলের প্রসঙ্গে বলেন যে, জনমতকে গুরুত্ব দিয়েই পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২৭ মে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, জুলাইয়ে উচ্চ মাধ্যমিক এবং অগস্টে মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে। কিন্তু এরই মধ্যে দশমের পর সিবিএসই-র দ্বাদশ এবং আইএসসি পরীক্ষাও বাতিল হয়ে যায়। তাছাড়া করোনার তৃতীয় ঢেউ-এর আসার কথাও বলা হচ্ছে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে। তাতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে শিশুদের। যে বয়সের ছাত্রছাত্রীরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে তাঁদের বয়স ১৫ থেকে ১৮ বছর। তাই পরীক্ষা হওয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

উল্লেখ্য, রাজ্যে করোনা আবহে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা হওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে গতকাল আমজনতার মতামত চেয়েছিল সরকার। এই প্রসঙ্গে টুইট করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ‘সন্তানদের ভবিষ্যত্ আমাদের কাছে সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের দশম ও দ্বাদশের বোর্ড পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই আমরা বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছি। পাশাপাশি, অভিভাবক, সাধারণ মানুষ, বিশেষজ্ঞ, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ছাত্রছাত্রীদের কাছেও মতামত জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

এরপরই এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বোর্ডের দুই পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই সব মত দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্সপার্ট কমিটিও বলেছে কোভিডির মধ্যে পরীক্ষা না নিতে। অনেক স্কুলেই সেফ হোম চলছে। আমরা তাই মাধ্যমিক-উচ্চমাধমিক নিচ্ছি না।’