দেশের করোনা গ্রাফে ওঠানামা অব্যাহত! গত ২৪ ঘণ্টায় সামান্য বাড়ল দৈনিক সংক্রমণ, স্বস্তি দিচ্ছে অ্যাকটিভ কেসে

দেশের করোনা গ্রাফে ওঠানামা অব্যাহত! গত ২৪ ঘণ্টায় সামান্য বাড়ল দৈনিক সংক্রমণ, স্বস্তি দিচ্ছে অ্যাকটিভ কেসে
দেশের করোনা গ্রাফে ওঠানামা অব্যাহত! গত ২৪ ঘণ্টায় সামান্য বাড়ল দৈনিক সংক্রমণ, স্বস্তি দিচ্ছে অ্যাকটিভ কেসে / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার পর, দেশে ঝড়ের গতিতে বাড়তে শুরু করেছিল করোনার সংক্রমণ। তবে, এখন দেশে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। সংক্রমণ কমার পাশাপাশি বেড়েছে সুস্থতার হারও। তাও, তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আগে, দেশে করোনা গ্রাফে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়ছে সংক্রমণ, আবার কখনও তা কমছে। এরই মধ্যে আবার সামনেই করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তার আগে কিছুতেই যেন বাগে আসতে চাইছে না করোনার সংক্রমণ। কেরল, মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি যে উদ্বেগজনক তা স্বীকার করে নিয়েছে কেন্দ্রও। তবে, এত উদ্বেগের মাঝেও দেশের দৈনিক করোনা সংক্রমণে ভালরকম স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছিল রবিবার থেকেই। একটু একটু করে কমছে দৈনিক সংক্রমণ এবং অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা। রবিবার এক ধাক্কায় প্রায় সাত হাজার কমেছিল অ্যাকটিভ কেস। পাশাপাশি ফের অনেকটাই কমে করোনার দৈনিক সংক্রমণ। এরপর সোমবার ফের করোনা গ্রাফ কিছুটা নামে। সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা কমার পাশাপাশি কমে অ্যাকটিভ কেসও। আবার মঙ্গলবারও বেশ খানিকটা কমে দেশে করোনার দৈনিক সংক্রমণ। তবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ফের সামান্য বাড়ল দেশে করোনার দৈনিক সংক্রমণ। তবে, স্বস্তি দিচ্ছে অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যায়।

বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ হাজার ১৭৬ জন। গতকালের থেকে সংক্রমণ ফের সামান্য বেড়েছে। গতকাল দেশে করোনার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ৪০৪ জন। দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩৩ লক্ষ ১৬ হাজার ৭৫৫ জন। তবে, দেশের মোট আক্রান্তের এই সংখ্যার প্রায় বেশিরভাগই কেরলের। কেরলের এই করোনা গ্রাফ তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা জাগাচ্ছে। তবে, সংক্রমণের লাগাম পরানো না গেলেও, করোনার ছোবল থেকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হচ্ছে অনেককেই।

অন্যদিকে, দেশে একদিনে মারণ ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন ২৮৪ জন। এই সংখ্যাটা আগের দিনের থেকে খানিকটা কম। গতকাল দেশে করোনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩৩৯ জন। দেশে এখনও পর্যন্ত করোনার বলি ৪ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৯৭ জন।

তিনদিন পর দেশের দৈনিক সংক্রমণ সামান্য বাড়লেও, এদিন ফের অনেকটা কমেছে অ্যাকটিভ কেস। তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার মধ্যে অ্যাকটিভ কেসের এই পরিসংখ্যান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রককে ভালরকম স্বস্তি দিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় স্বস্তি মিলেছে করোনার অ্যাকটিভ কেসেও। গতকালের পর আজও নিম্নমুখী অ্যাকটিভ কেস। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, বর্তমানে দেশে এই মুহূর্তে দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৩ লক্ষ ৫১ হাজার ৮৭ জন। যা আগের দিনের তুলনায় অনেকটাই কম। গতকাল এই সংখ্যা ছিল ৩ লক্ষ ৬২ হাজার ২০৭ জন। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আশার আলো দেখাচ্ছেন করোনাজয়ীরাই। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার কবল থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৮ হাজার ০১২ জন। দৈনিক সুস্থতার সংখ্যা দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যার তুলনায় অনেকটাই বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত দেশে ৩ কোটি ২৫ লক্ষ ২২ হাজার ১৭১ জন করোনা থেকে মুক্ত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, করোনার তৃতীয় ঢেউ আটকাতে দেশজুড়ে জোরকদমে চলছে টিকাকরণ প্রক্রিয়া। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দাবি, ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং রাজ্যে প্রথম ডোজের টিকাকরণ ১০০ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়েছে। এই ছটি রাজ্য হল সিকিম, গোয়া, হিমাচলপ্রদেশ, দাদরা নগর হাভেলি, দমন ও দিউ এবং লাক্ষাদ্বীপ। ইতিমধ্যে দেশের ৭৫ কোটি ৮৯ লক্ষ ১২ হাজার ২৭৭ জনের টিকাকরণ হয়ে গিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টাতেই ৬১ লক্ষ ১৫ হাজার ৬৯০ জন মানুষ করোনার ভ্যাকসিন পেয়েছেন। এদিকে, বুধবারই দেশজুড়ে স্পুটনিকের সিঙ্গল ডোজ ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজের ট্রায়ালে ছাড়পত্র দিয়েছে ডিজিসিআই।