মাষ্টারস্ট্রোক! প্রচারের নিষেধাজ্ঞা শেষের ৩০ মিনিট পরেই সভা করবেন মমতা

মাষ্টারস্ট্রোক! প্রচারের নিষেধাজ্ঞা শেষের ৩০ মিনিট পরেই সভা করবেন মমতা
মাষ্টারস্ট্রোক! প্রচারের নিষেধাজ্ঞা শেষের ৩০ মিনিট পরেই সভা করবেন মমতা

মুখ্যমন্ত্রীর শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট হয়নি নির্বাচন কমিশন। তার জেরে সোমবার রাত আটটা থেকে মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কমিশন। এই সিদ্ধান্তের পরে পাল্টা মাস্টার স্ট্রোক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আটটায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরেই সাড়ে আটটার সময় ফের প্রচারে নামছেন দলনেত্রী। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ উত্তরবঙ্গের ডাব গ্রাম ফুলবাড়ি কেন্দ্রে সভা করবেন তিনি।

কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পর পর দু’বার ৭ এবং গত ৮ এপ্রিল শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তার জবাব মুখ্যমন্ত্রীকে দিতে বলা হয়েছিল ১০ এপ্রিলের তারিখের মধ্যে। সেই নোটিশের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি যা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট-এর আওতায় পড়ে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি কমিশন। তাদের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য আদর্শ আচরণবিধির লংঘন করেছে।

এর পরেই হঠাৎ করে সোমবার রাতে এক নির্দেশিকা জারি করে নির্বাচন কমিশন জানায়,সোমবার রাত আটটা থেকে মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত অর্থাৎ এই ২৪ঘন্টা কোনও প্রচার করতে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরেই টুইট করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামীকাল দুপুর ১২ টা থেকে ধর্মতলা গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ধর্নায় বসবেন তিনি ।

তবে এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর আর থেমে থাকতে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী। তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নেন রাত সাড়ে আটটার সময় থেকে ফের প্রচার শুরু করবেন তিনি। সেই মতই সিদ্ধান্ত হয় উত্তরবঙ্গে ডাব গ্রাম ফুলবাড়ি কেন্দ্রে সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দেবের সমর্থনে সভা করবেন তিনি।

প্রসঙ্গত, এই প্রথম এত রাতে সভা করবেন তিনি। তার সভা করার অন্য একটি সম্ভাব্য কারণ, নির্বাচন কমিশন পঞ্চম দফার নির্বাচনের ৭২ ঘন্টা আগে প্রচার পর্ব শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে। অতএব ১৭ এপ্রিল পঞ্চম দফার ভোটের আগে ১৪ এপ্রিল বিকেলের মধ্যে প্রচার শেষ করতে হবে রাজনৈতিক দলগুলিকে। সেইমতো আগামীকাল রাত থেকে যদি তিনি প্রচার না করেন তাহলে তার হাতে প্রচারের সময় কমে যাবে। সেইসব দিকে চিন্তা করেই হয়তো শেষ মুহূর্তে এই পাল্টা জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

জানা গিয়েছে, আগামীকাল বিকেল পর্যন্ত ধর্না মঞ্চে উপস্থিত থাকার পর বিমানে শিলিগুড়ি পাড়ি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও আগামী ১৪ তারিখ শীতলকুচি যাওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। এদিকে আগামীকাল কৃষ্ণগঞ্জ, বারাসাত, কল্যাণী এবং বিধাননগরে সভা করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু কমিশনের এই নির্দেশিকা জারির পর বাতিল হয়েছে সেই সভা গুলি। এদিকে আগামীকালের ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি কেন্দ্রে সভা করার কথা ছিল না তার। তবে হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। কমিশনের নিষেধাজ্ঞার পর মুখ্যমন্ত্রীর এই সভা যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে তা বলার অবকাশ রাখে না।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.