আসুন না একটা খেলা হয়ে যাক, বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ মমতার

আসুন না একটা খেলা হয়ে যাক, বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ মমতার
image source: file image

এদিন দুর্গাপুরের সভাতে শুরু থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমো বিজেপি বিরোধী আক্রমণকে কার্যত তুঙ্গে নিয়ে যান। একই সঙ্গে নাম না নিয়েই আক্রমণ শানেন অমিত শাহের উদ্দেশ্যেও। বলেন, ‘আজকেও তিনি এসেছেন। আমাদের এখানে আসুন, সবাইকে আমরা স্বাগত জানাই। তিনি এসে যে কথাগুলো বলে গেলেন, তাঁদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, ভাষার কদর্যতা এবং দৈত্যপনার মনোভাব, দুরন্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেন ধমকি দিতে এসেছেন। একটা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে এই রকম কথা মানায় না।”

মমতা বলেন, “আমাকে বলছে সবাই ভ্রষ্টাচারি, দুর্নীতিপরায়ণ? চালুনি ছুঁচের দোষ ধরে। ভাষণ শুনে মনে হচ্ছিল, ফুচকা খাওয়ার ক্ষমতা নেই ফুলকো লুচি খাবে। বাংলা, বাংলা, বাংলা, সারাক্ষণ গালি দিয়ে চলেছে। নির্বাচন নির্বাচনের মতো হোক না, ভয় দেখাচ্ছেন কেন! কৃষকদের ফসল কেড়ে নিয়ে, কৃষকদের সম্মান কেড়ে নিয়ে ভয় দেখাতে এসেছেন। ক্রিয়া হলে প্রতিক্রিয়া হয়।”

একই সঙ্গে যে এনজিও কর্মীদের নিয়ে এদিনের বৈঠক ছিল, সেই এনজিওদের উদ্দেশ্যে বলেন, ”হাজার হাজার এনজিও বাতিল করেছে। অনেক খ্রিস্টান এনজিও আছে। তারা বিজেপি পন্থী নয় বলে বাতিল করেছে। আমি এটা করব না। আমি উর্দু জানি না কিন্তু লিখতে পারি। রাজবংশী ভাষা পরলেই বোঝা যায়। নেপালি ভাষা পড়লে বোঝা যায়, হিন্দি, পাঞ্জাবি বুঝতে পারি। আমার বাংলায় এমন এমন ভাষা আছে, আপনি আমি ঘরে বসে তৈরি করে দিই। বই পড়ার প্রয়োজন হয় না। আমি কথা বলছি, আমার কথাই ভাষায় সৌন্দর্য। এমন কথা বলব না, লক্ষ্মণরেখা অতিক্রম করে সীতাহরণ হবে। এটা সকল রাজনৈতিক দলকে মেইনটেন করি। আমি যদি না বলি ভাববে দুর্বল।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, সৌজন্যতা এক তরফা হয় না। সবার কাছে আমার আহ্বান, বাংলাকে রক্ষা করুন, বাংলাকে বাঁচান। দেখে আসুন ত্রিপুরায়, কেউ কথা বলতে পারে না। কোনও প্রতিবাদ করা যায় না। সবাইকে নিয়ে জোট করতে হবে। আমার বাংলার ভাই-বোনেরা, কখনও আত্মসমর্পণ করবেন না। ওরা মিথ্যে ভিডিয়ো হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে পারে। বাংলাকে দাঙ্গা থেকে বাঁচাতে, শান্তি রক্ষা করতে, উন্নয়নের স্বার্থে, কৃষক, শ্রমিককে রক্ষা করার স্বার্থে, আপনারা আমাদের তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়া ফুলকে সমর্থন করুন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা পাহারা দিয়ে রাখতাম, চারা গাছটা কিন্তু এখন বড় হয়ে গিয়েছে। চারা গাছে পেরেক পোঁতা যায়। কিন্তু মহীরুহে যদি পেরেক পুঁততে যান, তা হলে পাথরটাই ভেঙে যাক। তাই যত ঔদ্ধত্য সব শেষ হয়ে যাক। কোনও অপপ্রচারের কাছে বাংলার ভাই-বোনেরা নত হবে না। টিভি চ্যানেলগুলিকে ভয় দেখাচ্ছে। আপনাদের আশীর্বাদ নিয়ে যেতে চাই। দিল্লির চ্যানেলগুলিকে বলতে চাই, ফেস্টিভ্যাল মুডে আছি। ধর্ম যার যার আপনার, উত্‍সব সবার।”

আরো পড়ুনঃ   গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড মালদায়! পুড়ে ছাই তিনটি দোকান