হাসপাতাল শয্যা থেকে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা! যাবতীয় তথ্য দেবে এই বঙ্গ তনয়ার তৈরি ওয়েবসাইট

হাসপাতাল শয্যা থেকে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা! যাবতীয় তথ্য দেবে এই বঙ্গ তনয়ার তৈরি ওয়েবসাইট
হাসপাতাল শয্যা থেকে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা! যাবতীয় তথ্য দেবে এই বঙ্গ তনয়ার তৈরি ওয়েবসাইট

করোনা সংক্রামিত ব্যক্তি ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে অনন্য নজির গড়লো বালুরঘাটের এক কলেজ পড়ুয়া। অ্যাম্বুলেন্স থেকে শুরু করে অক্সিজেন সহ যাবতীয় গুরুত্বপূর্ন তথ্য এক জায়গায় দিতে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলেছেন চকভবনী এলাকার বাসিন্দা ঈপ্সিতা ভৌমিক।

প্রসঙ্গত, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ থাবা বসিয়েছে গোটা বিশ্বে। দিন দিন লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর গ্রাফও ক্রমশ উর্ধমুখী। করোনা চিকিৎসায় সাধারণ মানুষ দিকবিদিক জ্ঞানশুন্য হয়ে পড়েছেন। অ্যাম্বুলেন্স থেকে শুরু করে অক্সিজেন বা বাড়িতে খাবার ও ঔষধ পৌঁছে দেওয়া যোগাযোগ নম্বর পেতে মানুষ অসহায় বোধ করছেন। সংক্রামিতদের চিকিৎসা করাতে একরকম হিমশিম খাচ্ছেন রোগীর পরিজনরা। এই পরিস্থিতিতে এই রকম একটি ওয়েবসাইট তৈরি করলেন এই তরুণী।

গত ২ মে থেকে ঈপ্সিতা এই ওয়েবসাইট তৈরি করার কাজ শুরু করেন। দিন পাঁচেকের মধ্যেই ওয়েবসাইট তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়ে যায়। প্রত্যেকদিন যেখান থেকে যেমন তথ্য পাচ্ছেন সেই তথ্য ওয়েবসাইটে আপলোড করা হচ্ছে সময়ে সময়ে। ওয়েবসাইটে মূলত কোথায় কি পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে তার উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও তাদের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর এই ওয়েবসাইটে তুলে ধরেছেন ঈপ্সিতা। জেলা থেকে রাজ্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এধরনের প্রচেষ্টা এই প্রথম বলেই দাবি। ঈপ্সিতার তৈরি ওয়েবসাইটে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য জেলার বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। যেখানে সাধারন মানুষ যে কেউ চাইলেই এক ক্লিকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সহজেই পেতে পারেন। করোনা চিকিৎসায় মুশকিল আসান করতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন ওই কলেজ পড়ুয়া।

এই বিষয়ে ওয়েবসাইট নির্মাণকারী কলেজ পড়ুয়া ঈপ্সিতা ভৌমিক জানান, “প্রথমে ওয়েবসাইট নয়, একটি ডেটাবেজ তৈরি করেছিলাম। কিন্তু সেই ডেটাবেজ সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব ছিল না। সেই জায়গা থেকেই এই ওয়েবসাইট তৈরি করার কথা মাথায় আসে। করোনা সংক্রামিতদের প্রয়োজন পড়তে পারে এমন সব যোগাযোগ নম্বর এক ছাতার তলায় নিয়ে আসতেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। কেউ যদি কোনো তথ্য জানাতে চান, তার জন্য সেখানে সেই অপশন রয়েছে ও ফোন নম্বর দেওয়া আছে। আমাদের জেলার বিভিন্ন পুরসভা, প্রশাসনিক ভবন বা স্বাস্থ্য দপ্তর সমস্ত কিছুর যোগাযোগের নম্বর সেখানে দিয়েছি”।

ঈপ্সিতার বাবা প্রলয় ভৌমিক বলেন, “যেদিন মেয়ে আমাকে তার ইচ্ছার কথা জানায়। তাকে সর্বতভাবে সমর্থন ও সাহায্য করেছি। তাকে তার সাধ্যমত এগিয়ে যেতে বলেছি। তার এই প্রয়াস সফল হয়েছে। তার বানানো ওয়েবসাইট থেকে প্রচুর মানুষ সাহায্য পাচ্ছেন। এক ছাতার তলায় জেলার সমস্ত দরকারি নম্বর পেয়ে যাওয়ার ফলে অনেক মুশকিল আসান হচ্ছে”।