তাঁর তুলনা তিনি নিজেই! আরও একবার প্রমাণ করলেন মমতা

তাঁর তুলনা তিনি নিজেই! আরও একবার প্রমাণ করলেন মমতা
তাঁর তুলনা তিনি নিজেই! আরও একবার প্রমাণ করলেন মমতা

লড়াইটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কখনোই বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের ছিলো না। লড়াই ছিলো মমতার পূর্ব পরিসংখ্যানের সঙ্গে। লড়াই ছিলো মমতার মিনি ভারত থেকে ভারত জয়ের স্বীকৃতির। সেই প্রমাণই মিলল আজ। ভোট শতাংশের বিচারে সর্বকালের অন্যতম বড় জয়ের রেকর্ডও গড়ে ফেললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রী আবারও প্রমাণ করলেন তাঁর তুলনা তিনি নিজেই।

ভবানীপুরকে কার্যত মিনি ভারত বলা চলে। এখানে নানা ভাষাভাষীর মানুষ বসবাস করেন। বাঙালি, গুজরাতি, পঞ্জাবি, মারওয়াড়িদের সঙ্গে মুসলিম ভোটও রয়েছে৷ ভবানীপুর বিধানসভা জুড়েই উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় গুজরাতি, মারওয়াড়ি এবং পঞ্জাবিদের বাস৷ অবাঙালি ভোটারদের মধ্যে সবথেকে বেশি সংখ্যায় রয়েছেন গুজরাতিরা৷

মূলত ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত কলকাতা পুরসভার ৭০ এবং ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে অধিকাংশ গুজরাতিদের বাস৷ শুধু ৭০ নম্বর ওয়ার্ডেই মোট ভোটারদের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশই গুজরাতি৷ ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে তা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ৷ আবার ৬৩, ৭১ এবং ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে মারওয়াড়িদের বাস৷ ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে বাংলা ও ঊর্দুভাষী মুসলিমদের বসবাস বেশি৷ ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ৷
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র যেন সবমিলিয়ে এক টুকরো ভারত৷ আর সেই কারণেই ভবানীপুরকে কেন্দ্র করে নিজেদের মতো করে ছক সাজিয়েছিল তৃণমূল- বিজেপি দু’ পক্ষই৷

ভবানীপুরে এই অবাঙালি ভোটাররাই বিজেপি-র বড় ভরসা৷ ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনেও ৭০ এবং ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে মূলত এই অবাঙালি ভোটের জোরেই এগিয়ে ছিল বিজেপি৷ বাকি ছ’টি ওয়ার্ডে এগিয়ে ছিল তৃণমূল৷ কিন্তু এবারে ভারত জয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে গুজরাতি, পাঞ্জাবি, মারওয়াড়ি, বিহারি সম্প্রদায়ের ভোটকে নিজেদের দিকে টেনে ঘরের মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ মুহূর্তে সব ছক উল্টে দিলেন।

কাঁটার মত বিধছিলো নন্দীগ্রামে পরাজয়। সেই পরাজয় শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নয় দলের কাছেও রীতিমত দুস্বপ্ন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ভবানীপুরের ‘মিনি ভারত’ ভুলিয়ে দিলো সেই পরাজয়। জয় এক প্রকার নিশ্চিত ছিলো। কিন্তু মার্জিন কত হবে তা নিয়ে কিছুটা হলেও ধন্দে ছিল দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বেলা বাড়ার সঙ্গে আকাশজুড়ে সবুজ আবিরের ধোঁয়ায় কার্যত প্রশস্ত হতে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেকর্ড জয়ের রাস্তা।

অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এই বিপুল জয়ের জন্য গত কয়েকদিনে ভবানীপুরের মাটি কামড়ে অলিতে গলিতে, মাঠে ময়দানে, বহুতল আবাসন থেকে বস্তি অঞ্চল সর্বত্রই প্রায় চষে ফেলেছিলেন রাজ্যের পরিবহন ও আবাসন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইভিএম এ ভোট পেয়েছেন ৮৪,৭০৯টি। পোস্টাল ব্যালটে পেয়েছে ৫৫৪টি। মোট ভোট পেয়েছেন ৮৫,২৬৩ টি। তাঁর প্রাপ্ত ভোটের হার ৭১.৯%। প্রিয়াঙ্কা ইভিএম এ পেয়েছে ২৬,৩২০। পোস্টাল ব্যালটে পেয়েছে ১০৮টি ভোট। মোট ভোট পেয়েছেন ২৬,৪২৮টি। প্রিয়াঙ্কা পেয়েছে ২২.২৯ শতাংশ। বাম প্রার্থী শ্রীজিব বিশ্বাস ইভিএম এ পেয়েছে ৪২০১টি ভোট। পোস্টাল ব্যালটে পেয়েছে ২৫ টি ভোট। মোট ভোট পেয়েছেন ৪২২৬টি ভোট। শ্রিজিব পেয়েছে ৩.৫৬শতাংশ।