চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! সংক্রমণ রুখতে রাজ্যের এই শহরে সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকবে বাজার

চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! সংক্রমণ রুখতে রাজ্যের এই শহরে সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকবে বাজার
চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! সংক্রমণ রুখতে রাজ্যের এই শহরে সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকবে বাজার / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দুর্গাপুজো শেষ হয়েছে। আর পুজো শেষ হতেই ফের রাজ্যে করোনা সংক্রমণ লাগামছাড়া। বেড়েই চলেছে সংক্রমণ। কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগণা জেলার সংক্রমণ রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। শুধু এই দুই জেলাই নয়, হাওড়া শহরেও ক্রমশ বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ নিল হাওড়া পুর নিগম।

আবার আগের মতোই সংক্রমিত এলাকাগুলিকে শনাক্ত করে, সেগুলিকে মাইক্রো কনটেইনমেন্ট জোন ঘোষণা করা কথা ভেবেছে হাওড়া পুরসভা। এর পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন বাজার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিয়েছে হাওড়া পুর নিগম। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে একথা জানিয়েছেন হাওড়া পুর নিগমের প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান সুজয় চক্রবর্তী।

হাওড়া পুর নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজার অঞ্চলগুলি থেকে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তাই আগের নিয়ম মেনেই মঙ্গলা হাট-সহ হাওড়া পুর এলাকার বাজারগুলি সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকবে। যেমন- প্রতি সোমবার শিবপুর, নিশ্চিন্দা এবং সাঁকরাইল থানার বাজার বন্ধ থাকবে। প্রতি মঙ্গলবার বন্ধ থাকবে বেলুড় ও সাঁতরাগাছি থানার বাজার। বুধবার গোলাবাড়ি, জগাছা এবং চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকার বাজার বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার হাওড়া, দাশনগর, ডোমজুড় ও বালি থানা এলাকার দোকান-বাজার বন্ধ থাকবে। শুক্রবার বন্ধ থাকবে মালিপাঁচঘড়া ও লিলুয়া থানার বাজারগুলি। আর শনিবার ব্যাঁটরা এবং বি-গার্ডেন থানা এলাকার বাজার বন্ধ থাকবে।

প্রতীকী ছবি

অন্যদিকে, সপ্তাহে একদিন বাজার বন্ধ রাখার পাশাপাশি করোনা বিধি মেনে চলার উপরেও জোর দিচ্ছেন হাওড়ার পুর প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘শীঘ্রই বাজার কমিটির সদস্যদের ডাকা হবে। সকল ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহারের জন্য সচেতন করার বিষয়ে তাঁদের বলা হবে। এর পাশপাশি পুর নিগম, স্বাস্থ্য দফতর, জেলা প্রশাসন ও সিটি পুলিশের যে টিম গঠন করা হয়েছে, সেই দলের সদস্যরা বিভিন্ন বাজার এলাকা ঘুরে দেখবেন, করোনাবিধি সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কিনা তা। এছাড়াও বাজারগুলিতে ঢোকার মুখে স্যানিটাইজারের গেট বসানোরও চেষ্টা চলছে। স্যানিটাইজেশন করার বড় গাড়িগুলি দিয়ে বিভিন্ন বাজার অঞ্চলে স্যানিটাইজেশন করানো হবে।’

তবে, জানা গিয়েছে, বাজার শুধুই নয়, সংক্রমিত এলাকাগুলি শনাক্ত করার উপরেও আরও বেশি করে জোর দিচ্ছে পুর প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘উৎসবের মরশুমে কোভিড আগের থেকে বেড়েছে। তাই সংক্রমিত অঞ্চলগুলিকে চিহ্নিত করে মাইক্রো কনটেইনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হবে। এছাড়া ওই এলাকাগুলিতে করোনা পরীক্ষার হার ও টিকাকরণ শিবির বাড়ানো হবে।’ এছাড়াও ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে সহযোগিতার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। হাওড়া মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাই চরণ মণ্ডল বলেন, ‘জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা কয়েকদিন আগে ৬০ থেকে নেমে ৫৫ হয়েছিল। আমরা সব সময় নজর রাখছি।’

এদিকে, করোনার পাশাপাশি উদ্বেগে রেখেছে ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়া। তার মোকাবিলাতেও প্রস্তুতি নিতে ইতিমধ্যেই শুরু করেছে হাওড়া পুর নিগম। পুর প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘বিভিন্ন ওয়ার্ডে ফিভার ক্লিনিক শুরু করেছি। সেখানে নিয়মিত ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুর অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করানো ও রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও পুর নিগমের তরফে প্রয়োজনীয় ওষুধের মেডিসিন কিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’