‘আগে প্রার্থী দিন’, বাবুলকে কটাক্ষ করতেই দিলীপকে ‘এন্টারটেইনমেন্ট প্যাকেজ’ বলে পাল্টা খোঁচা

‘আগে প্রার্থী দিন’, বাবুলকে কটাক্ষ করতেই দিলীপকে ‘এন্টারটেইনমেন্ট প্যাকেজ’ বলে পাল্টা খোঁচা
‘আগে প্রার্থী দিন’, বাবুলকে কটাক্ষ করতেই দিলীপকে ‘এন্টারটেইনমেন্ট প্যাকেজ’ বলে পাল্টা খোঁচা

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকে এখনও কোনও বড় পদ পাননি বাবুল সুপ্রিয়। আর তা নিয়েই সম্প্রতি বাবুলকে কটাক্ষ করেছে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি গুঞ্জন ওঠে যে, কলকাতা পুরসভার মেয়র প্রার্থী হিসেবে নাকি ভাবা হচ্ছে বাবুল সুপ্রিয়কে। রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে চর্চা শুরু হতেই দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করেছিলেন, এই সব রটনা নাকি ‘লোককে খাওয়ানোর জন্যই।’ এমনকি তৃণমূল বাবুলকে ঝুনঝুনি দেবে বলেও কটাক্ষ করেছিলেন দিলীপ। অবশ্য বাবুলও থেমে থাকেননি। তিনিও পাল্টা জবাব দিয়েছেন দিলীপ ঘোষকে। এরই মাঝে এবার ত্রিপুরায় তৃণমূলের ‘উত্থান’ নিয়েও শুরু হয়েছে বাবুল-দিলীপ বাকযুদ্ধ।

উল্লেখ্য, সামনেই ত্রিপুরায় পুরভোট। আর সেই ভোটেই নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। সেই লক্ষ্যে পুরভোটের শেষ লগ্নে ত্রিপুরার মানুষের মধ্যে তারকা-প্রবেশ করিয়ে মন জয় করার ম্রিয়া চেষ্টা করছে তৃণমূল। সেই কারণেই ত্রিপুরায় পাঠানো হয়েছে বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী, জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ, ইন্দ্রনীল সেনদের। আবার শুক্রবারই ত্রিপুরায় গিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। সেই নিয়েই প্রশ্নে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ভালো কথা। কিন্তু ত্রিপুরায় তৃণমূল প্রার্থী দিতে পেরেছে নাকি? কার হয়ে প্রচার করবেন এইসব তারকারা? বহু জায়গায় তো বিনা লড়াইয়ে বিজেপি জিতে যাচ্ছে। ওরা তো প্রার্থীই খুঁজে পাচ্ছে না। আগে প্রার্থী দিন, তারপর তো প্রচার করবেন। কার হয়ে কথা বলবেন ওঁরা? ’

দিলীপের কটাক্ষের অবশ্য জবাব দিতে সময় নেননি বাবুল। দিলীপ ঘোষকে এন্টারটেইনমেন্ট প্যাকেজ বলে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ। তাঁর কথায়, ‘দিলীপ ঘোষ কী বলছেন, তাতে কিছু যায় আসে না। ওঁর কথার কোনও দাম নেই। আর দিলীপ ঘোষের কথার জবাব দেওয়া মানে, দুজনের রাজনৈতিক স্তরটা একই জায়গায় নামিয়ে আনা। সেটা করতে পারব না। উনি প্রতিদিন সকালে একটা কথা বলে দেন, সারা দিন মানুষ সেই কথাতেই এন্টারটেইন হয়।’

দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর সময়কাল বিজেপিতে থাকলেও দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সম্পর্ক কখনই ভাল ছিল না বাবুলের। মন্ত্রিত্ব হারানোর পর যে বিষয়টি আরও বিপক্ষে যায় আসানসোলের সাংসদের। এমনকী বঙ্গ বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর ভূমিকায় খুব একটা সন্তুষ্ট ছিলেন না, তাও স্পষ্ট হয়ে যায়। যে কারণে মন্ত্রিত্ব হারা বাবুলকে সংগঠনের কোনও ভূমিকাতেও দেখা যায়নি। ফলে পদ্ম শিবিরে ক্রমশই কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন এই গায়ক তথা সাংসদ। এরপরই প্রথমে দল ছাড়েন তিনি, পরে তৃণমূলে যোগ দেন। আর তারপর থেকেই দিলীপ-বাবুল সুপ্রিয়র এই বাকযুদ্ধ আরও কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। কথায় একে অপরকে ক্রমাগত বিঁধে চলেছেন।