করোনার তৃতীয় ঢেউতে বেশি আক্রান্ত হবে শিশুরাই! কারণ ব্যাখ্যা করলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক দেবী শেঠি!

করোনার তৃতীয় ঢেউতে বেশি আক্রান্ত হবে শিশুরাই! কারণ ব্যাখ্যা করলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক দেবী শেঠি!
করোনার তৃতীয় ঢেউতে বেশি আক্রান্ত হবে শিশুরাই! কারণ ব্যাখ্যা করলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক দেবী শেঠি!

খুব শীঘ্রই দেশে আসতে চলেছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। অন্তত এমনটাই মনে করছেন দেশের নামী কিছু বিশেষজ্ঞ। আর করোনার তৃতীয় ঢেউ দেশে ছড়ালেই নাকি তাতে আক্রান্ত হওয়ার বেশি আশঙ্কা শিশুদেরই। সম্প্রতি দেশের অন্যতম বিশিষ্ট চিকিৎসক, হার্ট সার্জন দেবী শেঠি জানালেন এই কথা। তাঁর মতে, তৃতীয় ঢেউ বেশ কাবু করে ফেলতে পারে শিশুদের। বিশেষ করে যাদের বয়স ২ থেকে ১২ বছর।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকারের সময় করোনা নিয়ে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডাঃ শেঠি। সেখানেই তিনি জানান, “আমি কোনও এপিডেমোলজিস্ট বা ভাইরোলজিস্ট নই। তবে মহামারীর চরিত্র সম্পর্কে যতটুকু বুঝেছি তাতেই বলছি এর হাত থেকে এখনই আমাদের নিস্তার নেই। এই ভাইরাস এখনও আমাদের ভোগাবে। সুতরাং, আমাদের সেই মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে।” সেই সঙ্গেই তিনি জানান, ভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ যদি আসে আগামীতে, তবে সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি শিশুদের।

কিন্তু হঠাৎ কেন এই কথা বললেন চিকিৎসক? এর কারণ হিসেবে ডাঃ শেঠি ব্যাখ্যা করেছেন, করোনার তৃতীয় ঢেউ আসতে আসতে বয়স্কদের সবারই মোটামুটি টিকাকরণ হয়ে যাবে। বাকি থাকবে শুধু ছোটরা। তাদের তখনও টিকাকরণ হবে না। ফলে বয়স্কদের মধ্যে ইমিউনিটি গঠন হয়ে গেলেও ছোটদের মধ্যে তা গড়ে উঠবে না। ফলে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাই সবচেয়ে বেশি থাকছে।

এর পাশাপাশি কমবয়সী মা-বাবা, যাঁদের ছোট ছেলে-মেয়ে রয়েছে, তাঁদের টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ জোর দিয়েছেন চিকিৎসক দেবী শেঠি। তাঁর মতে, করোনায় আক্রান্ত হলে ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা যদি হাসপাতালে ভর্তি হয়, সে ক্ষেত্রে তাদের পাশে দেখ-ভালের জন্য মা-বাবার থাকা জরুরি। বিশেষ করে কোভিড আক্রান্ত শিশুদের বায়না থামানোর জন্য মা-বাবাকে পাশে থাকতেই হবে। তাই তাঁদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। টিকা নেওয়া থাকলে সেই সম্ভাবনা কিছুটা হলেও কমবে। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে মা-বাবার টিকাকরণ হওয়া অবশ্যই জরুরি, এমনটাই জানিয়েছেন দেবী শেঠি।

সামগ্রিকভাবে করোনা মোকাবিলায় টিকাকরণকেই বিশেষ জরুরি নজরে দেখছেন ডাঃ শেঠি। এই কারণে ভ্যাকসিনের উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছেন তিনি৷ যাতে দেশের প্রত্যেকটি মানুষ সময় মতো টিকা নিতে পারেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত ইনসেনটিভ ঘোষণা এবং কোভিড আইসিইউতে কাজ করলে বিশেষ সার্টিফিকেট দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।