জাওয়াদের দাপটে রাজ্যে গভীর নিম্নচাপ! মোকাবিলায় সেচ-বিদ্যুৎ সহ ৩ দপ্তরের ছুটি বাতিল নবান্নের

জাওয়াদের দাপটে রাজ্যে গভীর নিম্নচাপ! মোকাবিলায় সেচ-বিদ্যুৎ সহ ৩ দপ্তরের ছুটি বাতিল নবান্নের / প্রতীকী ছবি
জাওয়াদের দাপটে রাজ্যে গভীর নিম্নচাপ! মোকাবিলায় সেচ-বিদ্যুৎ সহ ৩ দপ্তরের ছুটি বাতিল নবান্নের / প্রতীকী ছবি

ইতিমধ্যেই পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ। প্রাথমিকভাবে পুরীতে ল্যান্ডফল করার সম্ভাবনা দেখা দিয়েও আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের মতে পুরী ছুঁয়ে বাংলার দিকেই এগিয়ে আসতে পারে জাওয়াদ৷ সেক্ষেত্রে সুন্দরবনের কাছে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা এই ঘূর্ণিঝড়ের। তবে রাজ্যে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। বাংলায় প্রবেশের আগেই শক্তি হারিয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে জাওয়াদ।

আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করতে না পেরে ক্রমশ শক্তি হারাচ্ছে জাওয়াদ। উত্তর শুষ্ক ও ঠাণ্ডা হওয়ার তার ‘সিস্টেম’ ভেঙে গিয়েছে। সেকারণে ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগের দিকে যত এগোবে, ততই দুর্বল হতে থাকবে। ধীরে ধীরে তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। আগামিকাল দুপুরেই পুরীতে পৌঁছানোর কথা জাওয়াদের। এরপর এই রাজ্যে ঢুকে অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে ঘূর্ণিঝড়টি।

রাজ্যের ঠিক কোথায় জাওয়াদ আছড়ে পড়তে পারে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে। সম্ভাব্য ল্যান্ডফল হতে পারে সোমবার। ল্যান্ডফলের সম্ভাব্য পেনিট্রেশন পয়েন্ট কাকদ্বীপ। এরপর সুন্দরবনের উপর দিকে বাংলাদেশের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা নিম্নচাপের। তবে যেহেতু রাজ্যে গভীর নিম্নচাপের প্রভাব দেখা দেবে তাই জাওয়াদের দাপটে রাজ্য জুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। ইতিমধ্যেই এর প্রভাবে শনিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত উপকূলবর্তী এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। পাশাপাশি কলকাতা সহ দুই ২৪ পরগনায় হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা। সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইবে।

রাজ্য জুড়ে তুমুল বৃষ্টির প্রভাবে ধান, আলু, সরষে সহ সবজি চাষে ক্ষতির আশঙ্কা থাকছে। তাই আগাম ফসল কাটার নেওয়ার নির্দেশিকা বহাল রেখেছে আবহাওয়া দপ্তর। এদিকে, দুর্যোগের আগাম মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে নবান্ন। মঙ্গলবার পর্যন্ত সেচ, বিদ্যুৎ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীদের ছুটি বাতিল করলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব। মুখ্যসচিবের পাশাপাশি গোটা পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর থাকছে মুখ্যমন্ত্রীরও।

এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বিপর্যয় মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে নবান্ন-

১. মঙ্গলবার পর্যন্ত সেচ, বিদ্যুৎ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীদের ছুটি বাতিল
২. পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, এই দুই জেলায় বিশেষ নজর নবান্নের। এই দুই জেলার মানুষজনকেই নিরাপদ স্থানে সরানোর নির্দেশ।
৩. দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এখনও পর্যন্ত ১৪ হাজার ৩৭৫ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর থেকে প্রতি ঘণ্টায় রিপোর্ট নবান্নে পাঠাচ্ছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।
৪. রাজ্যে ৪২টি রিলিফ ক্যাম্প খোলা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে ১১৫ সাইক্লোন সেন্টারও।
৫. কলকাতায় যেসব জায়গায় জল জমে, পুরসভাকে সেইসব জায়গা থেকে দ্রুত জল বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৬. শহরে মোতায়েন NDRF-র দুটি টিম।
৭. মৎসজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি। পর্যটকদের আপাতত হোটেল থেকে না বেরোনোর অনুরোধ করা হয়েছে।