রাজ্যের করোনা পরিস্থিতিতে, শেষ তিন দফার নির্বাচনী প্রচার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত বামেদের! রইল বিস্তারিত

রাজ্যের করোনা পরিস্থিতিতে, শেষ তিন দফার নির্বাচনী প্রচার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত বামেদের! রইল বিস্তারিত
রাজ্যের করোনা পরিস্থিতিতে, শেষ তিন দফার নির্বাচনী প্রচার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত বামেদের! রইল বিস্তারিত / নিজস্ব ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ক্রমশ রাজ্যে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এখনও বাংলায় পঞ্চম দফার ভোট বাদ দিলে, তিন দফার ভোট প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। কারণ, পঞ্চম দফার ভোট আগামী ১৭ এপ্রিল৷ এদিন বিকেলেই পঞ্চাম দফার প্রচারও শেষ হয়েছে৷ এদিকে রাজ্যে করোনার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হলেও, বিরাম নেই সভা-মিটিং-মিছিলের।

এই আবহে সঠিক এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল বামেরা। বাকি তিন দফার ভোটে বড় সভা-সমাবেশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘোষণা করেন। তিনি জানিয়েছে, ছোট ছোট সভা হবে, বিকল্প উপায়ে চলবে বামেদের নির্বাচনী প্রচার। বরং মানুষকে সচেতন করার উপরেই বেশি জোর দেওয়া হবে৷ জানা গিয়েছে যে, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে চিঠি দিয়েছিলেন প্রবীণ সিপিএম নেতা এবং রায়দিঘির প্রার্থী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়৷ তারপরই এদিন সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে বড় জমায়েত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷

উল্লেখ্য, এদিন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ এছাড়াও সংযুক্ত মোর্চার বাকি শরিক দলগুলিকেও বাকি তিন দফায় বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার জন্য সিপিএমের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে৷

সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘চারটি পর্যায়ে ভোট হয়েছে, পঞ্চম পর্যায়ের প্রচারও শেষলগ্নে৷ বাকি তিনটি দফায় বড় ভিড়, হইচই পাকানোয় না গিয়ে মানুষকে সচেতন করা, নির্বাচন কর্মীদের সচেতন করার উপরেই আমরা জোর দেব৷ পাশাপাশি যে কেন্দ্রগুলিতে ভোট হয়েছে বা হয়নি, সেখানে গত এক বছরের মতো এখনও বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে আক্রান্ত, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব আমরা৷ কারণ সরকার উদাসীন থাকলেও মানুষ উদাসীন থাকতে পারে না৷’

তিনি এদিন সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচনী প্রচার নিয়ে বলেন যে, ‘ বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চলবে। সৃজনশীল কাজকর্ম ও উদ্ভাবনী শক্তিকে ব্যবহার করে জনসংযোগ চলবে। পাড়ায়, উঠোনে ও বুথে ছোট ছোট সভা হবে। আমাদের সভায় শারীরিক দূরত্ব যাতে বজায় থাকে, তার ব্যবস্থা করা হবে। মাস্ক ও স্যানিটাইজার পর্যাপ্ত রাখা হবে।’

এছাড়াও এদিন সিপিএমের তরফে দাবি করা হয়েছে যে, বাকি দফার ভোটেই যাতে ৮০ উপরে প্রবীণ নাগরিকরা এবং শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটাররা বাড়িতে বসেই ভোট দিতে পারেন, তার যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে৷ এমন কোনও ভোটার যাতে বাদ না পড়েন, তার জন্য নির্ভুল এবং সঠিক তালিকা তৈরির দাবিও জানিয়েছেন মহম্মদ সেলিম৷ পাশাপাশি পরিবহণকর্মী-সহ চুক্তির ভিত্তিতে যাঁরা নির্বাচনের কাজে অংশ নেন, তাঁদের প্রত্যেকের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা রাখার দাবিও জানিয়েছেন সিপিএম নেতা৷

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতিতেও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে মানুষের ভিড় হচ্ছে। তাই হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। এই মামলায় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, ভিড় রুখতে জেলাশাসক এবং নির্বাচন কমিশনকেই দায়িত্ব নিতে হবে। দরকার পড়লে ১৪৪ ধারা জারি করা যেতে পারে।

এর মধ্যে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে, বামেদের এই সিদ্ধান্ত সময়োচিত হওয়ার পাশাপাশি নিঃসন্দেহে ব্যাতিক্রমীও বটে।