চলতি মাসের শুরুতেই সংক্রমণ বৃদ্ধির গ্রাফ সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছতে পারে! হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের উপদেষ্টা কমিটির

চলতি মাসের শুরুতেই সংক্রমণ বৃদ্ধির গ্রাফ সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছতে পারে! হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের উপদেষ্টা কমিটির
চলতি মাসের শুরুতেই সংক্রমণ বৃদ্ধির গ্রাফ সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছতে পারে! হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের উপদেষ্টা কমিটির / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ক্রমশ ভয়ঙ্কর হচ্ছে দেশে করোনা পরিস্থিতি। প্রতিদিন বাড়ছে সংক্রমণ ঝড়ের গতিতে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। সুস্থতার হারও কম। দেশে গত কয়েকদিন ধরে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা তিন লক্ষের বেশি।

আজ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দফতরের হিসেব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পেরিয়ে গেল ৪ লক্ষের গণ্ডি। টানা ৯ দিন দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লক্ষের বেশি থাকার পর, শনিবার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করল।

উল্লেখ্য, এর আগে বিশ্বের কোথাও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লক্ষে পৌঁছায়নি। সেদিক থেকে বিচার করলে ভারত বিশ্বে প্রথম দেশ, যেখানে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লক্ষের গণ্ডি অতিক্রম করল। করোনা আক্রান্তের এই সংখ্যা আতঙ্ক এবং উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে নিঃসন্দেহে। শনিবার সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪ লক্ষ ১ হাজার ৯৯৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এই সংখ্যাটা শুক্রবারের থেকে প্রায় ১৬ হাজার বেশি।

উল্লেখ্য, দেশে এই মুহূর্তে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শিখরে প্রায় পৌঁছে গেছে। চলতি মাসের ৩ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে এই সংক্রমণ বৃদ্ধির গ্রাফ সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে যেতে পারে। এমনটাই জানিয়েছেন বিজ্ঞানীদের এক দল। গাণিতিক মডেলের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কেন্দ্র সরকারকে এই তথ্য তাঁরা দিয়েছেন।

এর পূর্বে যে সময়সীমা জানানো হয়েছিল, তার আগেই সংক্রমণের শিখরে পৌঁছে যেতে পারে ভারত। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে যে, যা অনুমান করা হয়েছিল, তার থেকে অনেক বেশি হারে ছড়াচ্ছে করোনার সংক্রমণ। এদিকে করোনার এই দ্রুত হারে সংক্রমণ বৃদ্ধি দেশের জনস্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে। সংকটজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অক্সিজেন, ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রীর জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দ্বারস্থ হতে হয়েছে কেন্দ্র সরকারকে ইতিমধ্যেই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সরকারের পক্ষ থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ সংক্রান্ত যে বিজ্ঞানীদের দল গঠন করা হয়েছে, তার প্রধান এম বিদ্যাসাগর সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন যে, ‘আমাদের অনুমান, আগামী সপ্তাহের মধ্য়েই দেশে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা শিখরে পৌঁছে যাবে।’ এম বিদ্যাসাগর এও বলেছেন, এপ্রিলে এক প্রেজেন্টেশনে সরকারের পদস্থ আধিকারিকদের জানানো হয়েছিল যে, দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৫ থেকে ১০ মে-র মধ্যে শিখরে পৌঁছে যাবে।

এম বিদ্যাসাগর এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমাদের প্রেজেন্টেশনে জানিয়েছি যে, জুলাই বা অগাস্টে কাজে আসবে, এমন কোনও কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তা নেই এই মুহূর্তে। কারণ, ততদিনে এই ঢেউ শেষ হয়ে যাবে। এখন চেষ্টা করে দেখতে হবে যে, কীভাবে আমরা আগামী চার থেকে ছয় সপ্তাহ করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারি। দীর্ঘকালীন সমাধানের জন্য বেশি সময় নষ্টের প্রয়োজনীয়তা নেই। কারণ, সমস্যা এখন ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে।’

তিনি আরও বলেছেন, ভারতে করোনা মহামারীর প্রথম ঢেউ গত বছরের সেপ্টেম্বরে দৈনিক ৯৭,৮৯৪ আক্রান্ত সহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। দেশে এখন দৈনিক এর তিন গুণের বেশি সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসছে।

সবমিলিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের শনিবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,৯১,৬৪,৯৬৯। সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়েছেন ১,৫৬,৮৪,৪০৬ জন। মোট মৃতের সংখ্যা ২,১১,৮৫৩।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.