পাকিস্তান আক্রমণ করলে, কেন্দ্র কি বলবে আলাদাভাবে অস্ত্র কিনুন? টিকানীতি নিয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষ কেজরিওয়ালের

পাকিস্তান আক্রমণ করলে, কেন্দ্র কি বলবে আলাদাভাবে অস্ত্র কিনুন? টিকানীতি নিয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষ কেজরিওয়ালের
পাকিস্তান আক্রমণ করলে, কেন্দ্র কি বলবে আলাদাভাবে অস্ত্র কিনুন? টিকানীতি নিয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষ কেজরিওয়ালের

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ এবার কেন্দ্রের টিকাকরণ নীতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দেশে চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের টিকাকরণ শুরু হলেও, তাতে গতি খুবই কম। পর্যাপ্ত টিকার সরবরাহ না থাকার কারণে এখনও বহু রাজ্যে শুরু করা সম্ভব হয়নি ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে টিকাকরণ। এর সঙ্গে আবার কেন্দ্র করোনার টিকা কেনার দায় রাজ্যগুলির উপর ছেড়ে দিয়েছে। এর জেরে সমস্যা আরও বেড়েছে। এই নিয়েই রীতিমতো বিরক্ত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, এই মুহূর্তে দেশের করোনা পরিস্থিতি যে জায়গায় রয়েছে, তাতে টিকা কিনতে পরস্পরের সঙ্গে টেক্কা দিতে রাজ্যগুলি অক্ষম। তিনি কেন্দ্রের টিকাকরণ নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে, কটাক্ষ করে বলেছেন, পাকিস্তান ভারত আক্রমণ করলে রাজ্যগুলি কি আলাদা আলাদাভাবে যুদ্ধ করবে? তিনি কটাক্ষের সুরে এও বলেছেন, এমন দিন হয়ত একদিন আসবে, যখন পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে রাজ্যগুলিকে আলাদাভাবে অস্ত্রশস্ত্র এবং যুদ্ধের সরঞ্জাম কিনতে বলবে কেন্দ্র সরকার।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী মোদী সরকারকে কেন্দ্রীয়ভাবে টিকা কিনতে অনুরোধ জানিয়েছেন, করোনা অতিমারির মোকাবিলায়। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, কেন্দ্র সরকার রাজ্যগুলিকে টিকা কিনতে বলছে। এদিকে রাজ্যগুলি সব পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছে। কিন্তু কোনও রাজ্য অতিরিক্ত ডোজ কিনতে পারেনি। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই কাজ ছিল কেন্দ্রেরই, যা রাজ্যের উপর এখন চাপিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, টিকার ঘাটতি মেটানোর উদ্দেশে দিল্লি, পাঞ্জাব গ্লোবাল টেন্ডার ডাকলেও কোনও ইতিবাচক সাড়া পায়নি বিদেশি টিকা উৎপাদক সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে। ফাইজার, মর্ডানার মতো সংস্থাগুলি জানিয়েছে, রাজ্যগুলিকে আলাদা আলাদা করে তারা টিকা বিক্রি করবে না। তারা এও জানিয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকারকেই টিকা বিক্রি করতে পারে তারা, সংস্থার নিয়ম এবং নীতি অনুযায়ী।  আর এর জন্যই বিহার এবং মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গ্লোবাল টেন্ডার না ডেকে টিকা কেনার। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, রাজ্যগুলি তাদের ক্ষমতা অনুযায়ী, চেষ্টা করছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশব্যাপী মারাত্মভাবে বেড়েছে করোনার সংক্রমণ। আর এর জন্য কেন্দ্রের টিকাকরণ নীতিকেই দায়ী করেছে দিল্লির আপ সরকার। দিল্লির আপ সরকারের মতে, টিকা মজুত রাখলে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে এতো বেশি সংখ্যক মানুষ মারা যেত না। এরপরই অরবিন্দ বলেন, ‘‌টিকা জোগাড় করতে হবে কেন্দ্রকেই। প্রধানমন্ত্রী টিকার ব্যবস্থা করলেই, সমস্ত রাজ্য নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারবে।’‌

এর পাশাপাশি টিকা নিয়ে কেন্দ্রের দূরদর্শিতার অভাবকেও দায়ী করেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর মতে, অনেক দেশের মতো ভারত ৬ মাস দেরি করে টিকাকরণ শুরু করেছে। অথচ প্রথম টিকা ভারতীয়রাই তৈরি করেছে। শুধু তাই নয়, সেটা ভারতেই হয়েছে। কেন্দ্রের উচিত ছিল, তখন থেকেই টিকার উৎপাদন শুরু করা এবং তা মজুত করে রাখা। সেটা করা হলে, অনেক সহজ হত করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মোকাবিলা করা এবং অনেক মৃত্যুও ঠেকানো সম্ভব হত।