নির্বাচনী প্রচারে বাধ্যতামূলক করা হোক মাস্ক, শারীরিক দূরত্ব, একযোগে কেন্দ্র ও কমিশনকে নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের

নির্বাচনী প্রচারে বাধ্যতামূলক করা হোক মাস্ক, শারীরিক দূরত্ব, একযোগে কেন্দ্র ও কমিশনকে নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের
নির্বাচনী প্রচারে বাধ্যতামূলক করা হোক মাস্ক, শারীরিক দূরত্ব, একযোগে কেন্দ্র ও কমিশনকে নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশে করোনা পরিস্থিতি ফের ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিন ঝড়ের গতিতে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যার। দেশের মধ্যে কয়েকটি রাজ্যের করোনা পরস্থিতি বেশ জটিল। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর হারও। সুস্থতার হারও বেশ কম।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নাজেহাল দেশ। এদিকে বৃহস্পতিবার দেশের দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা পেরিয়ে গিয়েছে ১ লক্ষ ১৫ হাজারের গণ্ডি। অথচ গত বছর যে সময়ে দেশে করোনার সংক্রমণ একেবারে চরম শিখরে ছিল, তখনও সংখ্যাটা এত বেশি ছিল না। বৃহস্পতিবার সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৭৮৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যা আগের দিনের থেকে প্রায় ১০ হাজার বেশি।

এদিকে দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি রাজ্যে চলছে বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদিন সভা, মিটিং-মিছিল নিত্যদিন লেগেই রয়েছে। যাতে প্রচুর মানুষের জমায়েত হচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচারে বাধ্যতামূলক করা হল মাস্ক এবং শারীরিক দূরত্ব, এমনটাই নির্দেশ দেওয়া হল একযোগে কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনকে, দিল্লি হাইকোর্টের পক্ষ থেকে।

জানা গিয়েছে, দেশে ক্রমবর্ধমান করোনা সংক্রমণের কথা বিবেচনা করেই আদালতের এই নির্দেশ। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুসারে, ভোট প্রচারে মাস্ক এবং শারীরিকদূরত্ববিধি মানা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, তা মানা হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলিরও সেইদিকে কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। যথেচ্ছভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে করোনাবিধি।

তাই দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের মোবাইল অ্যাপ, পুস্তিকা, ওয়েবসাইট-এর পাশাপাশি অন্যান্য সব মাধ্যমে ভোটে করোনাবিধি সংক্রান্ত যাবতীয় নিয়মবিধি প্রকাশ করতে হবে। এর পাশাপাশি সবরকমভাবে সচেতনতার প্রচার চালাতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সতর্ক হন। অন্যদিকে, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে এও বলা হয়েছে যে, এবার থেকে ডিজিটাল, প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক সমস্তরকম সংবাদমাধ্যমেই বিজ্ঞাপন দিয়ে মাস্ক এবং শারীরিক দূরত্ব নিয়ে প্রচার করতে হবে।

দিল্লির উচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে যে, এবার থেকে নির্বাচনী প্রচারে যাতে সবাই মাস্ক ব্যবহার করে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে কেন্দ্র এবং কমিশনকেই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের হয় মামলা। এই নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের প্রাক্তন ডিজি বিক্রম সিং৷ সেন্টার ফর অ্যাকাউন্টিবিলিটি অ্যান্ড সিস্টেমেটিক চেঞ্জ-এর চেয়ারম্যান পদেও রয়েছেন তিনি৷ তাঁর করা মামলার শুনানি হয় দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি এন প্যাটেল এবং বিচারপতি জশমীত সিংয়ের বেঞ্চে৷ সেই শুনানিতেই কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে এই নোটিস দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট৷ নির্বাচনী প্রচারে নিয়ম কেন মানা হবে না? পাশাপাশি তিনি এও প্রশ্ন তোলেন যে, যখন সব মহল যখন মাস্ক পরার বিষয়ে একমত, তখন নির্বাচনী প্রচারে সেই নিয়ম কেন মানা হবে না?

মামলাকারীর তরফে মূল যে আবেদন করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে যে, করোনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ যাঁরা নির্বাচনী প্রচারে বারবার ভাঙছেন, তাঁদের প্রচার থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক৷ এই নিয়ে আগামী ৩০ এপ্রিল শুনানি হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে৷ এদিকে ততদিনে পশ্চিমবঙ্গের ভোটগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়ে যাবে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.