অমানবিক! মৃত্যুর পর ১৮ ঘণ্টা বাড়ির উঠোনেই পড়ে থাকল করোনায় মৃত ব্যক্তির দেহ!

অমানবিক! মৃত্যুর পর ১৮ ঘণ্টা বাড়ির উঠোনেই পড়ে থাকল করোনায় মৃত ব্যক্তির দেহ!
অমানবিক! মৃত্যুর পর ১৮ ঘণ্টা বাড়ির উঠোনেই পড়ে থাকল করোনায় মৃত ব্যক্তির দেহ! / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশব্যাপী বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। ব্যাপকহারে এবং দ্রুত গতিতে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এই মারণ ভাইরাসে। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। পরিস্থিতি আগেরবারের তুলনায় অনেকটাই খারাপ।

ভোটের মরশুমে বাংলাতেও ছড়াচ্ছে করোনার সংক্রমণ দ্রুত গতিতে। গতকালই রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণ সাড়ে ৯ হাজার ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে। মানুষের মধ্যে ক্রমশ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এই কঠিন সময়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবথেকে বড় অস্ত্র করোনা ভ্যাকসিন। সেই কারণেই গণটিকাকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। ১ মে থেকে ১৮ ঊর্ধ্বে প্রত্যেককে করোনার টিকা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে কেন্দ্র।

তবে, ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্যও হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে মানুষের মধ্যে। অন্যদিকে বেড এবং অক্সিজেনের আকাল দেখা দিয়েছে। ফের ফিরে আসছে ২০২০ করোনা স্মৃতি। বাড়িতে করোনায় মৃত রোগীর দেহ পড়ে থাকার ঘটনাও ঘটছে।

এবার এই অমানবিক ঘটনা ঘটেছে সিঙ্গুরে। হুগলির সিঙ্গুরে বাকিঁপুর গ্ৰামে ভোলনাথ পাল নামে, বছর ৬৬-র এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হন গত ১৭ এপ্রিল। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায়, বাড়িতে রেখেই তাঁর করোনা চিকিৎসা চলছিল বলে দাবি করেছেন তাঁর ছেলে বাবিন পাল। তবে অবস্থার অবনতি হলে, হাসপাতালেও খবর দেওয়া হয়। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স আসার আগেই তিনি মারা যান বলে জানিয়েছে ভোলানাথবাবুর পরিবার। ভোলানাথবাবুর বাড়িতে তাঁর স্ত্রী এবং ছেলে রয়েছেন৷ অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত দশটায় রোগীর মৃত্যু হলেও, প্রায় আঠারো ঘণ্টার পর এদিন বিকেলে পৌঁছন জেলা প্রশাসনের কর্মীরা৷

জানা যাচ্ছে যে, মঙ্গলবার ভোলানাথবাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তাঁর ছেলে অভিযোগ করেছেন যে, বহুবার যোগাযোগ করা হলেও আসেনি অ্যাম্বুলেন্স। এরপর রাত দশটা নাগাদ অ্যাম্বুল্যান্স এসে পৌঁছলেও, ততক্ষণে ভোলানাথবাবুর মৃত্যু হয়৷ তাই অ্যাম্বুল্যান্স ফিরে যায়৷ তারপর থেকে বাড়ির উঠোনেই পড়ে থাকে বৃদ্ধের দেহ৷ মঙ্গলবার রাতে ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ার পরে স্বাস্থ্য দফতরে খবর দেওয়া হয়। অভিযোগ, বারবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও, মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য কেউ আসেনি৷

এভাবেই কেটে যায় ১৮ ঘণ্টা, সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে যায়। এদিকে ১৮ ঘণ্টা উন্মুক্তভাবে করোনা রোগীর দেহ বাইরে পড়ে থাকায়, আতঙ্ক ছড়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে। দেহ নিয়ে যেতে এত দেরি কেন? এই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন এলাকাবাসী। এর উত্তরে ১৮ ঘন্টা কেটে যাওয়ার পর, মৃতদেহ নিতে আসা স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীর সাফাই, গাড়ি ও কর্মীর অভাবেই এই সমস্যা।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.