বিমানবন্দরের মাঠ থেকে উদ্ধার দুই কলেজ পড়ুয়ার ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত দেহ! খুন না দুর্ঘটনা?

বিমানবন্দরের মাঠ থেকে উদ্ধার দুই কলেজ পড়ুয়ার ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত দেহ! খুন না দুর্ঘটনা?
বিমানবন্দরের মাঠ থেকে উদ্ধার দুই কলেজ পড়ুয়ার ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত দেহ! খুন না দুর্ঘটনা?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ মালদহ শহরের এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে উদ্ধার হল দুই কলেজ পড়ুয়ার ক্ষতবিক্ষত দেহ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। মঙ্গলবার সকালে মালদহ শহরের ঘোড়পীর এলাকার এয়ারপোর্টের পরিত্যক্ত জঙ্গলে ওই দুই কলেজ পড়ুয়ার দেহ প্রথমে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরই খবর দেন পুলিশে। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ওই দুই পড়ুয়ার দেহ ছাড়াও উদ্ধার হয়েছে একটি বাইক।

এদিকে, এই দুই কলেজ পড়ুয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁদের বাড়ির ছেলেমেয়েদের খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। তবে, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমান করা হচ্ছে যে, রাতের অন্ধকারে এয়ারপোর্টের নতুন রানওয়েতে বাইক রেসিং করতে গিয়েই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ওই দুই কলেজ পড়ুয়ার। মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদহে মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কলেজ পড়ুয়ার নাম রনি দাস, বয়স ২২। তাঁর বাড়ি এয়ারপোর্ট সংলগ্ন বাগবাড়ি এলাকায়। মৃত কলেজ ছাত্রীর নাম শাম্বিকা রায়, বয়স ১৮ বছর। তাঁর বাড়ি তেলিপুকুর এলাকায়। জানা গিয়েছে, রনি দাস বি-টেক পাঠরত ছিলেন এবং শাম্বিকা মালদহ ওমেন্স কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

এদিকে, মৃত ছাত্রের আত্মীয় জয়রাম মণ্ডল ও মৃত ছাত্রীর কাকা বাপ্পা রায় জানিয়েছেন, রাতে তাঁদের ছেলেমেয়েরা বাড়ি ফেরেনি। সন্ধেয় গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ার কথা বলেই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল তাঁরা। রাতে তাঁদের কোনও খোঁজ না পেয়ে, সকালে পুলিশের দ্বারস্থ হয় দুই পরিবার। এর মাঝেই প্রতিবেশীদের মারফত তাঁরা জানতে পারেন যে, এয়ারপোর্টের ওই পরিত্যক্ত জঙ্গলে দুজনের দেহ পড়ে রয়েছে। সঙ্গে একটি নতুন মোটরবাইকও ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যান দুই পরিবারের সদস্যরা। তবে দুই পরিবারের পক্ষ থেকেই দাবি করা হয়েছে যে, তাঁদের ছেলেমেয়েদের খুন করেছে দুষ্কৃতীরা।

এদিকে, তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। তবে, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের এও অনুমান যে, রনি দাসের বাইকেই ওই কলেজছাত্রী ছিলেন। রাতের অন্ধকারে সম্ভবত এয়ারপোর্টের রানওয়েতে বাইক রেসিং চলছিল। সেখানে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাঁদের বাইকটি। আর এর জেরেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহের কাছ থেকে মানিব্যাগ, মোবাইল, সোনার আংটি এবং অন্যান্য সামগ্রী পাওয়া গেছে। দুজনের কারোর মাথাতেই হেলমেট ছিল না। দুর্ঘটনার জেরে বাইকটি ভেঙেচুরে গিয়েছে। পাশাপাশি দুই কলেজ পড়ুয়ার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

মালদহের ডিএসপি প্রশান্ত দেবনাথ জানিয়েছেন, মৃত দুই কলেজ পড়ুয়ার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে ওই দুই কলেজ পড়ুয়ার। তবে, রাতের অন্ধকারে এয়ারপোর্টের ভিতরে কীভাবে তাঁরা ঢুকে পড়লেন তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।