আন্দোলন করিয়ে লাভ তোলা হচ্ছে, মইদুলের মৃত্যু প্রসঙ্গে মন্তব্য দিলীপের, আইনি লড়াইয়ের পথে বাম যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলি

আন্দোলন করিয়ে লাভ তোলা হচ্ছে, মইদুলের মৃত্যু প্রসঙ্গে মন্তব্য দিলীপের, আইনি লড়াইয়ের পথে বাম যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলি
আন্দোলন করিয়ে লাভ তোলা হচ্ছে, মইদুলের মৃত্যু প্রসঙ্গে মন্তব্য দিলীপের, আইনি লড়াইয়ের পথে বাম যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলি

বংনিউজ২৪x৭ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলায় আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে, নবান্ন অভিযান এবং DYFI-এর যুব নেতা মইদুলের মৃত্যুকে হাতিয়ার করে একদিকে যখন বাম-কংগ্রেস জোট ময়দানে নামছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এক অন্য বিতর্ক উসকে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

মঙ্গলবার চা-চক্রে বেরিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কটাক্ষের সুরে বলেন যে, প্রথমে আন্দোলন করানো হচ্ছে, এরপর তার লাভ তোলার জন্য চাকরি দেওয়া হচ্ছে। DYFI-এর যুব নেতা মইদুলের মৃত্যু এবং তাঁর পরিবারের একজনকে রাজ্য সরকারের চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন যে, যেকোনো মৃত্যুই খুব দুর্ভাগ্যজনক। তবে, রাজনীতিতে আন্দোলন এবং লাঠি নতুন নয়। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন যে, বিজেপির ১৩৫ জন কর্মীকে খুন করা হয়েছে। অথচ তখন কেউ চাকরির কথা বলেনি। আর এখন, সিপিএম-কংগ্রেসকে দিয়ে আন্দোলন করানো হচ্ছে।

এদিন চা-চক্রে বেরিয়ে, বিজেপির রাজ্যসভাপতি বলেন যে, প্রথমে আন্দোলন করানো হচ্ছে, এরপর সেই আন্দোলন থেকে লাভ তোলার জন্য চাকরি দেওয়া হচ্ছে। এর পিছনে সূক্ষ্ম রাজনীতি আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর আরও বক্তব্য, ‘আমি জানি না, তৃণমূলের যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে চাকরি দেওয়া হয়েছে কিনা।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গতকালই মইদুলের পরিবারকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ব্যাপারে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, ‘হঠাৎ কেন মুখ্যমন্ত্রীর এতো দরদ উথলে উঠল, এতোদিন শয়ে শয়ে নেতা মারা গিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীকে কোনও দিন দুঃখপ্রকাশ করতে দেখিনি।?’ দিলীপ ঘোষের দাবি, লাশের রাজনীতি করছে রাজ্যের শাসকদল।

যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে সিপিএম এবং তৃণমূল। যুব সিপিএমের নেতা সায়নদীপ বলেছেন, দুটো দলের সংঘর্ষ আর প্রশাসনিক হাতে মৃত্যু কোনওভাবেই এক জিনিস নয়। দিলীপবাবুর তালিকা নিয়েও তাঁর কিছু বলার নেই বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, তৃণমূলের লোক নিয়ে যাঁদের টিম চলছে, তাঁদের মুখে কি এই কথা মানায়? উল্টে তিনি দিলীপবাবুর এই গড়াপেটার অভিযোগ নিয়ে বলে যে, তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধে সারদা, নারদা তদন্তের কী হল, তার জবাবও বিজেপিকে দিতে হবে বলে সায়নদীপ মন্তব্য করেন। অন্যদিকে তৃণমূল নেতা ও মন্ত্রী তাপস রায় এ প্রসঙ্গে বলেছেন যে, দিলীপবাবু যত এই ধরনের কথা বলবেন, ততোই তাঁর দলের রাজনৈতিক মনোভাব স্পষ্ট হবে।

এদিকে নবান্ন অভিযানে পুলিশের মারে আহত DYFI-এর যুব নেতা মইদুল ইসলাম মিদ্যার মৃত্যুর ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত করে, দোষীদের শাস্তি ও সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাম যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলি। আবার তাঁদের এই আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রতিবাদ জানাতে, থানা ঘেরাও এবং রেল অবরোধের কর্মসূচিও গ্রহণ করেছে তাঁরা। মইদুলের পরিবারের পাশে থাকার জন্য রাজ্যজুড়ে অর্থ সংগ্রহেরও ডাক দিয়েছে বাম যুব ও ছাত্রেরা।

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে মইদুলের মরদেহ নিয়ে বাঁকুড়ার কোতুলপুর গিয়েছিলেন বাম যুব সংগঠনের নেতা সায়নদীপ মিত্র, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। আবার তাঁদের পাশাপাশি মঙ্গলবার মইদুলের বাড়িতে যান মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, প্রতীক-উর রহমানেরা। কলকাতায় ফিরে তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করার কথা জানান। ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সায়নদীপ বলেন, কাজের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের হাতে এভাবে মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর শেষ দেখে ছাড়বেন তাঁরা, লড়াইও চলবে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.