‘যাঁরা বন্দুক দেখিয়ে ভোটে জেতেন, জনগণের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা থাকে না’, ফের বিতর্কিত মন্তব্য মনোরঞ্জনের

‘যাঁরা বন্দুক দেখিয়ে ভোটে জেতেন, জনগণের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা থাকে না’, ফের বিতর্কিত মন্তব্য মনোরঞ্জনের
‘যাঁরা বন্দুক দেখিয়ে ভোটে জেতেন, জনগণের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা থাকে না’, ফের বিতর্কিত মন্তব্য মনোরঞ্জনের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ এটা প্রথমবার নয়, এর আগেও গত কয়েকদিনে একাধিকবার দল বিরোধী মন্তব্য করে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। যা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নরাএম্নিতেই তিনি স্পষ্টবাদী বলে পরিচিত। তিনি ক্যামেরার সামনেও স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁকে ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ জাতীয় কথাও শুনতে হচ্ছে নিজের দলের নেতা-কর্মীদের থেকেই। সেই ক্ষোভের কথাই ফের একবার তুলে ধরলেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে ফের একবার দল বিরোধী মন্তব্য করে বিতর্কি সৃষ্টি করলেন তৃণমূল বিধায়ক। সরাসরি নাম করে, দলের একাংশের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তিনি। তিনি ফেসবুকে লিখলেন, ‘যারা বন্দুক-রিভলবার দেখিয়ে ভোটে জেতে, তাঁদের জনগণের প্রতি কোনও দায়বদ্ধতা থাকে না।’

হুগলির বলাগড়বাসীর উদ্দেশে এদিন তিনি ফেসবুকে মনোরঞ্জন ব্যাপারী লেখেন, ‘যাঁরা বন্দুক দেখিয়ে ভোটে জেতেন, তাঁদের জনগণের প্রতি কোনও দায়বদ্ধতা থাকে না। তাঁরা মনে করেন ওইভাবে বারবার জিতে যাবে। আমি তেমনভাবে জিতিনি। জিততে চাই না। আমি জিতেছি মা মাটি মানুষের নেত্রী দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আশীর্বাদ আর আপনাদের ভালোবাসায়। আমি আপনাদের প্রতি দায়বদ্ধ, কৃতজ্ঞ।’ এই পোস্টে তিনি কাকে কটাক্ষ করলেন বিধায়ক? সে প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না পেলেও, ইঙ্গিত যে তৃণমূলের একাংশের দিকে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই।

তিনি এও জানিয়েছেন যে, তাঁর এলাকার তৃণমূলেরই একটা অংশ বিজেপির জয় চেয়েছিল। তাঁরাই এখন বিরোধিতা করছে। চার-পাঁচজন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁরাই তাঁকে ঠিকমতো কাজ করতে দিচ্ছে না। মানুষ পরিষেবা পাচ্ছে না তাঁর কাছ থেকে। আর এর জন্য দায়ী কয়েকজন দুষ্কৃতী।

কাদের বিরুদ্ধে বন্দুক দেখিয়ে ভোট করানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি? এ প্রসঙ্গে মনোরঞ্জন ব্যাপারী বলেন, ‘পঞ্চায়েত নির্বাচনে কী হয়েছে খোঁজ নিন।’ বিধায়কের অভিযোগ, হুগলি তৃণমূলের একটা অংশ দলে থেকে বিজেপির হয়ে কাজ করছে। তাঁরাই নাকি সব কাজে বিধায়ককে বাধা দিচ্ছে। অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করছে।

এদিন ফেসবুকে পোস্ট করে মনোরঞ্জন ব্যাপারী জানিয়েছেন যে, তিনি ‘দুয়ারে বিধায়ক’ পরিষেবায় থাকতে পারছেন না। কারণ তাঁকে কলকাতায় আসতে হচ্ছে। বলাগড়ে বিগত কয়েকদিনে যা হচ্ছে, তার জন্য তাঁকে কলকাতায় আসতে হচ্ছে। তিনি দলের মধ্যে শুদ্ধিকরণ করতে চান। তাই এই কলকাতা সফর। দলে থেকে যারা দল বিরোধী কাজ করছেন, তিনি তাঁদের বের করে দিতে চান। কলকাতায় তিনি উচ্চস্তরে জানাবেন সব অভিযোগ। এমনটাই জানিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রেও আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন যে, এখন সবাই ত্রিপুরা নিয়ে ব্যস্ত।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগেও ফেসবুকে নিজের মনের কথা, ক্ষোভের কথা তুলে ধরেছিলেন বলাগড়ের বিধায়ক। তিনি এও জানিয়েছিলেন যে, তাঁর রাজনীতিতে আসা উচিত হয়নি। তাঁর এই মন্তব্যে দলত্যাগের জল্পনা শুরু হয়েছিল। অবশ্য সে বিষয়ে মনোরঞ্জন ব্যাপারী জানিয়েছেন, তিনি দলত্যাগের কথা ভাবছেন না। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজনীতিতে এসেছেন, নিজের ক্ষমতা মতো দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।