‘গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকারক’, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলি প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পাশে কংগ্রেস

‘গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকারক’, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলি প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পাশে কংগ্রেস
‘গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকারক’, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলি প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পাশে কংগ্রেস

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলি নিয়ে ফের সরগরম রাজনীতির অঙ্গন। ইতিমধ্যেই এই বদলি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের পথে রাজ্য সরকার। গতকালই রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। সোমবার রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লির নর্থ ব্লকে রিপোর্ট করার নির্দেশ দিয়ে, শুক্রবার রাত ৯ টা নাগাদ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়।

এবার সেই বদলির নির্দেশকে কেন্দ্র করেই কেন্দ্রের সঙ্গে ফের একবার সংঘাতের পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্য সরকার। তেমনটাই জানা যাচ্ছে নবান্ন সূত্রে। তাঁর বদলির বিরোধিতা করে কেন্দ্রকে চিঠি পাঠাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের পাশে দাঁড়াল কংগ্রেস। মোদী সরকারের এই বদলির সিদ্ধান্তকে ‘গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকারক’ ও ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বিরোধী’ বলে উল্লেখ করে বিবৃতি দিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সুরজেওয়ালা।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার, তাতে গোটা দেশ অবাক। মাত্র চারদিন আগে মোদী সরকারই মুখ্যসচিবের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। সেদিক থেকে বিচার করলে, এটা কেন্দ্রের দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছু নয়।’ এখানেই শেষ নয়, বিবৃতিতে এও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্ত ভারতের সংবিধান ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর আঘাত। কেন্দ্র সরকার যদি এভাবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে আইএএস, আইপিএসদের রাজ্য থেকে ডেকে পাঠায়, তাহলে আইনের শাসন ও সংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়বে।’

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলির বিরোধিতা করে, বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি নারদাকাণ্ডে ৩ তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার ও সিবিআই-এর ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। শুধুমাত্র দলের পক্ষ থেকেই নয়, টুইটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীই চিঠি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন, যেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যকালের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপর সেই আবেদনের ভিত্তিতে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়াদ ৩ মাস বাড়ানো হয়। তবে, এবার সেই মেয়াদ বৃদ্ধির এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই, ফের বদলির নির্দেশ এল। তাঁকে নিউ দিল্লির নর্থ ব্লকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল কেন্দ্র সরকার চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, ‘১৯৮৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভারত সরকারের কাজে যোগদানের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার যোগদান কমিটি। তাঁকে অবিলম্বে সমস্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিক রাজ্য সরকার। ৩১ মে সকাল ১০টায় নয়াদিল্লির নর্থ ব্লকে কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’ শুক্রবার রাতে পাঠানো সেই চিঠিতে আন্ডার সেক্রেটারি অংশুমান মিশ্র জানিয়েছেন যে, ১৯৫৪ সালের ভারতের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস রুল অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে যে, এখনই মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়তে রাজি নয় রাজ্য সরকার। আর সেই জন্যই, রাজ্য সরকারের আপত্তির কথা জানিয়ে, আজই কেন্দ্র সরকারকে চিঠি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেমনটাই খবর। এদিকে এই বদলি নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে হার হজম করতে পারছে না দিল্লি। যেনতেন প্রকারে রাজ্যের প্রশাসনকে বিব্রত করতে চাইছে।’ অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, এটা সরকারি সিদ্ধান্ত।