কাটমানি কম বেশি হলেই গুলি দিয়ে ফয়সালা হয়! ক্যানিংয়ে তৃণমূল নেতা খুনে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

কাটমানি কম বেশি হলেই গুলি দিয়ে ফয়সালা হয়! ক্যানিংয়ে তৃণমূল নেতা খুনে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ
কাটমানি কম বেশি হলেই গুলি দিয়ে ফয়সালা হয়! ক্যানিংয়ে তৃণমূল নেতা খুনে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

দুষ্কৃতীদের গুলিতে আহত হয় শনিবার রাতেই হাসপাতালে ভর্তি হন নিকারিঘাটা অঞ্চল যুব তৃণমূলের সভাপতি মহরম শেখ। এরপর গত রাত দুটো নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর। এই গোটা ঘটনায় এবার বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এই গুলি কাণ্ডে পাল্টা তৃণমুলকেই দুষলেন তিনি।

এদিন সকালে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ওখানে বিরোধী বলে কিছু আছে কি? আর তৃণমূলের নিজেদের মধ্যে গুলিগোলা চলাটা নতুন কিছু নয়। ওদের সব স্তরের নেতারাই ভাগ বাটোয়ারার ব্যাপারে, কাটমানির ব্যাপার কম বেশি হলেই গুলি দিয়ে ফয়সালা করেন। পুলিশও কিছু নয়, প্রশাসনও কিছু নয়। পার্টিরও কেউ কোনও কিছু মানে না। পশ্চিমবাংলায় এই হিংসার রাজনীতিই চলছে। অপরাধীরা তৃণমূলে ঢুকে পুরো সমাজের মধ্যে হিংসা ছড়িয়ে যাচ্ছে”।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও রকম উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে কারণে এদিন সকাল থেকেই সতর্ক পুলিশ প্রশাসন। এলাকায় যাতায়াত বেড়েছে উর্দিধারীদের। চলছে টহলও।শনিবার রাতভর তল্লাশি চালিয়ে তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় আটজনকে আটক করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ।

প্রসঙ্গত, শনিবার রাত আটটার কিছু পরে দলীয় অফিস থেকে কাজ সেরে বাইক করে বাড়ি ফিরছিলেন মহরম শেখ। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। দুটি গুলি লাগে তাঁর বুকে। মুহূর্তেই রক্তে ভেসে যায় ওই স্থান লুটিয়ে পড়েন তৃণমূলের ওই যুব সভাপতি। স্থানীয়রা তখন তাঁকে তড়িঘড়ি ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপরেই আঘাত গুরুতর বুঝতে পেরেই চিকিৎসকরা তাঁকে চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে স্থানান্তর করে দেন।

ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাস জানান, প্রথমে থেকেই মহরম শেখের শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক ছিল। বুকের ডান দিকে গুলি লাগা অংশ থেকে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। কোনও ভাবেই তা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এছাড়াও তাঁর জ্ঞান না থাকায় বেশ কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি শুরু করাই যায়নি। তবে চিকিৎসকরা সব রকম ভাবে চেষ্টা করেন। এরপরেই শনিবার রাত দুটো নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর।