স্বস্তির খবর! কিছুটা কমল দেশে দৈনিক করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা!

স্বস্তির খবর! কিছুটা কমল দেশে দৈনিক করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা!
স্বস্তির খবর! কিছুটা কমল দেশে দৈনিক করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা! / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নাজেহাল। সংক্রমণ উর্ধ্বমুখী, মৃত্যুর দৈনিক হার উদ্বেগজনক। তবে, এবার সামান্য হলেও স্বস্তি মিলল। পরপর টানা কয়েকদিন সংক্রমণ দ্রুত গতিতে বাড়ার পর, মঙ্গলবার দেশের করোনা সংক্রমণ সামান্য হলেও নিম্নমুখী।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লক্ষ ২৩ হাজার ১৪৪ জন। উল্লেখ্য, সোমবার এই সংখ্যা ছিল সাড়ে তিন লক্ষের বেশি। সেই দিক থেকে বিচার করলে, মঙ্গলবার প্রায় ২০ হাজার কমেছে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৭৭১ জনের। এই সংখ্যাও সোমবারের তুলনায় কম। যদিও তা সামান্যই। তবে, এই দুই পরিসংখ্যান কম হলেও, তা অবশ্যই বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে। আগামীদিনে এই গ্রাফ আরও কমের দিকেই এগিয়ে যাক এবং দেশ করোনামুক্ত হোক, সেই দিন দেখার অপেক্ষায় রয়েছে এখন দেশবাসী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট অ্যাকটিভ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ লক্ষ ৮২ হাজার ২০৪। গত ২৪ ঘণ্টায় এই মারণ ভাইরাস থেকে মুক্ত হয়েছেন ২ লক্ষ ৫১ হাজার ৮২৭ জন। এ নিয়ে দেশে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ৫৬ হাজার ২০৯ জন। অন্যদিকে, দেশে ইতিমধ্যেই টিকাকরণ হয়েছে ১৪ কোটি ৫২ লক্ষ ৭১ হাজার ১৮৬ জনের।

উল্লেখ্য, টানা কয়েকদিন ধরে ক্রমাগত করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকার পর, মঙ্গলবার সেই গতিতে বাধা পড়ল। সংক্রমণের সংখ্যা সামান্য হলেও কমল। এদিকে করোনার সংক্রমণ থেকে দেশকে বাঁচাতে আরও শক্তি নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছে ভারত। তাই আর মাত্র কিছু দিনের মধ্যেই দেশের বাজারে আসছে আরও একটি টিকা, আর সেটি হল রাশিয়ার ‘স্পুটনিক ভি’। পাশাপাশি ১ মে থেকে ১৮ বছর থেকে বছরের ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের টিকাকরণ শুরু হবে। এমনিতেই দেশে কোভিশিল্ড, কোভ্যাক্সিন – এই জোড়া ভ্যাকসিন দিয়ে চলছে টিকাকরণের কাজ। ফলে স্পুটনিক ভি হাতে এলে সেই কাজ আরও অনেকটা গতি পাবে বলেই মনে করছে কেন্দ্র সরকার। অন্যদিকে, দেশে করোনার রোগীদের চিকিৎসায় সবথেকে বেশি প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে ইতিমধ্যেই নানা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার।

এবার এই পরিস্থিতিতে ভারতের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ফ্রান্সও। মারণ করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবার ভারতের পাশে বন্ধু দেশ ফ্রান্সও। ভারতকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অক্সিজেন জেনারেটর, ২০০০ জন রোগীর জন্য তরল অক্সিজেন, ২৮ টি ভেন্টিলেটর ও আইসিউয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রদানের কথা ঘোষণা করল ফ্রান্স।

টুইট করে এই সাহায্যের কথা জানিয়েছেন ভারতের ফরাসি অ্যাম্বাস্যাডর ইমানুয়েল লিনেন। তিনি টুইট করে বলেছেন যে, ‘আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ভারতে ৮ টি অক্সিজেন জেনারেটর যা বছরজুড়ে ২৫০ বেডের জন্য অক্সিজেন উৎপাদন করতে পারবে, ২০০০ রোগীর ৫ দিনের জন্য তরল অক্সিজেন এবং ২৮টি ভোন্টিলেটর ও ICU এর সরঞ্জাম ডেলিভারি করা হবে।’

ফ্রান্সের পাশাপাশি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আমেরিকাও। করোনার মোকাবিলায় ভারতে পাশে রয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে টুইট করে বলা হয়েছে যে, ‘প্রথমে অতিমারির প্রভাবে আমাদের হাসপাতালগুলি যখন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল, তখন যেভাবে ভারত সাহায্য করেছিল, তেমনই এই সময় আমরা ভারতকে সাহায্য করতে বদ্ধপরিকর।’

রবিবারই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভানের মধ্যে ফোনে কথোপকথন হয়। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র এমিলি হর্ন নিজেই সে কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ভারতের কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের রক্ষা করার জন্য আমেরিকা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। পিপিই কিট, র‌্যাপিড টেস্ট কিট, ওষুধের সরঞ্জাম, ভেন্টিলেটর পাঠানো হবে খুব তাড়াতাড়ি।’ তিনি আরও জানিয়েছেন যে, আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (সিডিসি) জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দলকেও দিল্লি পাঠানো হবে। তাঁরা আমেরিকার দূতাবাস ও ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে, করোনা অতিমারির মোকাবিলায় কাজ করবেন।

কাজেই এখন শুধুই সেই দিনের অপেক্ষা, যেদিন ভারত করোনা মোকাবিলায় সম্পূর্ণরূপে জয়ী হবে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.