বাড়ছে আরও শক্তি! গতিপথ বদল করে রাজ্যের কোথায় আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ?

বাড়ছে আরও শক্তি! গতিপথ বদল করে রাজ্যের কোথায় আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ? / প্রতীকী ছবি
বাড়ছে আরও শক্তি! গতিপথ বদল করে রাজ্যের কোথায় আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ? / প্রতীকী ছবি

ইতিমধ্যেই পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ। আর মাঝপথেই বদলে গেল তার গতিপথ। প্রাথমিকভাবে পুরীতে ল্যান্ডফল করার সম্ভাবনা দেখা দিয়েও আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের মতে পুরী ছুঁয়ে বাংলার দিলেই এগিয়ে আসতে পারে জাওয়াদ৷ সেক্ষেত্রে সুন্দরবনের কাছে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা এই ঘূর্ণিঝড়ের।

হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, আজ সকালের মধ্যেই উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের কাছাকাছি এগিয়ে আসতে পারে জাওয়াদ। এরপর উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে কাল দুপুর নাগাদ পুরী উপকূলের কাছাকাছি পোঁছানোর সম্ভাবনা ঘূর্ণিঝড়ের। এরপর তা গতিপথ বদল করে রাজ্যের দিকে ঢুকতে পারে। তবে রাজ্যের ঠিক কোথায় জাওয়াদ আছড়ে পড়তে পারে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে।

আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা বিশেষ নেই। পুরীর কাছাকাছি এসেই শক্তি হারাতে পারে তা। ফলে বাংলায় প্রবেশের আগেই শক্তি হারিয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। সুন্দরবনের উপর দিকে বাংলাদেশের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা সেই নিম্নচাপের। সম্ভাব্য ল্যান্ডফল হতে পারে সোমবার। ল্যান্ডফলের সম্ভাব্য পেনিট্রেশন পয়েন্ট কাকদ্বীপ।

আবহাওয়াবিদ সুজীব করের কথায়, সমুদ্রে আরও বেশ কিছুক্ষণ স্থায়ী হবে জাওয়াদ। সোমবার সম্ভাব্য ল্যান্ডফলের পর এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যেতে পারে কাকদ্বীপ, নামখানা, সাগর দ্বীপ ও বকখালি সংলগ্ন এলাকায়৷ ল্যান্ডফলের সম্ভাব্য পরোক্ষ প্রভাব দেখা যেতে পারে সজনেখালি, ঝড়খালি, গোসাবা, পাথরপ্রতিমা সংলগ্ন অঞ্চলে৷ এদিকে, শনিবার সকাল থেকেই দিঘায় হালকা বৃষ্টি শুরু। সমুদ্রও কিছুটা উত্তাল। তবে জল এখনও গার্ডওয়াল পেরিয়ে যায়নি। সকাল থেকে মুখ ভার কলকাতারও। আজ দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ২৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। যা স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশি। দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি।

আবহাওয়া দপ্তরের তরফে ইতিমধ্যেই জাওয়াদ সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। ওড়িশায় ১৯টি জেলায় বন্ধ স্কুল। এনডিআরএফের ৪৬টি টিম মোতায়েন রাখার পাশাপাশি প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে সেনা নৌবাহিনীকেও। অন্যদিকে, শনিবার সকাল থেকেই বাংলা সংলগ্ন উপকূল এলাকাগুলিতে ৪৫-৬৫ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। সন্ধ্যার দিকে তা বেড়ে প্রতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার হতে পারে। উপকূলবর্তী অঞ্চলের জন্য ইতিমধ্যেই কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। পর্যটক ও মৎসজীবীদের সমুদ্রে নামায় জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।