পেট্রোপণ্যের দাম এই রাজ্যে এখনও বেশি কেন এবং কার স্বার্থে বেশি? প্রশ্ন দিলীপ ঘোষের

পেট্রোপণ্যের দাম এই রাজ্যে এখনও বেশি কেন এবং কার স্বার্থে বেশি? প্রশ্ন দিলীপ ঘোষের
পেট্রোপণ্যের দাম এই রাজ্যে এখনও বেশি কেন এবং কার স্বার্থে বেশি? প্রশ্ন দিলীপ ঘোষের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ মঙ্গলবার সকালে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণের সময়ে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা বিজেপির বর্তমান সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ রাজ্যের তৃণমূলশাসিত সরকারের রাজ্যে শিল্প নিয়ে সরকারের ভূমিকায় সরব হলেন। এদিন তিনি শিল্প সম্মেলনকে সরাসরি আক্রমণ করেন।

এদিন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি প্রশ্ন তোলেন যে, এই সম্মেলন করে কী লাভ হবে? গত দশ বছরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন যে, সামনের সারিতে সেই এক লোক এবং প্রতিবারই সেই এক বক্তা। একই বক্তব্য তুলে ধরা হয় সম্মেলনে। তিনি আরও বলেন যে, এখানে কেউ বিনিয়োগ করবে না এবং এখানকার শিল্পপতিরা অন্য রাজ্যে বিনিয়োগ করেন। তিনি বলেন, ‘তাঁরা অন্য রাজ্যে বিনিয়োগ করেন, কারণ তাঁরা জানেন এখানে সম্পত্তি ও অর্থের কোনও নিরাপত্তা নেই।’

এরপরই তিনি প্রশ্ন করেন যে, কেন পেট্রোপণ্যের দাম এই রাজ্যে এখনও বেশি এবং কার স্বার্থে বেশি? তিনি আরও জানিয়েছেন যে, তাঁরা মঙ্গলবার থেকেই জেলায় জেলায় মানুষকে এটা জানাতে এবং বোঝাতে শুরু করবেন।

উল্লেখ্য, গতকালই জ্বালানীর ভ্যাট কমানোর দাবিতে রাজ্য বিজেপির মিছিল ছিল। সেই মিছিলকে কেন্দ্র করে মুরলীধর সেন লেনে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। মিছিলের শুরুতেই পুলিশের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়। বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরের সামনে একের পর এক ব্যারিকেড করে সবদিক থেকে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে সরব হয় পদ্মশিবির। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্ব।

দেশব্যাপী ক্রমাগত বেড়েই চলেছিল জ্বালানীর মূল্য। এই পরিস্থিতিতে গত বুধবারই পেট্রল এবং ডিজেলের লিটার প্রতি যথাক্রমে ৫ এবং ১০ টাকা শুল্ক কমায় কেন্দ্রের মোদী সরকার। বৃহস্পতিবার থেকে তা কার্যকর হয়। পরে কেন্দ্রের পথে হেঁটে বেশ কিছু রাজ্যও শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বাংলার সরকার এখনও ভ্যাট কমায়নি। পেট্রোপণ্যে শুল্ক কমানো নিয়ে রাজ্য সরকারকে চাপে রাখতেই, গতকাল প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেছিল রাজ্য বিজেপি। সোমবার বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তর মুরলীধর সেন লেন থেকে রানি রাসমণি রোড পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করার কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য বিজেপি। যদিও করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে, মিছিলের অনুমতি দেয়নি কলকাতা পুলিশ। তবুও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব মিছিল করার সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। পরে এই মিছিলকে কেন্দ্র ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ প্রসঙ্গে তৃণমূলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে যেকোনো মূল্যে বিজেপিকে রুখতে হবে এটাই তৃণমূল সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। আর কোনও আজেন্ডা নেই। সেই জন্যই বিজেপি যাই করতে যায়, তাতেই বাধা দেওয়া হয়।’

অন্যদিকে এদিন তিনি আরও বলেন যে, সর্বাশক্তি দিয়েই আসন্ন পুরভোট লড়বে রাজ্য বিজেপি। পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছেন যে, যদিও কোনও নেতাকেই এই মুহূর্তে মেয়র প্রজেক্ট করা হচ্ছে না। আলোচনা করে তারপরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।