করোনা আক্রান্তের ক্ষেত্রে কী করা উচিত, কী নয়, নির্দেশিকা প্রকাশ রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দফতরের

করোনা আক্রান্তের ক্ষেত্রে কী করা উচিত, কী নয়, নির্দেশিকা প্রকাশ রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দফতরের
করোনা আক্রান্তের ক্ষেত্রে কী করা উচিত, কী নয়, নির্দেশিকা প্রকাশ রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দফতরের / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশব্যাপী ভয়াবহ আকার নিয়েছে মারণ করোনা। প্রতিদিন ঝড়ের গতিতে বাড়ছে সংক্রমণ। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এই পরিস্থিতিতে বেশ কিছু রাজ্যে হাসপাতালে বেডের সমস্যা দেখা দিয়েছে। বেড খালি না থাকার জন্য এক একটা বেডে দুই থেকে তিনজনকে রাখা হচ্ছে। সঙ্গে দেখা দিয়েছে অক্সিজেনের অভাবও।

এদিকে রাজ্যেও ভোটের আবহে ক্রমাগত বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। প্রতিদিন দৈনিক সংক্রমণে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ল্যাবরেটরি টেস্ট যেসব রোগীকে করোনা আক্রান্ত হিসেবে নিশ্চিত করবে, তাঁদের কাদের কোথায়, কীভাবে রেখে চিকিৎসা করানো হবে এ বিষয়ে রবিবার এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছেন রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দফতর।

যেসব রোগী অ্যাসিম্পটোমেটিক (উপসর্গহীন), যাঁদের কোনও কোমর্বিডিটি ফ্যাক্টর নেই, যাঁদের অল্প উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, যাঁদের জ্বর কম, কোনও শ্বাসকষ্ট নেই, রক্তচাপ ও অন্যান্য কিছু কিছু বিষয়ে কোনও সমস্যা না থাকলে, তাঁদের বাড়িতেই রাখতে হবে।

এবং এক্ষেত্রে হোম-আইসোলেশনে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর খেয়াল রাখতে হবে। রোগীর দেহের তাপমাত্রা, পালস, রক্তচাপ, অক্সিজেন লেভেল নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। ইসিজি, সিবিজি, সেরাম ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি পরীক্ষারও ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি অবশ্যই মাস্ক, স্যানিটাইজার, শারীরিক দূরত্ববিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। জ্বর এবং গায়ে ব্যথা হলে, প্যারাসিটামল খেতে হবে।

এছাড়াও আরও কিছু বিষয়ে নজর রাখতে হবে। করোনা আক্রান্ত রোগীর শ্বাসকষ্ট হলে, বারবার জ্বর এলে, বা জ্বর বেশি উঠলে, বুকে ব্যথা হলে, কাশি হলে, অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৫ শতাংশের নিচে নামলে এবং তাঁদের অন্য কোনও নতুন উপসর্গ দেখা দিলেই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে, তাঁদের কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তি করতে হবে।

অন্যদিকে যাঁদের ক্ষেত্রে উপসর্গ আছে, তার সঙ্গে কোমর্বিডিটি ফ্যাক্টর রয়েছে এবং তাঁদের বয়স যদি ৬০ এর বেশি হয়, copd-র সমস্যা থাকে, লিভারের সমস্যা থাকে, ওবেসিটি থাকে তাহলে অবশ্যই তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। এঁদের কোভিড ওয়ার্ডে রাখতে হবে, যদি অক্সিজেন দিতে হবে। তা না হলে, এইচডিইউ বা আইসিইউ-তে ভর্তি করতে হবে।

আবার উপসর্গ আছে, কিন্তু কোমর্বিডিটি ফ্যাক্টর নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে নজর রাখতে হবে জ্বর বেশি উঠছে কিনা, শ্বাসকষ্ট কতোটা হচ্ছে, রক্তচাপ কেমন, অক্সিজেন স্যাচুরেশন লেভেল কতটা। বুকে ব্যথা থাকলেও ভর্তি করতে হবে হাসপাতালে। রোগীদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়াজনিত সমস্যা আছে কিনা, সেতাও লক্ষ করতে হবে। মোদ্দা কথা, করোনা সংক্রমিত এবং অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, এমন রোগীদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.