‘হয় বেড দিন, নয়তো একেবারে মেরে ফেলুন’- কোভিড আক্রান্ত বাবার জন্য কাতর আর্তি ছেলের

'হয় বেড দিন, নয়তো একেবারে মেরে ফেলুন'- কোভিড আক্রান্ত বাবার জন্য কাতর আর্তি ছেলের / Image Source: Twitter
'হয় বেড দিন, নয়তো একেবারে মেরে ফেলুন'- কোভিড আক্রান্ত বাবার জন্য কাতর আর্তি ছেলের / Image Source: Twitter

দেশে ইতিমধ্যেই হুহু করে ছড়াচ্ছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমন। গত দুদিনে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষের কাছাকাছি। যা দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ। দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় কোটির কাছাকাছি। মৃতের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ছুঁতে চলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মহারাষ্ট্রের। ইতিমধ্যেই সেখানে ১৫ দিনের জনতা কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য তেলেঙ্গানারও অবস্থা শোচনীয়।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে কেউ নতুন করে করোনা আক্রান্ত হলে বিপদে পড়ছেন তাঁর পরিবার। কারণ সরকারি হোক বেসরকারি কোনও হাসপাতালেই বেড পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিনা চিকিৎসায় অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে আক্রান্ত ব্যক্তির। ঠিক এমনই এক করুন অবস্থার সম্মুখীন হলেন মহারাষ্ট্রের এক ব্যক্তি। যিনি তাঁর অসুস্থ পিতার জন্য ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্র এবং তেলেঙ্গানা এই দুটি রাজ্যে চিকিৎসার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। কিন্তু লাভ কিছুই হয়নি। তাই ব্যক্তিটির কাতর আর্জি-“হয় বাবাকে হাসপাতালে জায়গা দিন, নয়তো ইঞ্জেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন!”

সাগর কিশোর নাহারসেটিভার নামে ওই ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, রাত দেড়টা নাগাদ সাগর তার অসুস্থ বাবাকে নিয়ে তেলঙ্গানার দিকে রওনা দেন। এরপর ভোর তিনটের দিকে তেলঙ্গানায় পৌঁছে দেখেন সেখানের হাসপাতালে কোনও বিছানা খালি নেই। যা দেখে সকালেই মহারাষ্ট্রে ফিরে আসেন তাঁরা। কিন্তু এ রাজ্যেও কোনও হাসপাতালে বিছানা খালি পাননি সাগর। বাধ্য হয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই অপেক্ষা করতে থাকেন তাঁরা। কিন্তু ধীরে ধীরে সময় যত পেরোতে থাকে অক্সিজেন কমতে থাকে। এই সময়েই সাগর কাতর আর্তি জানান, যে বাবার জন্য বিছানার ব্যবস্থা না হলে তাঁকে যেন ইঞ্জেকশন দিয়ে মেরে ফেলা হয়। কারণ এই শোচনীয় অবস্থায় তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে যাওয়া অসম্ভব!

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসার পর মহারাষ্ট্রের অবস্থা দিনের পর দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। লাফ দিয়ে বেড়েই চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই অক্সিজেন ও ওষুধের ঘাটতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে অক্সিজেনের সাহায্য প্রার্থনায় আর্জিও জানিয়েছেন তিনি।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.