চোখের সম্মুখে একের পর একের মৃত্যু! অবসাদে আত্মঘাতী দিল্লির তরুণ ও প্রতিভাবান চিকিৎসক!

চোখের সম্মুখে একের পর একের মৃত্যু! অবসাদে আত্মঘাতী দিল্লির তরুণ ও প্রতিভাবান চিকিৎসক!
চোখের সম্মুখে একের পর একের মৃত্যু! অবসাদে আত্মঘাতী দিল্লির তরুণ ও প্রতিভাবান চিকিৎসক!

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশজুড়ে করোনার তাণ্ডবলীলা অব্যাহত। সংক্রমণ বেড়েই চলেছে, বেড়েই চলেছে মৃত্যুর সংখ্যা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় বিপর্যস্ত গোটা দেশ। প্রতিদিন সংক্রমণের সংখ্যার পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাতেও হচ্ছে রেকর্ড।

চারিদিকে শুধুই হাহাকার, কোথাও প্রিয়জনকে বাঁচাতে মানুষের কাতর আর্তি, কোথাও প্রিয়জনকে হারিয়ে হাহাকার, অক্সিজেনের জন্য, হাসপাতালে বেড পাওয়ার জন্য হাহাকার। মোটের উপর দেশের চারিদিকে এখন শুধুই মানুষ কাঁদছে, হাহাকার করছে, বিলাপ করছে। করোনার সঙ্গে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত। করোনা কোনও বাছাই করছে না তার শিকারের ক্ষেত্রে। ছোট-বড়, ধনী-গরীব, ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই করোনার শিকার হচ্ছেন। অবস্থা এমন যে, শ্মশানে জমছে মৃতদেহের স্তূপ, সৎকার করার জায়গা নেই। কবরস্থানেও জায়গা জুটছে না মৃতদেহ সমাধিস্থ করার। এতোটাই খারাপ পরিস্থিতি।

অন্যদিকে, যারা করোনার বিরুদ্ধে সামনের সারিতে থেকে লড়াই করে যাচ্ছেন গত একবছর ধরে, দিনরাত এক করে, বাড়ি থেকে, প্রিয়জনের থেকে দূরে থেকে সেই চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স-তাঁরাও রেহাই পাচ্ছেন না করোনার থেকে। তার থেকেও ভয়ঙ্কর, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যে মৃত্যুমিছিল, তাও বিরূপ প্রভাব ফেলেছে এই করোনা যোদ্ধাদের উপর। যা এক বছর আগে আমেরিকায় হয়েছিল, এবার তেমনই এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হল ভারত। অবসাদে আত্মঘাতী হলেন এক চিকিৎসক।

উল্লেখ্য, সবথেকে খারাপ অবস্থা এই মুহূর্তে মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি দিল্লির। মানুষের এই কাতর আর্তি, হাহাকার এবং মৃত্যু মিছিল দেখতে দেখতে, শেষে অবসাদগ্রস্ত হয়ে নিজেই মৃত্যুবরণ করে নিলেন দিল্লির এক চিকিৎসক। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় বড় ভূমিকা পালন করে, অনেক মানুষকে সুস্থ করেও নিজে হার মানলেন অবশেষে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে, ক্রমাগত চোখের সামনে মৃত্যু মিছিল দেখে। অবসাদে আত্মঘাতী হলেন এক প্রতিভাবান, তরুণ চিকিৎসক। ৩৬ বছরের বিবেক রাই নামের ওই তরুণ। জানা গিয়েছে, গত এক মাস ধরে আইসিইউ-তে করোনা রোগীদের সেবার কাছে নিযুক্ত ছিলেন তিনি।

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির মালভিয়া নগরের তাঁর ফ্ল্যাটে। সেখান থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। আদতে উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরের বাসিন্দা ওই চিকিৎসক হাসপাতালের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ছিলেন। ঘর থেকে দু’টি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করেছে পুলিশ। নোটে কাউকে দোষারোপ করেননি বিবেক। তাঁর এক সহকর্মী চিকিৎসক বলেন, ‘‌গত এক মাস আগেই তিনি ওই বিভাগে যোগ দেন। সেখানে দিনে ৭-৮জন করে করোনা রোগীর মৃত্যু হচ্ছিল। বহু চেষ্টা করেও রোগীদের বাঁচাতে পারছিলেন না বিবেক। এতেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।’ গত নভেম্বরে ওই চিকিৎসকের বিয়ে হয়েছিল। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.